সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি: সিরাজগন্জে কাজিপুর উপজেলার পূর্ব পাড়ের ছয়টি ইউনিয়নে দিনের পর দিন বীরদর্পে চলছে বাংলা ড্রেজার দিয়ে অবৈধ মাটি উত্তোলন।
প্রশাসন, ভূমি অফিস, পরিবেশ অধিদপ্তর—সবই জানে। কিন্তু রহস্যজনক কারণে কেউ টু-শব্দও করছে না। এলাকাবাসীর ভাষায়, “এটা যেন প্রশাসনের ছত্রছায়ায় চলা এক ‘ড্রেজার মাফিয়া’র রাজত্ব!”
তেকানী, নিশ্চিন্তপুর,নাটুয়ারপাড়া, খাসরাজবাড়ি, মনসুরনগর, চরগিরিশ, —প্রতিটি ইউনিয়নে একাধিক বাংলা ড্রেজার দিনরাত নদী ও খাল থেকে মাটি তুলছে। স্থানীয় ফসলি জমি, স্কুল-মাদ্রাসার মাঠ, এমনকি বাড়ির পাশের জায়গাও রেহাই পাচ্ছে না।
দিনে-দুপুরে নদীর চরে চলছে বিশালাকৃতির বাংলা ড্রেজার। চরাঞ্চলের কৃষি জমি, বসতবাড়ির পেছনের জমি, স্কুল-মাদ্রাসার খেলার মাঠ—সব জায়গা থেকে মাটি কেটে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। কারো যেন কিছু বলার নেই। অথচ, এই কার্যক্রম সম্পূর্ণ অবৈধ এবং পরিবেশ বিধির সম্পূর্ণ পরিপন্থী।
একজন কৃষকের কান্নাজড়িত কণ্ঠে:
“আমার দাদা-পরদাদার জমি এখন খালি গর্ত। প্রশাসনের কাছে কতবার গেছি—সবাই দেখে না দেখার ভান করে।”
একজন সচেতন নাগরিক বলেন:
“উপজেলা অফিসে তালিকা আছে—কোন ইউনিয়নে কয়টা ড্রেজার, কে চালায়—সব জানা। তাহলে অভিযান হয় না কেন? এটা কি দুর্নীতির আড়াল নয়?”
পরিবেশ বিপর্যয়ের আলামত স্পষ্ট
এই অবৈধ মাটি উত্তোলনের কারণে
নদীর গতিপথ পরিবর্তন হচ্ছে,
জলাবদ্ধতা ও ভাঙন বাড়ছে,
কৃষি জমির উর্বরতা কমছে।
তবু প্রশাসনের টনক নড়ছে না।
স্থানীয়দের প্রশ্ন—”কোন শক্তির ইশারায় প্রশাসন চুপ।
একজন স্থানীয় এক সচেতন নাগরিক বলেন,
“ইউএনও, এসিল্যান্ড, থানা—সবাই জানে কোথায় কী হচ্ছে। প্রতিদিন ড্রেজার চলে, শব্দে পুরো চর কাঁপে। কিন্তু অভিযান নেই কেন? কে রুখে দিচ্ছে?
একজন কৃষক বলেন:
“আমার চোখের সামনে জমি গর্ত হয়ে গেল। এখন বর্ষায় পানি এসে ঘর পর্যন্ত যাবে। কার কাছে যাবো?”
অবিলম্বে যমুনার চরাঞ্চলে বাংলা ড্রেজার বন্ধ করতে হবে,
প্রশাসনকে জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে,
আর পরিবেশ ধ্বংসে জড়িত সিন্ডিকেটকে শাস্তির আওতায় আনতে হবে।
না হলে, চরাঞ্চলের মানুষ আন্দোলনে নামবে—এটাই এখন সময়ের দাবি।

