ঢাকাশনিবার , ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৫
আজকের সর্বশেষ খবর

রাবিতে শিক্ষার্থীদের গোপনীয়তা লঙ্ঘনের হল অভিযোগে প্রাধ্যক্ষকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা এবং অপসারণের দাবি


ফেব্রুয়ারি ২২, ২০২৫ ৯:১৮ অপরাহ্ণ
Link Copied!

ফজলে হাসান, রাবি প্রতিনিধি:   রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের গোপনীয়তা লঙ্ঘন, শিক্ষার্থী হয়রানি সহ একাধিক অভিযোগে এক হল প্রাধ্যক্ষের অপসারণের দাবি জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। গতকাল শুক্রবার বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক সালেহ্ হাসান নকিব এবং প্রক্টর বরাবর ১৩০ জন শিক্ষার্থীর স্বাক্ষরিত একটি লিখিত অভিযোগপত্রে এই দাবি জানানো হয়। এই অভিযোগপত্রে আরও ছয়টি দাবি জানান তারা।এর আগ এই ঘটনার প্রতিবাদে হলের শিক্ষার্থীরা তার কক্ষে তালা দেন এবং ৬ ঘণ্টার সময়সীমা বেঁধে দেন, যেন অভিযুক্ত শিক্ষক তার অনৈতিক কর্মকাণ্ডের জন্য ক্ষমা চায় এবং যথাযথ শাস্তির ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। কিন্তু তিনি কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করেননি বা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কোনো যোগাযোগও করেননি।পরে অভিযুক্ত শিক্ষককে অবাঞ্চিত ঘোষণা করে তার অফিস কক্ষে তালা ঝুলিয়ে দেন হলের আবাসিক শিক্ষার্থীরা।এ ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষক হলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সৈয়দ আমীর আলী হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক মোহাম্মদ হারুনর রশীদ।হলের আবাসিক শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, তাদের (শিক্ষার্থীদের) গোপনীয়তা লঙ্ঘন, নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের বিশেষ সুবিধা প্রদান, আবাসিক কক্ষ বরাদ্দের ক্ষেত্রে স্বচ্ছ স্কোরিং নম্বর প্রকাশ না করা, হলের সিঙ্গেল রুম বরাদ্দের ক্ষেত্রে অনিয়ম, হলে তার নিজ বিভাগের শিক্ষার্থীদের বিশেষ সুবিধা প্রদান, শিক্ষার্থীদের প্রতি সহানুভূতিশীল আচরণ না করা, যেকোনো সিদ্ধান্ত এককভাবে গ্রহণসহ নানা অপকর্মের সাথে জড়িত তিনি।বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর বরাবর দেওয়া অভিযোগপত্রে শিক্ষার্থীরা সাত দফা দাবি জানান। তাদের দাবিগুলো হলো- প্রাধ্যক্ষের অপসারণ, গোপনীয়তা লঙ্ঘন ও মিথ্যাচারের জন্য শাস্তি, শিক্ষার্থীদের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা, শিক্ষার্থী হয়রানির বিষয়ে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ, শিক্ষার্থীদের গোপনীয়তা রক্ষার জন্য নীতিমালা প্রণয়ন, হলের বিভিন্ন বরাদ্দ পুনর্মূল্যায়ন ও বিদায়ী শিক্ষার্থীদের রমজান মাসের বিশেষ বিবেচনা গ্রহণ।এ বিষয়ে রাবির সৈয়দ আমীর আলী হলের আবাসিক শিক্ষার্থী আবদুল্লাহ হাসনাত নীল বলেন, ‘আমরা যেকোনো সময় হল থেকে নামতে রাজি আছি। এটি তার বিরুদ্ধে আমাদের একক কোনো সিদ্ধান্ত নয়। হলের একাধিক শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা তার বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।’এ বিষয়ে হল প্রাধ্যক্ষ মোহাম্মদ হারুনর রশীদ বলেন, ‘অভিযোগগুলো সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট। ১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের অনেকের পরীক্ষা শেষ হয়েছে। যাদের সিটগুলো আমি অন্যদের বরাদ্দ দিয়ে দিয়েছি। কিন্তু কয়েকজন শিক্ষার্থী আছে যারা বলেছে তারা হল ছাড়বে না। আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা কমিটিতে তাদের নাম তোলার জন্য উল্লেখ করেছি। মূলত এসব কারণেই আমার বিরুদ্ধে তারা আন্দোলন করছে।’

✅ আমাদের প্রকাশিত কোন সংবাদের বিরুদ্ধে আপনার অভিযোগ  বা পরামর্শ থাকলে ই-মেইল করুনঃ dailyvorerkhabor@gmail.com❌ বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।