স্টাফ রিপোর্টার: স্থগিত হওয়া পাবনা-১ ও পাবনা-২ আসনের সংসদ নির্বাচন নিয়ে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে দায়ের করা আবেদনের শুনানি আগামীকাল বুধবার (১৪ জানুয়ারি) সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এই শুনানিকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গন ও সংশ্লিষ্ট এলাকার ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ ও আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে।
এর আগে গত ৯ জানুয়ারি আপিল বিভাগের দেওয়া আদেশের পরিপ্রেক্ষিতে নির্বাচন কমিশন পাবনা-১ ও পাবনা-২ আসনের সংসদ নির্বাচন স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেয়। বিষয়টি নিশ্চিত করে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ জানান, আপিল বিভাগের নির্দেশনা অনুসরণ করেই কমিশন এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে এবং আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত এ দুটি আসনে নির্বাচন কার্যক্রম স্থগিত থাকবে।
প্রসঙ্গত, গত ৫ জানুয়ারি সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ পাবনা-১ ও পাবনা-২ সংসদীয় আসনের আগের সীমানা পুনর্বহালসংক্রান্ত নির্বাচন কমিশনের ২৪ ডিসেম্বর প্রকাশিত সংশোধিত বিজ্ঞপ্তির একটি অংশ স্থগিত করেন। হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশন এবং সংশ্লিষ্ট এক প্রার্থীর করা পৃথক আবেদনের শুনানি শেষে প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ এ আদেশ দেন। আদালতের এই আদেশের ফলে সংশ্লিষ্ট আসন দুটির সীমানা ও নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে নতুন করে আইনি জটিলতা তৈরি হয়।
উল্লেখ্য, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে গত বছরের ৪ সেপ্টেম্বর সংসদীয় আসন পুনর্বিন্যাসসংক্রান্ত একটি চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশন। ওই গেজেটে সাঁথিয়া উপজেলার পুরো এলাকা নিয়ে পাবনা-১ আসন এবং সুজানগর ও বেড়া উপজেলাকে নিয়ে পাবনা-২ আসন নির্ধারণ করা হয়। তবে এই পুনর্বিন্যাস নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে অসন্তোষ দেখা দেয় এবং বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়ায়।
এই গেজেটের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে বেড়া উপজেলার বাসিন্দা জহিরুল ইসলাম এবং সাঁথিয়া উপজেলার বাসিন্দা আবু সাঈদ হাইকোর্টে পৃথক রিট আবেদন দায়ের করেন। প্রাথমিক শুনানি শেষে গত বছরের ১৭ সেপ্টেম্বর হাইকোর্ট রুল জারি করেন। পরে বিস্তারিত শুনানি শেষে ১৮ ডিসেম্বর হাইকোর্ট রুল অ্যাবসলিউট ঘোষণা করে রায় দেন। রায়ে পাবনা-১ আসন থেকে বেড়া উপজেলার চারটি ইউনিয়ন ও বেড়া পৌরসভা বাদ দিয়ে সেগুলোকে পাবনা-২ আসনের সঙ্গে যুক্ত করার বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের গেজেটের সংশ্লিষ্ট অংশকে আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হয়। একই সঙ্গে আদালত নির্বাচন কমিশনকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আগের সীমানা অনুযায়ী নতুন গেজেট প্রকাশের নির্দেশ দেন।
হাইকোর্টের এই রায়ের ধারাবাহিকতায় নির্বাচন কমিশন গত ২৪ ডিসেম্বর একটি সংশোধিত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। সংশোধিত বিজ্ঞপ্তিতে পুরো সাঁথিয়া উপজেলা এবং বেড়া পৌরসভাসহ বেড়া উপজেলার চারটি ইউনিয়ন—হাটুরিয়া নাকালিয়া, নতুন ভারেংগা, চাকলা ও কৈটোলা—নিয়ে পাবনা-১ আসন পুনর্গঠন করা হয়। অপরদিকে, বেড়া উপজেলার বাকি পাঁচটি ইউনিয়ন এবং পুরো সুজানগর উপজেলা নিয়ে পাবনা-২ আসন নির্ধারণ করা হয়।
এই সংশোধিত বিজ্ঞপ্তির বৈধতা নিয়েই বর্তমানে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে শুনানি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। আপিল বিভাগের আসন্ন শুনানির মাধ্যমে পাবনা-১ ও পাবনা-২ আসনের সীমানা সংক্রান্ত চূড়ান্ত আইনি সিদ্ধান্ত আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। সেই সিদ্ধান্তের ওপরই নির্ভর করবে এই দুই আসনে সংসদ নির্বাচন কবে এবং কোন সীমানায় অনুষ্ঠিত হবে।

