কাজিপুর উপজেলা প্রতিনিধি: সিরাজগঞ্জের কাজিপুর উপজেলায় যমুনা নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগ উঠছিল। পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হওয়া, নদীভাঙন তীব্র হওয়া এবং জনদুর্ভোগ বাড়ার অভিযোগের প্রেক্ষিতে উপজেলা প্রশাসন নিয়মিত তদারকি জোরদার করে। এরই ধারাবাহিকতায় আজ শনিবার (১৫ নভেম্বর ২০২৫) সকাল ১০টায় মেঘাই ঘাট এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিশেষ অভিযান পরিচালিত হয়।
কাজিপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. মোস্তাফিজুর রহমান এর নেতৃত্বে পরিচালিত এই অভিযানে অংশ নেয়— বাংলাদেশ আর্মির কাজিপুর ক্যাম্প, কাজিপুর থানা পুলিশ, নৌ-পুলিশ সদর থানা, কাজিপুর আনসার গার্ড।
যৌথ বাহিনীর উপস্থিতিতে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান জানান প্রশাসনের কর্মকর্তারা। অভিযানের সময় বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০-এর ৪ ধারা লঙ্ঘনের দায়ে মৃত আব্দুস ছাত্তারের ছেলে মো. শামীম (২৭)-কে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়। অভিযানের ফলে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি হয় এবং অন্যান্য অবৈধ বালু উত্তোলনকারীরাও পালিয়ে যায় বলে স্থানীয়রা জানান।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন—
“যমুনা নদী আমাদের জীবন, পরিবেশ ও প্রকৃতির অংশ। অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করলে নদী ক্ষতিগ্রস্ত হয়, বাড়ে নদীভাঙন, ক্ষতিগ্রস্ত হয় চরের মানুষ। সেই কারণে আমরা এ ধরনের কার্যক্রম কোনভাবেই মেনে নেব না। নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং কেউ ছাড় পাবে না।”
তিনি আরও বলেন, স্থানীয় প্রশাসনের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বিত তৎপরতা বালু মাফিয়াদের দমনে ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে। জনগণকে সহযোগিতার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন—
“যেখানেই অবৈধ বালু উত্তোলনের তথ্য পাওয়া যাবে, সেখানেই আমরা দ্রুত ব্যবস্থা নেব।”
অভিযানের সময় সার্বিক পরিবেশ পর্যবেক্ষণ ও সহযোগিতায় উপস্থিত ছিলেন এসিল্যান্ড নাঈমা জাহান সুমাইয়া। অভিযান শেষে নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে নজরদারি আরও বৃদ্ধি করা হয়।

