মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি: মুন্সীগঞ্জে সিভিল সার্জন কার্যালয়ের স্টেনোটাইপিস্ট মো মিজানুর রহমানের ঘুষ গ্রহণের ভিডিও ভাইরাল হওয়ার এবং ১৫ দিন ছুটি নিয়ে এক বছর কর্মস্থলে অনুপস্থিতি থাকার পর বিভাগীয় শোকজের পরও মিজানুর রহমান স্বপদে বহাল রয়েছে। এ নিয়ে জেলা জুড়ে আলোচনা সমালোচনা তুঙ্গে। সকলের প্রশ্ন একজন তৃতীয় শ্রেণির সরকারি কর্মচারীর খুঁটির জোর কোথায়।স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মী জানান, অনিয়ম, দূর্নীতি ও ঘুষ কান্ডের পরও যদি একজন তৃতীয় শ্রেণির সরকারি কর্মচারী রোষানলে পড়ে সাংবাদিকদের মামলার কারণে হয়রানি হতে হয় এটা দেশ ও জাতির জন্য লজ্জার। সচেতন মহলের দাবী আর কত দূর্নীতি ও অনিয়ম হলে একজন মিজানুর রহমান শাস্তির আওতায় আসবে। নাকি তার কৌশলি মামলায় পড়ার ভয়ে সাংবাদিকগণ সত্য প্রচারে পিছিয়ে যাবে। সরকার কিংবা কর্তৃপক্ষ তাহলে কি শুধু নিরব হয়ে তাকিয়ে দেখবে।
সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্য সুত্রে জানা যায়, গত ২২ সালের ২০ শে সেপ্টেম্বর ১৫ দিনের ছুটি নিয়ে ২২ সালের ১০ ই অক্টোবর থেকে ২৩ সালের নভেম্বর পর্যন্ত মোট ১ বছর ১ মাস ৫ দিন কর্মস্থলে অনুপস্থিতি ছিলেন। সে কারণে তার বিরুদ্ধে তদন্ত পূর্বক বিভাগীয় শোকজ করার পরেও অদৃশ্য কারণে স্বপদে বহাল রয়েছে। এ নিয়ে তৎকালীন সময় ২৩ সালের জানুয়ারি ১০ জানুয়ারি “দৈনিক সভ্যতার আলো” পত্রিকায় “মুন্সীগঞ্জ সিভিল সার্জন কার্যালয়ের স্টেনোটাইপিস্ট মো মিজানুর রহমান সৌদি কারাগারে” শিরোনাম সংবাদ প্রকাশ হয়।এছাড়াও, চলতি বছরের গত মার্চের ১০ তারিখে স্টেনোটাইপিস্ট মো মিজানুর রহমানের ঘুষ গ্রহণের ভিডিও সংক্ষিপ্ত কথোপকথন বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়। যেখানে বলতে শোনা যায় ৭০ হাজার টাকার কথা ছিলো। যিনি ঘুষ দিচ্ছেন তিনি বলেন স্যার ৫০ হাজার আপাতত রাখেন। এরপর মো: মিজানুর রহমান বলেন ও এটা বলেন।
যুগান্তর পত্রিকার স্টাফ রিপোর্টার আরিফ উল ইসলাম বলেন, ঘুষ নেওয়ার ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর ওই কর্মচারী স্বপদে বহাল থাকে কিভাবে। এর আগেও ওই কর্মচারী বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ আছে। ওল্টো সে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলার করেছে। তার বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।প্রথম আলো পত্রিকার মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি ফয়সাল আহমেদ বলেন, নানা অনিয়ম ও ঘুষ কান্ডে ওই কর্মচারীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। যদি কেউ এমন অপরাধের পরও কেউ ছাড় পায়, তাহলে এমন অপরাধ বাড়তেই থাকবে। আমরা সব সময় আমাদের সহকর্মীদের পক্ষে আছি। সকল অসৎ কর্মচারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।আর টিভির মুন্সীগঞ্জ পশ্চিম প্রতিনিধি হামিদুল ইসলাম লিংকন বলেন, এতো স্বচ্ছ প্রমাণ থাকার পরও কিভাবে একজন ঘুষ গ্রহণকারী কর্মচারী স্বপদে বহাল থাকে। এই কর্মচারী শত অনিয়মের পর স্বপদে বহাল থাকে। তার বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
দূর্নীতিবাজ ঘুষ গ্রহণকারী কর্মচারীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া না হলে। স্বাস্থ্য বিভাগ ও সরকারের স্বচ্ছতা প্রশ্নবিদ্ব হবে। এই অসৎ কর্মচারীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া না হলে আগামীতে সাহসী সাংবাদিকতা হুমকি মধ্যে পড়বে।এ বিষয়ে আবু সাঈদ দেওয়ান সৌরভ বলেন, স্টেনোটাইপিস্ট মিজানুর রহমান একজন চিহ্নিত ঘুষখোর কর্মচারী। তার বিরুদ্ধে আরও নানান অভিযোগ রয়েছে। আমার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ ভিওিহীন। সে মিথ্যা মামলা দিয়ে সাংবাদিকদের হয়রানি করার জন্যই মামলার আবেদন করেছে। যেন কোন সংবাদকর্মী তার অনিয়ম ও দূর্নীতির বিরুদ্ধে কথা না বলে। এমন অসৎ কর্মচারীর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

