লক্ষ্মীপুর জেলা প্রতিনিধি: “নদী বাঁচলে বাঁচবে গ্রাম, তাই আমাদের এ সংগ্রাম” এই স্লোগানে লক্ষ্মীপুর থেকে নোয়াখালী পর্যন্ত ৭৬ কিলোমিটার লম্বা ভুলুয়া নদীটি রক্ষার আন্দোলনের জন্য মতবিনিময় সভার আয়োজন করেন স্থানীয় চর কাদিরা এলাকার বাসিন্ধারা।শুক্রবার (৮ আগষ্ট) সকাল ১০ টায় ফজুমিয়ার হাট উচ্চ বিদ্যালয় এন্ড কলেজের প্রধান শিক্ষকের কার্যালয়ে উক্ত মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।
ফজুমিয়ার হাট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুস সহীদ এর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাতাব্বর নগর দারুসসুন্নাহ ফাযিল মাদরাসার অধ্যক্ষ মাও. আলী হোসেন। আরো উপস্থিত ছিলেন কমলনগর উপজেলা জামায়াত ইসলামীর সেক্রেটারী মাও. আকরাম হোসাইন, চর কাদিরা ইউনিয়নের জামায়াত ইসলামীর আমির মাও. তাজুল ইসলাম, কমলনগর উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক সদস্য আখতার মাহমুদ, কমলনগর কৃষি অফিসার মোঃ রফিক উল্যাহ মুরাদ, মোঃ আকরাম হোসেন, মাও. মাকছুদুর রহমান, মোঃ আব্বাস উদ্দিন, মাও. ওমর ফারুক, ডাঃ মিজানুর রহমান, মাও. আকরাম হোসেন, ডাঃ আকতার হোসেন, ডাঃ মানসুর আহমেদ প্রমুখ।
মতবিনিময় সভায় আন্দোলনের জন্য একটি উপদেষ্টা কমিটি ও একটি বাস্তবায়ন কমিটি গঠন করা হয়। যা আলোচনা সাপেক্ষ পরবর্তি সভায় নাম প্রকাশ করা হবে।
উপস্থিতিবৃন্দ বলেন, ভুলুয়া নদী রক্ষার জন্য যা যা করার প্রয়োজন আমরা সব কিছু করব সেটার জন্য আমাদের এলাকার সচেতন মহলকে নিয়ে আরেকটি সভা করার দরকার। তাই আগামী ১২ই আগষ্ট রোজ মঙ্গলবার বিকাল ৪.৩০ ঘটিকায় তারিখ ও সময় ধার্য করা হয়েছে। উক্ত সভায় এলাকার সকল শ্রেণির লোকদের উপস্থিত থাকার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত: লম্বায় ৭৬ কিলোমিটার আর ১০০ মিটরের বেশি প্রস্থের ভুলুয়া নদীটি লক্ষ্মীপুর ও নোয়াখালী জেলার অতি গুরুত্বপূর্ণ নদী। কিন্তু গত প্রায় ২০ বছর যাবত এ নদীতে কোন স্রোত নেই। বাঁধ দিয়ে, দখল এবং মাছ ধরার জাল পেতে নদী দখলে নিয়েছে স্থানীয় প্রভাবশালীরা। পানিপ্রবাহ না থাকায় প্রতি বর্ষা মৌসুমে তৈরি হয় দীর্ঘ জলাবদ্ধতা। হাজার হাজার একর জমিতে ফসল ফলাতে পারে না কৃষক। যুগ যুগ ধরে প্রশাসনের কাছে বারবার আবেদন করেও ফল মেলেনি। এলাকাবাসী নিজেদের অর্থ দিয়ে সহযোগিতা করছে। এলাকাবাসীরা স্থানীয় বাজার, মসজিদ, মাদ্রাসা থেকে দান অনুদান তুলে নদী খননে সহায়তা করছে। কিন্তু তাতেও কোন ফল পাওয়া যাচ্ছেনা।
নদীটি দেশের দক্ষিণাঞ্চলের লক্ষ্মীপুর জেলার রামগতি, কমলনগর, লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলা এবং নোয়াখালী জেলার সদর উপজেলা ও সুবর্ণচর উপজেলা হয়ে মেঘনা নদীতে মিলিত হয়েছে। এসময় এ নদী লক্ষ্মীপুর ও নোয়াখালী জেলার ২০টি ইউনিয়নকে সংযুক্ত করেছে। নদীটি এ অঞ্চলের কৃষি , মৎস্য আহরণ ও অন্যান্য কাজে গুরুত্বপূর্ণ হলেও বর্তমানে তা এলাকাবাসীর গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এখন দখলদারির কারণে পলি জমে মরে গেছে। সামান্য বৃষ্টিপাত হলেও জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়।
২০২৪ সালের জুলাই থেকে অক্টোবর পর্যন্ত চার মাস মারাত্মক জলাবদ্ধতায় পড়ে এ অঞ্চলের হাজার হাজার মানুষ। প্রায় এক লাখ একর জমিতে কোনো ফসল হয়নি। বারবার লিখিত ও মৌখিকভাবে জানানো হলেও পানি উন্নয়ন বোর্ড ও লক্ষ্মীপুর, নোয়াখালী জেলা প্রশাসন কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি ।
স্থানীয়ভাবে জানা গেছে, চলতি বর্ষা শুরুর আগেই ভুলুয়া নদী খনন করতে মানববন্ধন শেষে লক্ষ্মীপুর জেলা প্রশাসক বরাবর স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে। তাতেও কোন ফলপ্রসু হয়নি। তাই এলাকাবাসী এলাকাবাসী জলাবদ্ধতা দুরিকরণের জন্য এই আন্দোলনের ডাক দিয়েছেন।

