স্টাফ রিপোর্টার: দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনে রাজনৈতিক দলগুলোকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে—এমন আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, দেশের মানুষ আজ অনেক আশা ও প্রত্যাশা নিয়ে রাজনৈতিক নেতৃত্বের দিকে তাকিয়ে আছে। এই প্রত্যাশা পূরণে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। ‘আসুন, আমরা আল্লাহর নামে শপথ গ্রহণ করি—আমাদের আগামী দিনের সব কাজ হবে দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য,’ বলেন তিনি।শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। বক্তব্যের শুরুতেই তিনি ইফতারের আমন্ত্রণ জানানোর জন্য **জামায়াতে ইসলামী**কে ধন্যবাদ জানান। একই সঙ্গে নিজের সফরসঙ্গী ও বিএনপির নেতাদের পক্ষ থেকেও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
সদ্য সমাপ্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কিছুদিন আগে দেশে একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে দেশে গণতন্ত্রের যাত্রা নতুন করে শুরু হয়েছে।’ তিনি উল্লেখ করেন, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য বাংলাদেশের মানুষ গত এক যুগেরও বেশি সময় ধরে অকাতরে আত্মত্যাগ করেছে। এ সময় তিনি গুম, খুন, নির্যাতন ও দমন-পীড়নের শিকার হওয়া মানুষদের কথা স্মরণ করেন। তাদের এই আত্মত্যাগের ফলেই আজ দেশে ব্যক্তিস্বাধীনতা ও গণতান্ত্রিক অধিকার চর্চার সুযোগ ফিরে এসেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘এখন আমাদের দায়িত্ব এই অর্জনকে ধরে রাখা এবং এর সুফল সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া।’ তিনি আল্লাহর দরবারে দোয়া কামনা করে বলেন, আল্লাহ যেন সবাইকে সেই তৌফিক দান করেন, যার মাধ্যমে দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনে আন্তরিকভাবে কাজ করা যায়।
ইফতার মাহফিলের একটি উল্লেখযোগ্য দিক ছিল—প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান একই টেবিলে বসে ইফতার করেন। এই দৃশ্য রাজনৈতিক অঙ্গনে সৌহার্দ্য ও সংলাপের বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। তাদের সঙ্গে একই টেবিলে বিএনপি ও জামায়াতের শীর্ষ নেতারাও উপস্থিত ছিলেন।
ইফতার মাহফিলে আরও উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস ও মঈন খান। পাশাপাশি ছিলেন বাংলাদেশ খেলাফতে মজলিসের আমির মামুনুল হক, জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ও সংসদ সদস্য সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের, জাগপার মুখপাত্র রাশেদ প্রধান, এনসিপির সদস্য সচিব ও সংসদ সদস্য আখতার হোসেন, মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, এলডিপির সভাপতি অলি আহমদ, ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম সহ সংসদ সদস্য, বিশিষ্ট ব্যক্তি, সাংবাদিক ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
ইফতার মাহফিলটি শুধু ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ না থেকে রাজনৈতিক সৌহার্দ্য, পারস্পরিক শ্রদ্ধা এবং ভবিষ্যৎ সহযোগিতার সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিয়েছে বলে মনে করছেন উপস্থিত অতিথিরা।

