নিজস্ব প্রতিবেদক: বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বড় ছেলে ও দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ২০০৮ সালে ওয়ান–ইলেভেন–পরবর্তী পরিস্থিতিতে কারামুক্ত হয়ে সপরিবার যুক্তরাজ্যে চলে যান। সেই থেকে তিনি আর দেশে ফেরেননি; দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে লন্ডন থেকেই দল পরিচালনা করছেন। দলের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত, কৌশল নির্ধারণ ও নেতৃত্ব–সংক্রান্ত আলোচনা তিনি সেখান থেকেই পরিচালনা করে আসছেন।
গত বছরের জুলাইয়ের অভ্যুত্থানের পর আওয়ামী লীগ ক্ষমতাচ্যুত হলে তারেক রহমানের বিরুদ্ধে থাকা বিভিন্ন মামলার সাজা বাতিল হয়। আদালতের এসব সিদ্ধান্তের পর থেকেই বিএনপির ভেতরে–বাইরে তাঁর দেশে ফেরার সম্ভাবনা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়। দলের নেতারা ধারাবাহিকভাবে বলে আসছেন যে তারেক রহমান দেশে ফিরবেন, তবে তাঁরা বারবারই সুনির্দিষ্ট তারিখ জানাতে অপারগতা প্রকাশ করেছেন।
খালেদা জিয়া গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর পরিস্থিতি আরও সংবেদনশীল হয়ে ওঠে। তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটায় গতকাল শুক্রবার সারাদিনই রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন ছড়াতে থাকে—তারেক রহমান নাকি মায়ের কাছে পৌঁছাতে দ্রুত দেশে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
কিন্তু আজ বাংলাদেশ সময় সকাল পৌনে ৯টার দিকে লন্ডন থেকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে একটি পোস্টে তিনি জানান, মায়ের সংকটময় মুহূর্তে তাঁর পাশে থাকার আকাঙ্ক্ষা থাকলেও সেই সিদ্ধান্ত তিনি এককভাবে নিতে পারছেন না। পোস্টে তিনি লেখেন, ‘এমন সংকটকালে মায়ের স্নেহ–স্পর্শ পাবার তীব্র আকাঙ্ক্ষা যেকোনো সন্তানের মতো আমারও রয়েছে। কিন্তু অন্য আর সবার মতো এটা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে আমার একক সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুযোগ অবারিত ও একক নিয়ন্ত্রণাধীন নয়।’
তিনি ইঙ্গিত দিলেও স্পষ্ট করে বলেননি—বাধা কোথায়। শুধু উল্লেখ করেছেন যে বিষয়টি অত্যন্ত স্পর্শকাতর এবং বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেওয়ার অবকাশ সীমিত। তাঁর ভাষায়, ‘রাজনৈতিক বাস্তবতার এ পরিস্থিতি প্রত্যাশিত পর্যায়ে উপনীত হওয়ামাত্রই স্বদেশপ্রত্যাবর্তনে আমার সুদীর্ঘ উদ্বিগ্ন প্রতীক্ষার অবসান ঘটবে বলেই আমাদের পরিবার আশাবাদী।’
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এ নিয়ে আলোচনা চলছে। শফিকুল আলম নামে একজন ফেসবুকে লিখেছেন, প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং দেশবাসীর কাছে তাঁর সুস্থতার জন্য দোয়া চেয়েছেন।

