ঢাকাবুধবার , ২২ অক্টোবর ২০২৫

উল্লাপাড়ায় প্রতারণার মাধ্যমে স্ট্যাম্পে স্বাক্ষরঃ দুই লাখ টাকার দাবিতে আদালতে মামলা


অক্টোবর ২২, ২০২৫ ৮:৩৯ অপরাহ্ণ
Link Copied!

স্টাফ রিপোর্টার:   সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় প্রতারণার মাধ্যমে ব্ল্যাংক স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করিয়ে দুই লাখ টাকার দাবিতে আদালতে হয়রানিমূলক মামলা করার অভিযোগ উঠেছে মো. শহিদুল ইসলাম (৫২) নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে।অভিযুক্ত শহিদুল ইসলাম সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার উধুনিয়া ইউনিয়নের অন্তর্গত গড়েশ্বর বেলাই গ্রামের মৃত. নুরালের তিন নম্বর ছেলে। সে তার বড় ভাই ছাইদুর রহমান ও তার বড় ছেলে হাফিজুর রহমানের নামে মামলা দায়ের করেন।বুধবার (২২ অক্টোবর ২০২৫) ভুক্তভোগী মো. হাফিজুর রহমান অভিযোগ করে বলেন, প্রায় দেড় বছর আগে তিনি চাচা শহিদুল ইসলামের কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা সুদে নেন। দুই মাসে দুই হাজার টাকা লভ্যাংশও পরিশোধ করেন। পরে আর্থিক টানাপোড়নে পড়ে ছয় মাসের লভ্যাংশ ও ১০ হাজার টাকা দিতে ব্যর্থ হন।

পরে একটি এনজিও’র মাধ্যমে ৪০ হাজার টাকার ঋণ নিয়ে আসল ২০ হাজার টাকা ফেরত দেওয়ার কথা হয়। কিন্তু এনজিও কর্তৃপক্ষ জানায়, ৩০ হাজার টাকার বেশি ঋণ দেওয়া সম্ভব নয়। তখন হাফিজুর চাচাকে অনুরোধ করেন আসল ১০ হাজার টাকা নিতে। কিন্তু শহিদুল এনজিও কর্মকর্তাকে জানায়, হাফিজুর টাকা পরিশোধ না করে ঢাকায় পালিয়ে যাবে—ফলে এনজিও কর্তৃপক্ষ তাকে ঋণ দেয়নি।হাফিজুর বলেন, “রাগের মাথায় আমি চাচাকে বলেছিলাম, আমি যেদিন লোন তুলতে পারব, সেদিনই আপনার টাকা দেব। লভ্যাংশ ও আসল ১০ হাজার টাকা দেওয়ার অবস্থায় ছিলাম না, তাই বলেছি।”ভুক্তভোগী আরও জানান, ঘটনার সাত-আট মাস পর চাচা শহিদুল ইসলাম তার চাচাতো ভাই শামীমের মাধ্যমে প্রস্তাব পাঠান যে, তার খালা শাশুড়ির কাছ থেকে এক লাখ টাকা এনে দেবেন। ওই টাকার মধ্যে ছোট ভাই ৫০ হাজার নেবে, শহিদুল ২০ হাজার রাখবেন এবং ৩০ হাজার হাফিজুরের থাকবে। তবে শর্ত ছিল—ব্ল্যাংক স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর দিতে হবে এবং বছরে হাফিজুর ও তার ভাইকে পাঁচ হাজার টাকা করে লভ্যাংশ দিতে হবে।

সরল বিশ্বাসে হাফিজুর তিনটি ব্ল্যাংক স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করেন। কিন্তু পরে টাকা না এনে শহিদুল সেই স্ট্যাম্পগুলো নিজের কাছে রেখে দেন।হাফিজুরের স্ত্রী স্ট্যাম্প ফেরত চাইলে শহিদুল ও তার স্ত্রী লতা খাতুন জানান, “স্ট্যাম্প কিনতে ৫০০ টাকা খরচ হয়েছে, টাকা না দিলে কাগজ ফেরত দেওয়া হবে না।” পরে ৫০০ টাকা দেওয়ার পরও তারা স্ট্যাম্প ফেরত দেয়নি।ঘটনার পর হাফিজুর স্থানীয় প্রধানদের বিষয়টি জানান, কিন্তু কোনো সমাধান হয়নি। পরে শহিদুল ইসলাম তার ছোট স্ত্রী লতা খাতুনের প্ররোচনায় ওই স্বাক্ষরিত দুইটি ও একটি নকল স্ট্যাম্প ব্যবহার করে দুই লাখ টাকার দাবি দেখিয়ে সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া আমলী আদালতে মামলা করেন।

এবং হাফিজুরের স্বাক্ষর করা একটি স্ট্যাম্প শহিদুল তার কাছে রেখে দেন।ভুক্তভোগী হাফিজুর রহমান বলেন, “আমার কাছে বা আমার পরিবারের কাছে তিনি কোনো টাকা দেননি। এ বিষয়ে আমার কাছে প্রমাণস্বরূপ রেকর্ড রয়েছে। গ্রামের প্রধানরাও বিষয়টি জানেন।”এ বিষয়ে পার্শ্ববর্তী গ্রামের চেয়ারম্যান মধ্যস্থতা করে ৩৫ হাজার টাকায় মীমাংসার প্রস্তাব দেন। কিন্তু শহিদুল জানায়, মামলার উকিল ও পুলিশে খরচ হয়েছে—৮০ হাজার টাকা দিলে মামলা তুলবে। ভুক্তভোগী পরিবার ১০ হাজার টাকার জন্য ৮০ হাজার টাকা দিতে না পারায় মীমাংসা হয়না।

এদিকে অভিযোগ উঠেছে, শহিদুল ইসলাম মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উল্লাপাড়া মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আবুল কালামকে ১০ হাজার টাকা ঘুষ দিয়ে মিথ্যা তদন্ত প্রতিবেদন করিয়েছেন।এ বিষয়ে শহিদুলের বাড়িতে গিয়ে ঘটনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, “এ বিষয়ে কোনো কথা বলব না, যা হওয়ার তা কোর্টেই হবে।”এই দিকে এসআই মো. আবুল কালাম টাকা নেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, “স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর আছে, টাকা তো নিয়েছে।” তখন প্রশ্ন করা হয়—“স্ট্যাম্পের স্বাক্ষর তো জালিয়াতির মাধ্যমেও নেওয়া যায়, আপনি গ্রামে গিয়ে তদন্ত না করে থানায় বসে রিপোর্ট দিলেন কীভাবে?”উত্তরে তিনি বলেন, “আমি বিষয়টি আগে জানলে দুই পক্ষকে ডেকে মীমাংসা করে দিতাম। এখন আমি বদলি হয়ে নাটোরে আছি, কিছু করার নেই।”

✅ আমাদের প্রকাশিত কোন সংবাদের বিরুদ্ধে আপনার অভিযোগ  বা পরামর্শ থাকলে ই-মেইল করুনঃ dailyvorerkhabor@gmail.com❌ বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।