ফরহাদ হোসাইন (লক্ষ্মীপুর) প্রতিনিধি: লক্ষ্মীপুরে ঘুমন্ত ছেলেসহ ৩ জনকে কুপিয়ে ছাদ থেকে লাফ দিয়ে অবসরপ্রাপ্ত ট্রাফিক পুলিশ কনস্টেবল নাছির আহমদের (৫৫) মৃত্যু হয়েছে।সোমবার (১৩ এপ্রিল) দুপুরে লক্ষ্মীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) হোসাইন মোহাম্মদ রায়হান কাজেমী ঘটনা নিশ্চিত করেন। এর আগে সকালে লক্ষ্মীপুর পৌর শহরের ৫নং ওয়ার্ড বাঞ্চানগর এলাকার পেশকার বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।নিহত কনস্টেবল নাছির চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার পূর্ব এখলাসপুর গ্রামের আরশাদ আলীর ছেলে। আহত স্বপন বাঞ্চানগর এলাকার মৃত গোলাম রহমানের ছেলে ও অপর আহত নাছির একই বাড়িতে ভাড়া থাকেন, তার বাবার নাম আব্দুল মান্নান। তিনি একটি বেসরকারি কোম্পানির সেলস অফিসার।
আহতদের স্বজন ও স্থানীয়রা জানায়, নাছির ট্রাফিক পুলিশ কনস্টেবল ছিলেন। গত বছরের আগস্টে তিনি চাকরি থেকে অবসরে যান। তার বড় ছেলে প্রতিবন্ধী। তাকে নিয়ে নাছিরের স্ত্রী গ্রামের বাড়িতে বেড়াতে যায়। গত রাতে নাছির ও তার ছেলে ইমরান বাসায় ছিলেন। এরমধ্যে নাছির অসুস্থ হয়ে পড়ে। রাতে ছেলে তাকে ওষুধ এনে খাইয়েছে। সকালে হঠাৎ ঘুমন্ত অবস্থায় ইমরানকে দা দিয়ে এলোপাতাড়ি কোপায় নাছির। একপর্যায়ে ইমরান বিবস্ত্র ও রক্তাক্ত অবস্থায় বাসা থেকে বের হয়ে আসলে প্রতিবেশী স্বপন তাকে লুঙ্গি পড়িয়ে দিতে যায়।
তারা আরও জানায়, এসময় নাছির দা দিয়ে স্বপনকেও এলোপাতাড়ি কুপিয়ে আহত করে। ঘটনাটি দেখতে পেয়ে নাছির নামে আরেক ব্যক্তি তাদেরকে বাঁচাতে এগিয়ে আসেন। কনস্টেবল নাছির তাকেও কুপিয়ে আহত করে। পরে কনস্টেবল নাছির ৩ তলা ভবন থেকে লাফিয়ে আহত হয়। তাকেসহ অন্যান্য আহতদের উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। প্রায় ৩ ঘন্টা চিকিৎসাধীন থাকার পর কনস্টেবল নাছির মারা যায়। আহত স্বপন ও ইমরানকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় প্রেরণ করা হয়েছে। অপর আহত নাছিরকে সদর হাসপাতালে ভর্তি রাখা হয়েছে।
সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) অরুপ পাল বলেন, আহত অবস্থায় ৪ জনকে হাসপাতালে আনা হয়। এরমধ্যে কনস্টেবল নাছির চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়। আহত অন্যদের মধ্যে ২ জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।লক্ষ্মীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) হোসাইন মোহাম্মদ রায়হান কাজেমী জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, অভিযুক্ত পুলিশ সদস্য মানসিক ভারসাম্যহীন ছিলেন। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

