ঢাকামঙ্গলবার , ২৪ মার্চ ২০২৬

মাছ লুট চাঁদাবাজি ও মিথ্যা ‘নারী নির্যাতন’ মামলা দিয়ে হয়রানির প্রতিবাদে ভুক্তভোগী পরিবারের সম্মেলন


মার্চ ২৪, ২০২৬ ৯:৩২ অপরাহ্ণ
Link Copied!

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি:   ​২৪ মার্চ, মঙ্গলবার বেলা ১১ টার সময় চুয়াডাঙ্গা জেলার জীবননগর উপজেলার রায়পুর গ্রামের দোহারপাড়া নিজ বাড়িতে ভুক্তভোগী পরিবার গুলো একত্রিত হয়ে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন। ​সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে জানানো হয়,জাহিদুল ইসলাম ওরফে জেহের আলী(৪৮) পিতা মৃত আজেহার আলী সরকারি নিয়ম মেনে ডিসিআর কেটে ৩৩ বিঘা জলাশয়ে মাছ চাষ করে আসছিলেন। কিন্তু কবির হোসেন ও তার সহযোগীরা বেআইনিভাবে উক্ত জলাশয়ে প্রবেশ করে লক্ষ লক্ষ টাকার মাছ লুট করে নিয়ে যায়। এই মাছ লুণ্ঠনের ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হলে, নিজেকে রক্ষা করতে কবির হোসেন অত্যন্ত সুকৌশলে তার নিজ স্ত্রীকে দিয়ে ভুক্তভোগী পরিবারের নাবালক কলেজ পড়ুয়া সন্তান রাসেল (১৭) এর বিরুদ্ধে একটি সাজানো ও মিথ্যা ‘নারী নির্যাতন’ মামলা দায়ের করেন যার মামলা নম্বর ফৌজদারি কার্যবিধি ১৮৯৮ এর ধারা ১৫৪ অনুসারে জীবননগর থানার মামলা নম্বর (০৮) ধারা ৯(৪)(খ) নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ তৎসহ ৩০৭/৩২৬ পেনাল কোড ১৮৬০।​মাছ লুণ্ঠনের ঘটনায় অভিযুক্ত কবির হোসেন (৪০)পিতা মৃত মসলেম মুন্সী সহ তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে চুয়াডাঙ্গা বিজ্ঞ আদালতে ইতিমধ্যে৪২৭/৩৮৫/৩৮৬/৩২৩/৩২৬/৩০৭/৩৬৫/৫০৬(।।) দঃ বিঃ মোতাবেক মামলা দায়ের করেন ভুক্তভোগী পরিবার।প্রশাসনের নিকট ভুক্তভোগী পরিবার গুলোর দাবি কবির হোসেন এর বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ,
সাজানো ও ভিত্তিহীন ‘নারী নির্যাতন’ মামলা অবিলম্বে প্রত্যাহার করা।ডিসিআরকৃত সরকারি জলাশয়ে জাহিদুল ইসলাম জেহের আলীর জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান।​সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, এলাকায় প্রভাব খাটিয়ে এবং মিথ্যা মামলার ভয় দেখিয়ে সাধারণ মানুষকে হয়রানি করা হচ্ছে। একই গ্রামের মৃত আমান আলীর ছেলে আব্দুল গফুর (৪৯) বলেন আমি একজন ভ্যান চালক জায়গা জমি নেয়। ভূমিহীন হিসেবে সরকারি জমিতে থাকি। যে জমিতে থাকি সে জমি রেজিষ্ট্রেশন করে দিবে বলে কবির মিথ্যা আশ্বাসে আমার নিকট থেকে ২ লক্ষ ৪৩ হাজার টাকা নেন।টাকা চাইলে প্রাণনাশের হুমকি। পরবর্তীতে আমি টাকা না পেয়ে কবিরের বিরুদ্ধে বিজ্ঞ আদালতে মামলা দায়ের করি। আব্দুল হামিদের ছেলে কবির হোসেন (৪০)বলেন আমার নিকট থেকে ৩০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে। এরপর আবার ২০ হাজার টাকা দাবি করে। মোট ৫০ হাজার টাকা দেওয়ার পরেও আবার রায়পুর বাজারের দোকান ভাঙচুর করে বলে ব্যবসা করতে পারবি না। ষাটোর্ধো আব্দুল ছাত্তার পিতা মৃত সুরুজ মিঞা জানান আমি ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দিয়েও কবিরের হাত থেকে রেহাই পায়নি। তার কারণে রায়পুরের মানুষ অতিষ্ঠ। সে বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে টাকা হাতিয়ে নেই। চাইলে শুরু হয় বিভিন্ন হামলা মামলার হুমকি। সইতে না পেরে রাস্তায় দাঁড়িয়ে আজকের এই সংবাদ সম্মেলন সহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবার গুলো প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জোর দাবি জানান। অন্যথায় গ্রামবাসী বৃহত্তর আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবে।এবিষয়ে যার বিরুদ্ধে অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন করা হয়েছে সেই কবির হোসেন এর নিকট জানতে চাইলে তিনি জানান এগুলো সব মিথ্যা বানোয়াট ভিত্তিহীন।

✅ আমাদের প্রকাশিত কোন সংবাদের বিরুদ্ধে আপনার অভিযোগ  বা পরামর্শ থাকলে ই-মেইল করুনঃ dailyvorerkhabor@gmail.com❌ বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।