

স্টাফ রিপোর্টার: বাঁচানো গেল না চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে বোটানিক্যাল গার্ডেন ও ইকোপার্কের জঙ্গল থেকে গলাকাটা অবস্থায় উদ্ধার হওয়া শিশু ইরা (৭)। টানা চিকিৎসা ও একাধিক অস্ত্রোপচারের পরও শেষ পর্যন্ত তাকে আর ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়নি। মঙ্গলবার (৩ মার্চ) ভোর সাড়ে চারটার দিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শিশুটির চাচা রমিজ আলী।এর আগে গত রবিবার দুপুরে ইকোপার্কের দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় গুরুতর আহত ও রক্তাক্ত অবস্থায় শিশুটিকে দেখতে পান স্থানীয় কয়েকজন যুবক। সে সময় তার গলা কাটা ছিল এবং শরীরজুড়ে আঘাতের চিহ্ন দেখা যায়। দ্রুত তাকে উদ্ধার করে প্রথমে সীতাকুণ্ড উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তার অবস্থা আশঙ্কাজনক বিবেচনায় উন্নত চিকিৎসার জন্য দ্রুত চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান।
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করার পর চিকিৎসকরা তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখেন। রবিবার রাতেই তার গলায় জরুরি অস্ত্রোপচার করা হয়। পরদিন সোমবার তার শরীরে আরও দুই দফা অস্ত্রোপচার সম্পন্ন করা হয়। চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, অস্ত্রোপচারের পর কিছু সময়ের জন্য তার শারীরিক অবস্থার সামান্য উন্নতি লক্ষ্য করা গিয়েছিল। এতে পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে কিছুটা আশার সঞ্চার হয়েছিল।কিন্তু সোমবার গভীর রাতে হঠাৎ করে তার শ্বাসনালিতে জটিলতা দেখা দেয়। শ্বাসপ্রশ্বাস স্বাভাবিক রাখতে সমস্যা শুরু হলে দ্রুত তাকে নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্রে (আইসিইউ) স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসকরা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালালেও শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। ভোর সাড়ে চারটার দিকে দায়িত্বরত চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, শিশুটি ধর্ষণের শিকার হয়েছিল। তার শরীরে নির্যাতনের স্পষ্ট আলামত পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় চিকিৎসক ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বিষয়টি সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অবহিত করেন। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে কর্মরত চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের উপ-পরিদর্শক আলাউদ্দীন তালুকদার শিশুটির মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।ঘটনার সূত্রপাত হয় গত সোমবার সকালে, যখন সীতাকুণ্ড পৌর সদরের ইকোপার্কের দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় চন্দ্রনাথ মন্দির সড়ক সংস্কারের কাজে নিয়োজিত শ্রমিকেরা শিশুটিকে দেখতে পান। তারা প্রথমে তার কণ্ঠ থেকে শব্দ শুনে কাছে গিয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় তাকে দ্রুত উদ্ধার করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়।
এ ঘটনায় গত ১ মার্চ রাতে শিশুটির মা বাদী হয়ে সীতাকুণ্ড থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মহিনুল ইসলাম জানিয়েছেন, অজ্ঞাতপরিচয় আসামিদের বিরুদ্ধে প্রথমে অপহরণ ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে মামলা করা হয়েছিল। তবে শিশুটির মৃত্যুর পর মামলাটি এখন হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হবে। পুলিশ ইতোমধ্যে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে এবং জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।নৃশংস এ ঘটনায় স্থানীয় এলাকাবাসীর মধ্যে চরম ক্ষোভ ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে। একটি নিষ্পাপ শিশুর এমন মর্মান্তিক পরিণতি পুরো এলাকাকে স্তব্ধ করে দিয়েছে। পরিবার ও স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে পরিবেশ। এখন সবার দাবি, দ্রুত প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হোক।
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদকঃ এ্যাড. নজরুল ইসলাম । ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | দৈনিক ভোরের খবর,খন্দকার এন্টারপ্রাইজ লিমিটেডের একটি প্রতিষ্ঠান। অফিসঃ ১৫০ নাহার ম্যানসন (৫ম তলা) মতিঝিল বানিজ্যিক এলাকা,ঢাকা -১০০০। বার্তাকক্ষ-+৮৮০১৭৪৫-৩৫৪২৭৭