ঢাকারবিবার , ২৫ জানুয়ারি ২০২৬
আজকের সর্বশেষ খবর

হাসিনার প্রকাশ্য বক্তব্য দেশের গণতন্ত্র ও নিরাপত্তার জন্য হুমকি: পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়


জানুয়ারি ২৫, ২০২৬ ৬:৪৮ অপরাহ্ণ
Link Copied!

স্টাফ রিপোর্টার:   মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ও বর্তমানে পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ভারতের নয়াদিল্লিতে প্রকাশ্যে একটি অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়ায় অন্তর্বর্তী সরকার গভীর ক্ষোভ, বিস্ময় ও তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে। সরকার মনে করে, এই ঘটনা শুধু বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার প্রতি অবজ্ঞাই নয়, বরং দেশের সার্বভৌমত্ব ও গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রার ওপর একটি সরাসরি আঘাত।

অন্তর্বর্তী সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, শেখ হাসিনার ওই বক্তব্যে বর্তমান সরকারকে উৎখাত করার আহ্বান জানানো হয়েছে এবং আসন্ন জাতীয় নির্বাচন বানচাল করার উদ্দেশ্যে সহিংসতা ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়ানোর উসকানি দেওয়া হয়েছে। সরকার মনে করে, এ ধরনের বক্তব্য বাংলাদেশের ভেতরে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির একটি সুপরিকল্পিত প্রচেষ্টার অংশ, যা দেশের শান্তি, নিরাপত্তা ও গণতান্ত্রিক পরিবেশের জন্য মারাত্মক হুমকি।

রোববার (২৫ জানুয়ারি) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে প্রকাশিত এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত ওই অনুষ্ঠানের তীব্র বিরোধিতা করা হয়। বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, ২৩ জানুয়ারি ভারতের রাজধানীতে আয়োজিত ওই অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনা প্রকাশ্যে বাংলাদেশ সরকারের বিরুদ্ধে অবস্থান নেন এবং তার দলীয় অনুসারীসহ সাধারণ জনগণকে নির্বাচনকে ভণ্ডুল করতে সহিংস কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হওয়ার আহ্বান জানান। এই বক্তব্য বাংলাদেশ সরকার ও জনগণের মধ্যে গভীর উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার সৃষ্টি করেছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আরও জানায়, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরত পাঠানোর জন্য একাধিকবার আনুষ্ঠানিকভাবে অনুরোধ জানানো হয়েছে। কিন্তু দুঃখজনকভাবে, ভারত এখনো সেই দায়িত্ব পালন করেনি। বরং এর বিপরীতে, ভারতীয় ভূখণ্ডে তাকে প্রকাশ্যে রাজনৈতিক ও উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে, যা বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণ, শান্তি ও নিরাপত্তাকে গুরুতরভাবে ঝুঁকির মুখে ফেলেছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, ভারতের রাজধানীতে এ ধরনের একটি রাজনৈতিক অনুষ্ঠান আয়োজনের অনুমতি দেওয়া আন্তঃরাষ্ট্র সম্পর্কের প্রচলিত নীতিমালা—বিশেষ করে সার্বভৌমত্বের প্রতি শ্রদ্ধা, অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা এবং সুপ্রতিবেশীসুলভ আচরণের—স্পষ্ট পরিপন্থি। অন্তর্বর্তী সরকারের মতে, এই ঘটনা বাংলাদেশের জনগণ ও সরকারের প্রতি একটি প্রকাশ্য অবমাননার শামিল এবং ভবিষ্যতে বাংলাদেশ–ভারত দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের জন্য একটি বিপজ্জনক দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারে।

বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতৃত্বের এ ধরনের বেপরোয়া ও উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডই প্রমাণ করে কেন অন্তর্বর্তী সরকার দলটির রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ করতে বাধ্য হয়েছে। সরকার স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে যে, আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের আগে বা নির্বাচন দিবসে সংঘটিত যেকোনো সহিংসতা, নাশকতা বা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সম্পূর্ণ দায়ভার আওয়ামী লীগের ওপর বর্তাবে। এসব ষড়যন্ত্র প্রতিহত করতে এবং জনগণের ভোটাধিকার ও দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া সুরক্ষিত রাখতে সরকার প্রয়োজনীয় সব ধরনের আইনগত, প্রশাসনিক ও নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা গ্রহণে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।

✅ আমাদের প্রকাশিত কোন সংবাদের বিরুদ্ধে আপনার অভিযোগ  বা পরামর্শ থাকলে ই-মেইল করুনঃ dailyvorerkhabor@gmail.com❌ বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।