শহীদুল ইসলাম শহীদ (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি: গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে সরকার নির্ধারিত মূল্য উপেক্ষা করে এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডার অতিরিক্ত দামে বিক্রি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। অসাধু ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে প্রতি সিলিন্ডারে ২০০ থেকে ৩০০ টাকা বেশি দামে বিক্রি করছেন।স্থানীয় ক্রেতারা জানান, বিক্রেতারা ডিলারের দোহাই দিয়ে বেশি দাম আদায় করছেন, যার ফলে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত বাজার মনিটরিং ও ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
বৈশ্বিক কারণে জ্বালানি তেলের বাজারে অস্থিরতা বিরাজ করছে বেশ কিছু দিন যাবত। এমন পরিস্থিতিতে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) তৈরির উপাদান প্রোপেন-বিউটেনের দামও বেড়েছে। সার্বিক দিক বিবেচনা করে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) ১২ কেজির একটি সিলিন্ডারের দাম ৩৮৭ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৭২৮ টাকা নির্ধারণ করেছে।তবে সরকারি এই মূল্য নির্ধারণের পরও বাজারে এর কোনো ছিটেফোঁটা নেই। বরং আরও ২-৩শ টাকা বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে এলপিজি সিলিন্ডার। উপজেলার বিভিন্ন বাজারে সরকারী নির্ধারণকৃত দামের চেয়ে চড়া দামে কিনতে হচ্ছে এলপিজি।সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় ১২ কেজি গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রয় করছেন ২ হাজার থেকে ২২শ টাকায়।সাধারন খেটে খাওয়া মানুষ গুলো পড়েছেন চরম বিপাকে। অথচ কিছু দিন আগে সরকার নির্ধারন করে দিয়েছে ১২ কেজি সিলিন্ডার দাম ১৭২৮ টাকা।
গ্যাস সিলিন্ডার নিতে আসা শাহ আলম বলেন,কিছু দিন আগেও এই সিলিন্ডার ১৪৫০ টাকায় নিয়েছি আজকে ২ হাজার টাকায় নিতে হলো। তিনি আফসোস করে বলেন, এ দেশের ব্যবসয়িক সিন্ডিকেটের কাছে আমরা সাধারণ মানুষ অসহায়।গ্যাস কিনতে আশা গৃহিণী রেজওয়ান খাঁন বলেন, যুদ্ধের অজুহাত দেখিয়ে আগে থেকেই সব কিছুর দাম বাড়িয়ে দেন অসাদু ব্যবসায়ীরা, সব কিছুর দাম এভাবে বাড়তে থাকলে আমরা নিম্ন মধ্যবিত্তদের খাদ্য ঘাটতিতে থাকতে হবে।এ দিকে জানতে চাইলে বিক্রেতারা বলছেন, কোম্পানিগুলো বেশি দামে সিলিন্ডার বিক্রি করছে।ফলে খুচরা পর্যায়ে বাড়তি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।
খুচরা বিক্রেতারা বলেন, আমাদের কাছে বাড়তি দামে কেনার বিষয়ে সকল প্রমাণাদি আছে। সরকার এবং কোম্পানির মাঝেই সমস্যা। তারা বিক্রেতা ও ক্রেতাদের মুখোমুখি ঠেলে দিয়েছে।সাধারণত জনগণের অভিযোগ তেল গ্যাসসহ যে সকল নিত্য পণ্যের দাম সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে ও বেশি দামে বিক্রি করছেন যে সকল অসাদু ব্যবসায়ীরা তাদের চিহ্নিত করে আইনের আওয়তায় এনে কঠিন শাস্তি নিশ্চিত করতে পারলে এ সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া যেতে পারে। কয়েকজন সুধীজনের সাথে কথা হলে তারা জানান,নিয়মিত বাজার মনিটরিং এর ব্যবস্থা করতে ।পারলে জনগণ উপকৃত হবে।

