ঢাকাশনিবার , ১৮ এপ্রিল ২০২৬
আজকের সর্বশেষ খবর

রাস্তার পাশে ঝুপড়ি ঘরে মানবেতর জীবন কবির-রাশেদা দম্পতির


এপ্রিল ১৮, ২০২৬ ৮:৩১ অপরাহ্ণ
Link Copied!

নিজস্ব প্রতিনিধি:   রাস্তার ধারে নিচু এক খাদ। তার ভেতরে মরিচা ধরা টিন আর খুঁটি দিয়ে বানানো একটি ছোট্ট চালা। একপাশে পাটখড়ির বেড়া, আর বাকি তিনপাশে ছেঁড়া কাপড় ও পলিথিন টানানো। এমনই একটি জরাজীর্ণ ঘরে বসবাস করছেন মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলার চালা গ্রামের কবির উদ্দিন ও রাশেদা বেগম দম্পতি। দৃশ্যটি যেন পল্লীকবি জসীমউদ্দীনের ‘আসমানি’ কবিতার বাস্তব প্রতিচ্ছবি।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কবির উদ্দিন দিনমজুর হিসেবে কাজ করেন। আর কিছু মানুষের সহায়তায় চালা বাজারে একটি ভাড়া ঘরে তার স্ত্রী রাশেদা বেগম ছোট্ট একটি চায়ের দোকান চালান। স্বামী-স্ত্রীর সামান্য আয়ে কষ্টেসৃষ্টে সংসার চলে। বড় ছেলে ঢাকায় থাকলেও বাবা-মায়ের খোঁজখবর নেন না। সাত বছর বয়সী ছোট ছেলেকে নিয়ে এই ভাঙাচোরা ঘরেই তাদের বসবাস।

শনিবার (১৮ এপ্রিল) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, দীর্ঘদিন পলিথিন আর কাপড় দিয়েই ঘর চালিয়ে নিলেও দুই-তিন মাস আগে ধারদেনা করে কিছু পুরনো টিন জোগাড় করে কোনোরকমে একটি চালা বানানো হয়েছে। তবে নিচু খাদ হওয়ায় জায়গাটি ভরাট করে স্থায়ী ঘর তোলার সামর্থ্য তাদের নেই। তাই বাধ্য হয়েই ঝুপড়ি ঘরেই দিন কাটছে।

কবির উদ্দিন বলেন, ঋণ করে টিন দিয়ে ঘরের চাল তুলেছি, কিন্তু বেড়া দেওয়ার মতো সামর্থ্য হয়নি। জায়গাটাও ভরাট করা দরকার, সেটাও পারছি না। অভাবের কারণে অনেকের কাছে ধার করতে হচ্ছে। কেউ যদি একটি ঘর আর জীবিকার জন্য একটি রিকশার ব্যবস্থা করে দিত, তাহলে পরিবার নিয়ে অন্তত স্বাভাবিকভাবে বাঁচতে পারতাম।

রাশেদা বেগমের কণ্ঠেও একই আক্ষেপ। তিনি বলেন, ঝড়-বৃষ্টি এলে ঘরে থাকা যায় না। অনেক সময় রাতের বেলায় প্রতিবেশীর বাড়িতে আশ্রয় নিতে হয়। বৃষ্টিতে ঘরের ভেতরে পানি পড়ে, ছোট সন্তানকে নিয়ে ভিজেই থাকতে হয়। খুব কষ্টে দিন কাটছে। এখনো কোনো সরকারি সহায়তা পাইনি। কেউ যদি আমাদের দিকে একটু দৃষ্টি দিত, তাহলে হয়তো কিছুটা স্বস্তি মিলত।

প্রতিবেশী মো. সাব্বির হোসেন জানান, পরিবারটি অত্যন্ত অসহায়। থাকার মতো একটি ঘরও নেই তাদের। সামান্য যে জায়গা আছে সেটিও নিচু খাদ, ভরাট করার সামর্থ্য নেই। স্থানীয়দের সহযোগিতায় রাশেদার জন্য একটি চায়ের দোকান করা হয়েছে। সমাজের বিত্তবান মানুষ বা সরকার যদি এগিয়ে আসে, তাহলে পরিবারটি কিছুটা স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারবে।

এ বিষয়ে হরিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাহিদা আক্তার বলেন, ঝড়-বৃষ্টি বা অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য আমরা সহায়তা দিয়ে থাকি। তিনি যদি আমাদের কাছে আবেদন করেন, তাহলে বিষয়টি তদন্ত করে যথাসাধ্য সহযোগিতা করার চেষ্টা করব।

✅ আমাদের প্রকাশিত কোন সংবাদের বিরুদ্ধে আপনার অভিযোগ  বা পরামর্শ থাকলে ই-মেইল করুনঃ dailyvorerkhabor@gmail.com❌ বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।