চট্টগ্রাম প্রতিনিধি: চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলায় সাংবাদিকের ওপর হত্যার উদ্দেশ্যে সশস্ত্র হামলার অভিযোগ উঠেছে।আলোচিত সৈয়দপুরে মানসিক প্রতিবন্ধী বেলাল হত্যা মামলার কথিত প্রধান সন্দেহভাজন ও স্থানীয়ভাবে চিহ্নিত সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত মাদক ব্যবসায়ী সুমন ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ করেন সাংবাদিক মো, জামশেদ আলম। ভুক্তভোগীর অভিযোগ অনুযায়ী,গত ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচনের দিন রাত আনুমানিক ১০টার দিকে সৈয়দপুর ইউনিয়নের জাফরনগর স্কুল সড়কে নিজ বাড়ির কাছাকাছি একটি নির্জন স্থানে তার ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়। হামলাকারীরা দেশীয় ধারালো অস্ত্র—রামদা ও কিরিচ, দিয়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করলে তিনি আহত হন।
আহত সাংবাদিক নাম মো, জামশেদ আলম তিনি জানান, এর আগে মাদক ব্যবসায় সুমন প্রকাশ্যে তাকে হত্যার হুমকি দেন। এ ঘটনায় তিনি গত ১৯ জানুয়ারি সীতাকুণ্ড থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি নং ১১৫৩) করেন। তবে অভিযোগ, সেই জিডির পর কোনো দৃশ্যমান পুলিশি পদক্ষেপ না নেওয়ায় অভিযুক্ত ব্যক্তি আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠেন এবং নির্বাচনের দিন রাতে সশস্ত্র হামলা চালান।হামলার পরপরই তিনি থানায় গিয়ে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)-এর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে বিস্তারিত অবহিত করেন। ওসি তাকে চিকিৎসা নিয়ে ডাক্তারি সনদসহ লিখিত অভিযোগ জমা দেওয়ার পরামর্শ দেন।
পরে চিকিৎসা গ্রহণ শেষে সনদ সংযুক্ত করে রাত ১২টার দিকে আগের জিডির রেফারেন্সে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়। তবে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত মামলার অগ্রগতি বা দৃশ্যমান কোনো আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে দাবি করেন ভুক্তভোগী।উল্লেখ্য গত ৮ নভেম্বর গভীর রাতে সীতাকুণ্ডের মীরেরহাট বাজারে ঘুমন্ত অবস্থায় মানসিক প্রতিবন্ধী বেলাল হোসেনকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। ঘটনাটি পুলিশ প্রাথমিকভাবে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড হিসেবে সন্দেহ করে। পরবর্তীতে সন্দেহভাজন হিসেবে গাঁজাটি সুমনকে গ্রেপ্তার করা হলেও তাকে একটি মাদক মামলায় আদালতে পাঠানো হয় বলে স্থানীয় সূত্রে জানা যায়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, জামিনে মুক্তির পর অভিযুক্ত ব্যক্তি এলাকায় ফিরে পুনরায় চাঁদাবাজি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন শুরু করেছেন। এতে নিহতের পরিবার, ব্যবসায়ী ও সাধারণ বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।এ বিষয়ে সাংবাদিক মো, জামশেদ আলম বলেন, লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পরও কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ না নেওয়া অত্যন্ত হতাশাজনক। একজন সাংবাদিক হিসেবে পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে যদি জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কায় থাকতে হয়, তবে তা গণমাধ্যমের স্বাধীনতার জন্যও উদ্বেগজনক।যোগাযোগ করা হলে সীতাকুণ্ড থানার ওসি মহিনুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি আমরা দেখছি।ঘটনাটি এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। স্থানীয় সুশীল সমাজ ও সাংবাদিক মহল দ্রুত তদন্তসাপেক্ষে দোষীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

