পাবনা জেলা প্রতিনিধি: পাবনার বেড়া উপজেলায় ক্লুলেস অটোরিকশা চালক ফজলুল হক (৪৫) হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। পরকীয়া ও পারিবারিক কলহের জেরে নিহতের স্ত্রী মোছাঃ জোছনা খাতুন তার সাবেক স্বামী ও সহযোগীকে নিয়ে এই হত্যাকাণ্ড ঘটান বলে জানিয়েছে পুলিশ।সোমবার (৩০ মার্চ) ভোরে বিশেষ অভিযানে মামলার প্রধান আসামীসহ তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃতরা হলেন— নিহতের স্ত্রী মোছাঃ জোছনা খাতুন (৪৪), জোছনার সাবেক স্বামী ও মূল পরিকল্পনাকারী মোঃ মানিক (৪৭) এবং তার সহযোগী মোঃ খোকন প্রামানিক (৪২)।পুলিশ ও মামলা সূত্রে জানা যায়, গত ১৯ মার্চ ২০২৬ তারিখ সন্ধ্যায় অটোরিকশা নিয়ে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হন ফজলুল হক। পরদিন সকালে বেড়া থানাধীন বড় বশিলা এলাকার একটি ধানক্ষেত থেকে তার গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় বেড়া থানায় একটি হত্যা মামলা (মামলা নং-০৩) দায়ের করা হলে তদন্তে নামে পুলিশ।
তদন্তকারী কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মোঃ লালবুর রহমান পিপিএম জানান, প্রায় ২০-২৫ বছর আগে ফজলুল হকের সাথে জোছনা খাতুনের বিয়ে হয়। তাদের দুটি সন্তানও রয়েছে। তবে কয়েক বছর আগে জোছনা লটারির টিকিট বিক্রির সময় মানিকের সাথে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন এবং ফজলুলকে তালাক দিয়ে মানিককে বিয়ে করেন। পরবর্তীতে সন্তানদের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে মানিককে তালাক দিয়ে পুনরায় ফজলুলের সংসারে ফিরে আসেন জোছনা।এতে ক্ষিপ্ত হয়ে মানিক বিভিন্ন সময় ফজলুলকে হত্যার হুমকি দিয়ে আসছিলেন। ফজলুলের কাছে ফিরে আসলেও জোছনা গোপনে মানিকের সাথে যোগাযোগ বজায় রাখতেন। সম্প্রতি এ নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া হলে জোছনা ও মানিক মিলে ফজলুলকে হত্যার চূড়ান্ত পরিকল্পনা করেন। এই পরিকল্পনায় যুক্ত করা হয় মানিকের বন্ধু খোকনকে, যার সাথে ফজলুলের পূর্ব শত্রুতা ছিল।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, গত ১৯ মার্চ রাতে নির্জন বিলের মাঠে জোছনা ও খোকনের সহায়তায় মানিক ধারালো দা দিয়ে ফজলুলের গলায় কোপ দিয়ে তাকে হত্যা করে। মৃত্যু নিশ্চিত করে লাশ ধানক্ষেতে ফেলে তারা পালিয়ে যায়।বেড়া মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নিতাই চন্দ্র সরকার জানান, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অত্যন্ত স্বল্প সময়ে এই ক্লুলেস হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করা সম্ভব হয়েছে। গ্রেফতারকৃত তিন আসামীকে আজ সোমবার বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

