ঢাকাসোমবার , ১৩ এপ্রিল ২০২৬
আজকের সর্বশেষ খবর

নববর্ষ বরণ ঘিরে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে উৎসবের আমেজ, শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত শিক্ষার্থীরা


এপ্রিল ১৩, ২০২৬ ৮:০৮ অপরাহ্ণ
Link Copied!

ফজলে হাসান (রাবি) প্রতিনিধি:   বাংলা নববর্ষের প্রথম দিন পহেলা বৈশাখকে বরণ করে নিতে প্রস্তুতিতে ব্যস্ত হয়ে উঠেছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস। প্রতি বছরের মতো এবারও বর্ণিল আয়োজনের মাধ্যমে নববর্ষকে স্বাগত জানাতে নানা কর্মসূচি হাতে নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠন।ক্যাম্পাসজুড়ে চলছে উৎসবের আমেজ। চারুকলা অনুষদের শিক্ষার্থীরা দিন-রাত পরিশ্রম করে তৈরি করছেন বিভিন্ন রঙিন মুখোশ, প্রতীকী ভাস্কর্য ও পাপেট। এসব শিল্পকর্ম নিয়ে বের হবে ঐতিহ্যবাহী মঙ্গল শোভাযাত্রা, যা বরাবরের মতোই আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন আবাসিক হল ও বিভাগগুলো নিজস্ব আয়োজনে অংশ নিচ্ছে। শিক্ষার্থীরা প্রস্তুত করছে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, যেখানে থাকবে গান, নৃত্য, আবৃত্তি ও নাট্য পরিবেশনা। বিশেষ করে বাংলা সংস্কৃতির ঐতিহ্যবাহী সংগীত ও লোকজ উপস্থাপনা এই আয়োজনকে আরও প্রাণবন্ত করে তুলবে।পহেলা বৈশাখের দিন সকালেই ক্যাম্পাসে শুরু হবে দিনব্যাপী উৎসব। শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে পুরো ক্যাম্পাস পরিণত হবে এক মিলনমেলায়। অনেকে পরবেন লাল-সাদা পোশাক, যা বাঙালির চিরায়ত ঐতিহ্যের প্রতীক।এবারের নববর্ষ বরণ নিয়ে চারুকলা অনুষদের ভাস্কর্য বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী কল্যাণী বলেন, ‘এবারের বৈশাখে ধরনের মুখোশ, বাংলা নববর্ষের প্রবর্তক মুঘল সম্রাট আকবরের প্রতিকৃতি,  বড় একটা ইলিশ মাছ, টমটম গাড়ি, ও ঘোড়া থাকবে যা বাংলার ঐতিহ্যকে বহন করে।

তাছাড়াও থাকছে লক্ষ্মী সরা, শখের হাঁড়ি, বিভিন্ন ধরনের মুখোশ।’তিনি আরো বলেন, ‘এবার বৈশাখ আসলে আমাদের পরিবেশের অনুকূলেই হচ্ছে, এজন্য আমরা অনেক জাঁকজমকভাবে করছি। বিগত কয়েক বছর থেকে এভাবে করা হয়নি। সব মিলিয়ে অনেক সুন্দর উপভোগ করছি। আশা করছি অনেক ভালো হবে।’চারুকলা অনুষদের আরেক শিক্ষার্থী বলেন, ‘আমাদের এখানে বিভিন্ন কারণে বিগত পাঁচ সাত বছর ওইভাবে বৈশাখ হয় না। এবার বৈশাখটা হচ্ছে। আমরা যতটা পারছি বৈশাখটা এবার সুন্দরভাবে করার চেষ্টা করছি।’সার্বিক বিষয়ে পহেলা বৈশাখ উদযাপন কমিটির সদস্য ও চিত্রকলা, প্রাচ্যকলা ও ছাপচিত্র বিভাগের অধ্যাপক হুমায়ূন কবির বলেন, ‘আমরা মূলত চাই বাংলাদেশী ও বাঙালি সকলের শান্তি ও মঙ্গলময় দিন অতিবাহিত হোক। অতীতের যত গ্লানি আছে তা মুছে ফেলে সৃষ্টিকর্তা আমাদের আগামীকে আরও সুন্দর ও আনন্দময় করুক। সেই আকাঙ্ক্ষা নিয়েই আমাদের এই পহেলা বৈশাখ।

আর প্রতিবছরের ন্যায় এবারও আমরা পহেলা বৈশাখ উদযাপন করছি। এবারে বৈশাখে আমাদের বাঙালির অতীত ইতিহাস ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য গুরুত্বের সহিত স্থান পেয়েছে।’তিনি বলেন, ‘বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতি ও বাংলাদেশের পরিস্থিতিতে আমরা দেখছি তেলের সংকট বিকট আকার ধারণ করেছে। সেই পরিপ্রেক্ষিতে আমরা ঘোড়ার গাড়িকে এবারে শোভাযাত্রায় স্থান দিয়েছি। যেটা আমাদের শিক্ষা দেয় অতীতে আমাদের পূর্বপুরুষরা তেল ছাড়াও চলাচল করেছে। সেই অতীত স্মৃতিকে আমরা নতুন করে তুলে ধরার চেষ্টা করেছি। এছাড়া মৃৎপাত্রে অলংকৃত ও শখের হাড়ি স্থান পেয়েছে। এই শখের হাড়ি রাজশাহী অঞ্চলের ঐতিহ্য বহন করে। আর এটার সামাজিক ও অর্থনৈতিক গুরুত্ব অপরিসীম।’

✅ আমাদের প্রকাশিত কোন সংবাদের বিরুদ্ধে আপনার অভিযোগ  বা পরামর্শ থাকলে ই-মেইল করুনঃ dailyvorerkhabor@gmail.com❌ বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।