ঢাকাশনিবার , ৭ মার্চ ২০২৬
আজকের সর্বশেষ খবর

তেলের ২ জাহাজ আসছে পরশু: জ্বালানি মন্ত্রী


মার্চ ৭, ২০২৬ ৮:৩৪ অপরাহ্ণ
Link Copied!

স্টাফ রিপোর্টার:   মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি তেল সরবরাহ নিয়ে জনমনে যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, তা নিয়ে আতঙ্কিত না হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। তিনি জানান, দেশে জ্বালানি তেলের পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে এবং সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সরকার বিভিন্ন ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।শনিবার (৭ মার্চ) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ৪ নম্বর গেটে উপস্থিত সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় মন্ত্রী এসব কথা বলেন। তিনি জানান, তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে এবং বাজারে কোনো ধরনের অনিয়ম ঠেকাতে আগামীকাল (৮ মার্চ) থেকে ভ্রাম্যমাণ মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হবে।

মন্ত্রী বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি বাজারে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এ কারণে মানুষের মধ্যে স্বাভাবিকভাবেই কিছুটা উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তবে দেশের জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই বলে তিনি জোর দিয়ে উল্লেখ করেন।তিনি বলেন, “আমরা পরিস্থিতি বিবেচনা করে একটি রেশনিং ব্যবস্থা চালু করেছি। কারণ যুদ্ধ কতদিন চলবে, তা এখনই বলা সম্ভব নয়। এই অনিশ্চয়তার কথা মাথায় রেখে আগাম প্রস্তুতি হিসেবে আমরা কিছুটা সঞ্চয় করার চেষ্টা করছি। কিন্তু অনেক মানুষ রেশনিংয়ের বিষয়টি ভুলভাবে বুঝে আতঙ্কিত হয়ে তেল মজুত করা শুরু করেছেন। এতে অপ্রয়োজনীয় ভিড় তৈরি হচ্ছে।”

জ্বালানি মন্ত্রী আরও জানান, সরকারের কাছে পর্যাপ্ত জ্বালানি মজুদ রয়েছে এবং নিয়মিতভাবে পেট্রোল পাম্পে তেল সরবরাহ করা হচ্ছে। তিনি বলেন, “আগামী ৯ মার্চ আরও দুটি জ্বালানি তেলবাহী ভেসেল দেশে পৌঁছাবে। ফলে তেলের সরবরাহ নিয়ে কোনো ধরনের ঘাটতির আশঙ্কা নেই। জনগণ স্বাভাবিকভাবে পাম্পে গেলে তেল পাবেন। সারা রাত লাইন দিয়ে দাঁড়িয়ে থাকার কোনো প্রয়োজন নেই।”তিনি বিশেষভাবে গণমাধ্যমের প্রতিও আহ্বান জানিয়ে বলেন, জনগণের মধ্যে যেন অযথা আতঙ্ক না ছড়ায় সে বিষয়ে মিডিয়াকে সচেতন থাকতে হবে। সঠিক তথ্য জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্য সাংবাদিকদের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।

এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, প্রতিটি পেট্রোল পাম্পের নিজস্ব ব্যবস্থাপনা রয়েছে এবং নির্দিষ্ট পরিমাণ তেল সরবরাহ করা হচ্ছে। যদি কোনো পাম্প একদিনেই দ্রুত তেল বিক্রি করে ফেলে, তাহলে ওই দিন আর নতুন করে তেল পাবে না এবং পরবর্তী দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। এ বিষয়টি নজরদারির জন্য সরকার নিয়মিত মনিটরিং করছে।তিনি আরও বলেন, “যাতে কোনো পাম্পে অনিয়ম না হয় এবং কেউ অতিরিক্ত তেল বিক্রি বা মজুত করতে না পারে, সে জন্য আমরা আগামীকাল থেকে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা শুরু করব। প্রয়োজনে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

বর্তমানে মোটরসাইকেলের জন্য দুই লিটার করে তেল রেশনিং করা হচ্ছে। এ কারণে অনেক চালককে একদিন পরপর পাম্পে যেতে হচ্ছে—এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, আপাতত এই সীমা বাড়ানোর পরিকল্পনা নেই।তিনি বলেন, “আমাদের কাছে পর্যাপ্ত মজুদ থাকলেও যুদ্ধ পরিস্থিতি কতদিন চলবে তা কেউ বলতে পারে না। তাই আমাদের হিসাব করে চলতে হবে এবং ভবিষ্যতের জন্য কিছু সঞ্চয় রেখে দিতে হবে। মূলত সেই প্রস্তুতির অংশ হিসেবেই রেশনিং ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে।”সবশেষে তিনি আবারও জনগণকে আশ্বস্ত করে বলেন, দেশে জ্বালানি তেলের কোনো ঘাটতি নেই এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সরকার প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। তাই অযথা আতঙ্কিত না হয়ে স্বাভাবিকভাবে তেল ব্যবহারের জন্য তিনি সবাইকে আহ্বান জানান।

✅ আমাদের প্রকাশিত কোন সংবাদের বিরুদ্ধে আপনার অভিযোগ  বা পরামর্শ থাকলে ই-মেইল করুনঃ dailyvorerkhabor@gmail.com❌ বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।