ঢাকাশনিবার , ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

ডা. শফিকুর রহমান ও নাহিদের বাসায় যাবেন তারেক রহমান


ফেব্রুয়ারি ১৪, ২০২৬ ৯:১৪ অপরাহ্ণ
Link Copied!

স্টাফ রিপোর্টার:   ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঐতিহাসিক বিজয়ের পর রাজনৈতিক অঙ্গনে ধারাবাহিক সংলাপ ও সৌজন্য সাক্ষাতের অংশ হিসেবে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের সঙ্গে পৃথক সাক্ষাৎ করবেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) ঢাকায় তাদের নিজ নিজ বাসভবনে গিয়ে এই সাক্ষাৎ করার কথা রয়েছে। নির্বাচন-পরবর্তী রাজনৈতিক পরিস্থিতি, জাতীয় ঐক্য, সংসদ কার্যক্রম এবং ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক সহযোগিতা—এসব বিষয়েই আলোচনা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এবারের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের চূড়ান্ত ও বেসরকারি ফলাফল অনুযায়ী, মোট ২৯৭টি আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এককভাবে ২০৯টি আসনে বিজয় অর্জন করেছে। জোটের শরিক দলগুলো পেয়েছে আরও ৩টি আসন। সব মিলিয়ে আগামী সংসদে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের মোট আসনসংখ্যা দাঁড়াচ্ছে ২১২টি। নির্বাচন কমিশনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা ও বিচারাধীন কয়েকটি আসনের ফল চূড়ান্ত হলে বিএনপির আসনসংখ্যা আরও দুটি বাড়তে পারে বলেও দলীয় সূত্রে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।

এই নির্বাচনে একটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো—বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রথমবারের মতো সরাসরি সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে দুটি গুরুত্বপূর্ণ আসনে বিজয়ী হয়েছেন। তিনি রাজধানী ঢাকা এবং উত্তরবঙ্গের রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ জেলা বগুড়া থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তার এই বিজয়কে দলীয় নেতাকর্মীরা বিএনপির দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রামের একটি বড় অর্জন হিসেবে দেখছেন।

অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম—দুজনই এবারের নির্বাচনে নিজ নিজ রাজনৈতিক অবস্থান থেকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। তাদের সঙ্গে তারেক রহমানের সাক্ষাৎকে নির্বাচন-পরবর্তী রাজনৈতিক সমন্বয় এবং জাতীয় পর্যায়ে যোগাযোগ বৃদ্ধির অংশ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।

উল্লেখ্য, বিএনপির ইতিহাসে এর আগেও বড় ধরনের নির্বাচনী সাফল্যের নজির রয়েছে। ২০০১ সালে চারদলীয় জোটের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করেছিল। ওই নির্বাচনে বিএনপি এককভাবে পেয়েছিল ১৯৩টি আসন এবং জোটের শরিক দলগুলোসহ মোট আসনসংখ্যা দাঁড়িয়েছিল ২১৬। সে সময় বিএনপির প্রয়াত চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ২০০১ সালের পর এবারের ফলাফল বিএনপির জন্য আরেকটি মাইলফলক। নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও সংলাপের মাধ্যমে তারেক রহমান যে বার্তা দিচ্ছেন, তা জাতীয় রাজনীতিতে স্থিতিশীলতা ও পারস্পরিক বোঝাপড়া জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

✅ আমাদের প্রকাশিত কোন সংবাদের বিরুদ্ধে আপনার অভিযোগ  বা পরামর্শ থাকলে ই-মেইল করুনঃ dailyvorerkhabor@gmail.com❌ বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।