রংপুর প্রতিনিধি: রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলায় উজান থেকে নেমে আসা ডলে হঠাৎ বন্যায় তিস্তাপাড়ের অন্তত ৪৫০০ পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। তিস্তার উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল এবং অব্যাহত বর্ষণের ফলে নদীর পানি বিপজ্জনক হারে বৃদ্ধি পায়। এর প্রভাবে কোলকোন্দ, আলমবিদিতর, নোহালী, গঙ্গাচড়া সদর, লক্ষীটারী গজঘণ্টা ও মর্নেয়া ইউনিয়নের একাধিক গ্রাম প্লাবিত হয়েছে।পানিবদ্ধ এলাকার মধ্যে বাগডোগরা, মিনারবাজার, আনন্দবাজার, বিনবিনা, চর মটুকপুর, চিলাখাল, বিনবিনা, বাগেরহাট, চর শংকরদহ, কাশিয়াবাড়ী, ইচলি ও চর ছালাপাক,নিলাপাড়া,চর ভাঙ্গাগড়াসহ শতাধিক বাড়ি, স্কুল ও রাস্তা তলিয়ে গেছে। এতে রাস্তা ঘাটের পাশাপাশি কৃষি জমি এবং ফসল পানিতে ডুবে গিয়ে ব্যাপক ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা ।
পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জানিয়েছে, রোববার (৫ অক্টোবর) বিকেল থেকেই তিস্তার পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেতে থাকে। রাত ১১টার দিকে নদীর পানি বিপৎসীমার ৩৫ সেন্টিমিটার ওপরে উঠে। সোমবার (৬ অক্টোবর) বিকেলে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত তিস্তা ব্যারেজের ডালিয়া পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ২০ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয় ।নদীর পানি কমতে শুরু করলে কিছু এলাকায় ভাঙ্গনের খবর পাওয়া যাচ্ছে ।চর শংকরদহের কৃষক আব্দুল হালিম বলেন, রাতারাতি পানি বেড়ে ঘরবাড়ি ডুবে গেছে। এখন পানি নামছে, কিন্তু ভাঙনের কারণে আমরা জানি না কাল সকালে বাড়ি থাকবে কি না।গৃহবধূ রহিমা বেগম জানান, আমরা তিনদিন ধরে স্কুলে আশ্রয় নিয়েছি। বাচ্চা ও গরু নিয়ে কষ্টকর পরিস্থিতিতে আছি। এখনও কোন ত্রাণ পাইনি কিংবা সরকারি সহায়তা পাই নাই।
কোলকোন্দের কৃষক সালাম উদ্দিন বলেন, আমনের ক্ষেত দেড় একর ছিল। সব পানিতে তলিয়ে গেছে। গরু খাওয়ানোর ঘাসও নেই।উপজেলা ত্রাণ ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সজিবুল করীম জানিয়েছেন, ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা প্রণয়ন করা হচ্ছে এবং তাদের সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সৈয়দ শাহিনুর ইসলাম জানিয়েছেন, প্রাথমিকভাবে প্রায় ২০ হেক্টর আমন ধান, ১ হেক্টর মাসকলাই, ২ হেক্টর বীজবাদাম এবং ০.৫ হেক্টর সবজি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদ হাসান মৃধা বলেন, বন্যা পরিস্থিতি মোকাবেলায় প্রশাসন সক্রিয়। আমরা সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি এবং দ্রুত ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা নিশ্চিত করার চেষ্টা করছি।আকস্মিক এই বন্যার ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে স্থানীয়রা দ্রুত ত্রাণ এবং নদীভাঙন রোধে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

