ঢাকাসোমবার , ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
আজকের সর্বশেষ খবর

নতুন সরকারের শপথ অনুষ্ঠানে থাকছেন দেশি-বিদেশি ১২০০ অতিথি


ফেব্রুয়ারি ১৬, ২০২৬ ১২:১৬ অপরাহ্ণ
Link Copied!

স্টাফ রিপোর্টার:   দীর্ঘ দুই যুগেরও বেশি সময় পর রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে ফিরতে যাচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। এই ঐতিহাসিক প্রত্যাবর্তনকে ঘিরে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আগ্রহ, কৌতূহল ও কূটনৈতিক তৎপরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিএনপির নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানকে সামনে রেখে যাবতীয় আনুষ্ঠানিক, নিরাপত্তা ও প্রটোকল সংক্রান্ত প্রস্তুতি ইতোমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো।আগামী মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেল চারটায় রাজধানীর জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজা’য় এই ঐতিহাসিক শপথ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে।

অনুষ্ঠানে মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ বাক্য পাঠ করাতে পারেন বলে জানা গেছে। রাজকীয় ও আনুষ্ঠানিক এই আয়োজন ঘিরে প্রায় এক হাজার ২০০ জন আমন্ত্রিত অতিথির উপস্থিতি প্রত্যাশা করা হচ্ছে, যাদের মধ্যে রয়েছেন বিভিন্ন দেশের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি, কূটনীতিক, রাজনীতিক এবং দেশের বিশিষ্ট নাগরিকরা।গত বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি এককভাবে ২০৯টি আসনে এবং জোটগতভাবে মোট ২১২টি আসনে বিজয় অর্জন করে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করে। এই বিপুল বিজয়ের মধ্য দিয়েই দীর্ঘ রাজনৈতিক বিরতির অবসান ঘটিয়ে সরকার গঠনের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছে দলটি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ফলাফল দেশের রাজনীতিতে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে যাচ্ছে।

শপথ অনুষ্ঠানকে ঘিরে কূটনৈতিক অঙ্গনেও দেখা গেছে ব্যস্ততা। দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদের উপস্থিতি এই অনুষ্ঠানের আন্তর্জাতিক গুরুত্বকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে। বিদেশি অতিথিদের মধ্যে সরাসরি অনুষ্ঠানে যোগ দিতে পারেন ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগে, ভারতের লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা এবং পাকিস্তানের পরিকল্পনামন্ত্রী আহসান ইকবাল। এ ছাড়া নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বালা নন্দা শর্মা, মালদ্বীপের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবদুল্লাহ খলিল এবং শ্রীলঙ্কার স্বাস্থ্যমন্ত্রী নালিন্দা জয়াতিসা ঢাকায় এসে অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন বলে কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে। একই সঙ্গে শেষ মুহূর্তে মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুইজ্জু নিজেও ঢাকায় আসতে পারেন—এমন আভাসও দেওয়া হয়েছে।ইউরোপীয় অঞ্চলের প্রতিনিধিত্ব হিসেবে যুক্তরাজ্যের ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় বিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি সীমা মালহোত্রা অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন, যা নতুন সরকারের আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা ও কূটনৈতিক গুরুত্বকে আরও জোরালো করবে বলে মনে করা হচ্ছে।

অনুষ্ঠানের দিন সকালে প্রথমে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। অন্তর্বর্তী সরকারের আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল জানিয়েছেন, সকাল ১০টায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার নবনির্বাচিত এমপিদের শপথ পাঠ করাবেন। এরপর বেলা সাড়ে ১১টা থেকে দুপুর ১২টার মধ্যে বিএনপি তাদের সংসদীয় দলের বৈঠক অনুষ্ঠিত করবে, যেখানে সংসদীয় দলের নেতা নির্বাচন করা হবে। সেই নির্বাচিত নেতাই পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেশের দায়িত্বভার গ্রহণ করবেন।এর আগে গতকাল প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের বিদায়ী বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে সরকারের কর্মকালীন অভিজ্ঞতা, বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ এবং নতুন সরকারের কাছে শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রক্রিয়া নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। প্রথা অনুযায়ী শপথ অনুষ্ঠানে প্রধান বিচারপতি, সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিবৃন্দ, তিন বাহিনীর প্রধানগণ, জ্যেষ্ঠ রাজনীতিবিদ, বিশিষ্ট আইনজীবী, সাংবাদিক এবং দেশ-বিদেশের কূটনীতিকদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানানো হলেও পূর্বনির্ধারিত ‘ইন্ডিয়া-এআই ইমপ্যাক্ট সামিট’-এর কারণে তিনি উপস্থিত থাকতে পারছেন না। তার পরিবর্তে ভারতের প্রতিনিধিত্ব করবেন লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা এবং ভারতের পররাষ্ট্রসচিব বিক্রম মিশ্রি।সব মিলিয়ে, এই শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে একটি নতুন গণতান্ত্রিক যাত্রার সূচনা হতে যাচ্ছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। দীর্ঘ সময় পর ক্ষমতায় ফেরা বিএনপির সামনে যেমন রয়েছে জনগণের প্রত্যাশা পূরণের চ্যালেঞ্জ, তেমনি রয়েছে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও শক্তিশালী করার সুযোগ—যার দিকে তাকিয়ে আছে দেশবাসী ও আন্তর্জাতিক মহল।

✅ আমাদের প্রকাশিত কোন সংবাদের বিরুদ্ধে আপনার অভিযোগ  বা পরামর্শ থাকলে ই-মেইল করুনঃ dailyvorerkhabor@gmail.com❌ বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।