ঢাকাবৃহস্পতিবার , ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
আজকের সর্বশেষ খবর

ভোট প্রভাবিত করে কাউকে জয়ী হতে দেব না: সারজিস


ফেব্রুয়ারি ১২, ২০২৬ ১:০৫ অপরাহ্ণ
Link Copied!

স্টাফ রিপোর্টার:   ভোটে প্রভাব বিস্তারের কোনো অপচেষ্টা বরদাশত করা হবে না বলে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পঞ্চগড়-১ আসনের আলোচিত প্রার্থী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মূখ্য সংগঠক সারজিস আলম। তিনি বলেন, জনগণের ভোটাধিকার রক্ষায় প্রশাসন ব্যর্থ হলে ভোটে প্রভাব খাটিয়ে কাউকে জয়ী হতে দেওয়া হবে না।

বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকালে পঞ্চগড়ের আটোয়ারী উপজেলার তোড়িয়া ইউনিয়নের বামনকুমার রাখালদেবী হাট আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন সারজিস আলম। এ সময় তার সঙ্গে ভোট দেন তার বাবা আক্তারুজ্জামান এবং ভাই শাহাদাত হোসেন সাকিব। তারা একসঙ্গে ভোটকেন্দ্রে প্রবেশ করেন এবং কিছু সময় কেন্দ্র প্রাঙ্গণে অবস্থান করেন।

সকাল থেকেই কেন্দ্রটিতে ভোটারদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। ভোট দিতে আসা সাধারণ ভোটারদের সঙ্গে কেন্দ্রের বাইরে কুশল বিনিময় করেন সারজিস আলম। তিনি নির্ধারিত লাইনে দাঁড়িয়ে অন্য ভোটারদের মতো অপেক্ষা করেন এবং পরে শান্তিপূর্ণভাবে কেন্দ্রে প্রবেশ করে ভোট প্রদান করেন। পুরো সময়জুড়ে কেন্দ্রে কোনো বিশৃঙ্খলার চিত্র দেখা যায়নি।

ভোট প্রদান শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে সারজিস আলম বলেন, “উৎসবমুখর পরিবেশে আমি আমার ভোট ১১ দলীয় ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশের প্রতীক শাপলা কলিতে দিয়েছি এবং গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়েছি। আমরা নতুন গণতন্ত্রের প্রত্যাশায় আজ ভোট দিয়েছি। আশা করছি, শেষ পর্যন্ত একটি সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন উপহার পাবো।”

তিনি আরও বলেন, “জনগণের ভোট ও মতামতের ওপর আমাদের সবাইকে আস্থা রাখতে হবে। প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে যেন সুষ্ঠু, স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ পরিবেশ বজায় থাকে—এটাই আমাদের প্রত্যাশা। ভোটগ্রহণের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রিসাইডিং অফিসার, সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার, রিটার্নিং কর্মকর্তা, সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তাসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের কাছ থেকে আমরা সর্বোচ্চ পেশাদার আচরণ আশা করি।”

সারজিস আলম বলেন, “সব রাজনৈতিক দল যদি ন্যূনতম উদারতা ও সহনশীলতার পরিচয় দেয়, তাহলে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন সম্ভব। এখানে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের দায়িত্বশীল ও সহনশীল আচরণ।”

এ সময় তিনি অভিযোগ করে বলেন, “গত কয়েক দিন ধরে পঞ্চগড়-১ আসনের বিভিন্ন এলাকায় বিএনপির নেতাকর্মীদের দ্বারা ভোটারদের বাধা দেওয়া, হুমকি প্রদান এবং ভয়ভীতির পরিবেশ তৈরির অভিযোগ আমরা দেখেছি ও শুনেছি। আমরা আশা করবো, অন্তত নির্বাচনের দিন এ ধরনের কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটবে না।”

তিনি আরও বলেন, “আমরা আজ অভিযোগ করার জন্য ভোটের মাঠে আসিনি। আমরা চাই এমন একটি পরিবেশ বজায় থাকুক, যেখানে আমাদের কাউকে অভিযোগ করতে না হয়। প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সবাই যদি সুষ্ঠুভাবে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন করতে পারে, তাহলে আমাদের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ থাকবে না। তবে যদি আমরা কোথাও পেশিশক্তির ব্যবহার, ভোটকেন্দ্রে বাধা দেওয়া, ভোট গণনা বা ফলাফল প্রভাবিত করার চেষ্টা দেখতে পাই, তাহলে প্রথমে আমরা প্রশাসনের ওপর আস্থা রাখবো যে তারা এসব রুখে দেবে। প্রশাসন যদি ব্যর্থ হয়, তাহলে আমরা স্পষ্টভাবে বলতে চাই—ভোটে প্রভাব খাটিয়ে কাউকে এই নির্বাচনে জয়ী হতে দেওয়া হবে না।”

কেন্দ্রের প্রিজাইডিং কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ জানান, সকাল থেকে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ চলছে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। তিনি বলেন, “এই কেন্দ্রে মোট ভোটার সংখ্যা ৫ হাজার ৯৬৯ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৩ হাজার ৪১ জন এবং নারী ভোটার ২ হাজার ৯২৮ জন।”

পঞ্চগড়-১ আসনে সারজিস আলমের সঙ্গে আরও ছয়জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তাদের মধ্যে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে বিবেচিত হচ্ছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ব্যারিস্টার নওশাদ জমির। তিনি বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ক সম্পাদক এবং সাবেক স্পিকার ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের ছেলে।

রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, দুইটি আসন নিয়ে গঠিত পঞ্চগড় জেলা। জেলায় মোট ২৮৬টি ভোটকেন্দ্রে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এর মধ্যে ২৯টি কেন্দ্রকে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ এবং ২৫৭টি কেন্দ্রকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

পঞ্চগড়-১ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৫৮ হাজার ৮০৭ জন এবং এখানে ভোটকেন্দ্র রয়েছে ১৫৫টি। অপরদিকে পঞ্চগড়-২ আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ১৪ হাজার ৩৫৬ জন এবং সেখানে ভোটকেন্দ্র রয়েছে ১৩১টি।

রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক কাজী মো. সায়েমুজ্জামান জানান, নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। যে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবেলায় জেলায় ২০ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, ৫ জন জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, ৮০০ জন সেনা সদস্য, ৮৫০ জন বিজিবি সদস্য, ১ হাজার ২০০ জন পুলিশ সদস্য, ৭৮ জন আনসার ব্যাটালিয়ন সদস্য এবং প্রতি কেন্দ্রে ১৩ জন করে মোট ৩ হাজার ৭৩১ জন আনসার সদস্য মোতায়েন রয়েছে।

✅ আমাদের প্রকাশিত কোন সংবাদের বিরুদ্ধে আপনার অভিযোগ  বা পরামর্শ থাকলে ই-মেইল করুনঃ dailyvorerkhabor@gmail.com❌ বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।