ঝিনাইদহ প্রতিনিধি: ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর ব্যাংক ঋণের চাপে নিজ ব্যবহারিত বন্দুকের গুলিতে এক কাপড় ব্যবসায়ী আত্মহত্যা করেছেন বলে জানাগেছে।(৫ সেপ্টেম্বর শুক্রবার) ভোর বেলা পৌর শহরের সলেমানপুর উত্তর পাড়া গ্রামের মৃত আঃ রহিমের ছেলে বিশিষ্ট কাপড় ব্যবসায়ী নজরুল ইসলাম নজু (৭২) নিজ বাড়িতে ব্যবহারিত লাইসেন্সকৃত বন্দুকের গুলিতে আত্মহত্যা করেছেন।পারিবারিক সুত্রে তার ভাগ্নে আব্দুলল্লাহ আল মামুন জানান মামার পরিবারে কোন ঝামেলা ছিল না আমরা শুনিনি কোন দিন।
কেন তিনি আত্মহত্যার পথ বেছে নিলেন এটা বুঝতে পারছি না।মৃতের ভাই উবাইদুল ইসলাম জানান পাঁচ ভাই পাঁচ জায়গায় থাকি। আমি নামাজের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম ভাইয়ের ছেলে ফাহিম হোসেন আমাকে ভোর ৪ টা ৫৫ মিনিটে ফোন করে জানান আমার ভাই আত্মহত্যা করেছে তারপর আমি এসেছি এতটুকুই জানি।প্রতিবেশী নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সুমনের মা জানান। ফজরের আজানের একটু আগে আমার মোবাইল নাম্বারে ফোন আসে।আমি মোবাইল রিসিভ করি। তখন নজু চাচার বউ আমাকে ফোন দিয়ে বলে তাদের বাড়িতে যাওয়ার জন্য। আমি তাদের বাড়ি গেলে চাচী বলে দোতলার থেকে নামতে পারছি না।
সিড়ি রুমের বাহির থেকে তোমার চাচা ছিটকানি দিয়ে দিয়েছে।আমি গিয়ে দরজার ছিটকানি খুলে দিলে নজু চাচার ছেলে ফাহিম তার বউমা ও চাচি সহ নিচতলায় এসে দেখি যে রুমে চাচা দিনের বেলা থাকতেন সেখানে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। আমরা প্রতিবেশী কিন্তু গুলির কোন শব্দ শুনতে পারিনি।তাদের পারিবারিক কোন ঝামেলা শুনিনি। নিকটাত্মীয় সাইদুর রহমান জানান আমার বেয়াই ব্যাংক ঋণ সহ বিভিন্ন দেনার কারণে মানসিক ভাবে খুবই কষ্টের মধ্যে ছিলেন। ব্যাংক ঋণের কারণে বসত বাড়ি নিলাম হবে শুনে তিনি সম্ভ্রান্ত পরিবারের একজন লোক। সম্মানের ভয়ে হয়তোবা মানসিক টেনশনেই এমন আত্মহত্যার মতো ঘটনা ঘটাতে পারে। পাঁচ ভাইয়ের মধ্যে তিনি মেজ ছিলেন । তিনি এক ছেলে ও দুই কন্যা সন্তানের জনক বলে জানাগেছে।
আত্মহত্যার বিষয় কোটচাঁদপুর মডেল থানা অফিসার ইনচার্জ কবির হোসেন মাতুব্বর জানান শুনেছি ব্যাংকের ঋণ সহ পারিবারিক সমস্যার কারণে আত্মহত্যা করতে পারে। প্রাথমিক ভাবে আত্মহত্যা হিসেবে ধারণা করা হচ্ছে। আমরা তার নিজ বাড়ি থেকে গুলিবিদ্ধ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের পর প্রকৃত ঘটনা জানা যাবে।

