ঢাকামঙ্গলবার , ৩ মার্চ ২০২৬

অটোপাসের আর কোনো সুযোগ দেওয়া হবে না: শিক্ষামন্ত্রী


মার্চ ৩, ২০২৬ ৭:০০ অপরাহ্ণ
Link Copied!

নিজস্ব প্রতিনিধি:   শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, একটি সত্যিকার মেধাভিত্তিক জাতি গঠনের লক্ষ্যে দেশের বিদ্যমান পরীক্ষা পদ্ধতিতে মৌলিক পরিবর্তন আনা জরুরি। তিনি স্পষ্টভাবে জানান, ভবিষ্যতে ‘অটোপাস’ ব্যবস্থার আর কোনো সুযোগ রাখা হবে না। মঙ্গলবার (৩ মার্চ) এসএসসি ও সমমান পরীক্ষাকে সামনে রেখে সব শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আয়োজিত এক গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত এই সভায় পরীক্ষার সার্বিক প্রস্তুতি, নিরাপত্তা ও মূল্যায়ন পদ্ধতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শিক্ষার্থীদের প্রকৃত মেধা ও যোগ্যতা যাচাইয়ের জন্য একটি স্বচ্ছ, নির্ভুল ও আধুনিক মূল্যায়ন পদ্ধতি চালু করা প্রয়োজন। তিনি উল্লেখ করেন, অতীতে বিশেষ পরিস্থিতিতে অটোপাসের মতো সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও তা দীর্ঘমেয়াদে শিক্ষার মানোন্নয়নে সহায়ক নয়। তাই ভবিষ্যতে এমন কোনো ব্যবস্থা রাখা হবে না যা শিক্ষার্থীদের প্রকৃত দক্ষতা যাচাইয়ে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে।

সভায় এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার সার্বিক প্রস্তুতি পর্যালোচনা করে মন্ত্রী ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলো পুনরায় তদন্ত করে হালনাগাদ তালিকা প্রস্তুতের নির্দেশ দেন। তিনি বলেন, যেসব কেন্দ্র অতীতে অনিয়ম, প্রশ্নফাঁস বা নকলের সঙ্গে জড়িত ছিল, সেগুলো বিশেষ নজরদারিতে রাখতে হবে। প্রয়োজনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তায় কঠোর মনিটরিং ব্যবস্থা গ্রহণেরও নির্দেশনা দেন তিনি।

ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহার করে নকল প্রতিরোধে নতুন আইন প্রণয়নের কথাও জানান শিক্ষামন্ত্রী। তিনি বলেন, প্রযুক্তির অপব্যবহার রোধে সময়োপযোগী আইন ও বিধিমালা প্রণয়ন করা হবে, যাতে পরীক্ষাকেন্দ্রে মোবাইল ফোন, স্মার্টওয়াচ বা অন্য কোনো ইলেকট্রনিক ডিভাইস ব্যবহার করে নকলের সুযোগ না থাকে। পরীক্ষাকেন্দ্রে প্রবেশের সময় পরীক্ষার্থীদের যথাযথভাবে বডি সার্চ নিশ্চিত করার নির্দেশ দেন তিনি এবং এ কাজে দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষক ও সংশ্লিষ্টদের আরও সক্রিয় ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।

মন্ত্রী আরও বলেন, পরীক্ষা চলাকালে কোনো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বা অনলাইন প্ল্যাটফর্মে প্রশ্ন বা প্রশ্নসংক্রান্ত কোনো কনটেন্ট আপলোড হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তিনি সতর্ক করে বলেন, পরীক্ষার পবিত্রতা রক্ষায় কোনো ধরনের আপস করা হবে না।

পরীক্ষাকেন্দ্রের টয়লেটে নকল পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রের কর্তৃপক্ষকে দায়ী করা হবে বলেও তিনি স্পষ্ট করেন। তার মতে, কেন্দ্র কর্তৃপক্ষের তদারকি ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত না হলে নকল পুরোপুরি নির্মূল করা সম্ভব নয়। নকল প্রতিরোধে দেশব্যাপী বিভিন্ন জেলায় মোটিভেশনাল মিটিং আয়োজনের কথাও জানান তিনি, যাতে শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি পায়।

এছাড়া ব্যবহারিক পরীক্ষায় গড় নম্বর দেওয়ার প্রচলিত প্রথা থেকে বেরিয়ে এসে প্রকৃত মূল্যায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন শিক্ষামন্ত্রী। তিনি বলেন, ব্যবহারিক পরীক্ষায় শিক্ষার্থীর বাস্তব দক্ষতা ও অংশগ্রহণের ভিত্তিতে নম্বর প্রদান করতে হবে। এতে শিক্ষার্থীরা শুধু তাত্ত্বিক নয়, বাস্তব জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জনে উৎসাহিত হবে।সভায় উপস্থিত কর্মকর্তারা পরীক্ষার স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও মানোন্নয়নে সমন্বিতভাবে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। শিক্ষামন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে একটি সুষ্ঠু, নকলমুক্ত ও মেধাভিত্তিক শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব।

✅ আমাদের প্রকাশিত কোন সংবাদের বিরুদ্ধে আপনার অভিযোগ  বা পরামর্শ থাকলে ই-মেইল করুনঃ dailyvorerkhabor@gmail.com❌ বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।