

মো আলামিন (সাভার) থানা প্রতিনিধি: সন্তানদের বড় করে ডাক্তার বানাবেন, তারা মানুষের সেবা করবে—এমনই এক বুকভরা স্বপ্ন ছিল সাভারের পক্ষাঘাতগ্রস্তদের পুনর্বাসন কেন্দ্রের (সিআরপি) সিনিয়র অকুপেশনাল থেরাপিস্ট আয়েশা আক্তার সোমার। কিন্তু দৌলতদিয়া ফেরিঘাটের এক নিমিষের দুর্ঘটনায় সেই স্বপ্ন এখন পদ্মার অতলে। আট মাস বয়সী শিশুপুত্র আরসানসহ আয়েশার নিথর দেহ উদ্ধারের পর কান্নায় ভেঙে পড়েছে পরিবার ও সহকর্মীরা। গত বুধবার (২৫ মার্চ) দিবাগত রাতে দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে ‘সৌহার্দ্য পরিবহনের’ একটি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পদ্মা নদীতে ডুবে যায়।
বাসের ভেতরেই আটকা পড়েন আয়েশা ও তার কোলের শিশু আরসান। দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর রাত ১২টার দিকে মা আয়েশা এবং ভোর ৪টার দিকে শিশু আরসানের মরদেহ উদ্ধার করে ডুবুরি দল। নিহত আয়েশার স্বামী ও সিআরপি’র সিনিয়র ফিজিওথেরাপিস্ট নুরুজ্জামান জানান, ঈদের ছুটি কাটিয়ে ঝিনাইদহের শৈলকুপা থেকে কর্মস্থলে ফিরছিলেন তারা। বড় সন্তান নওরিনকে নদী দেখানোর জন্য তিনি বাস থেকে নিচে নামার মুহূর্তেই ঘটে যায় দুর্ঘটনা। চোখের সামনেই বাসটি নদীতে তলিয়ে যেতে দেখেন তিনি, কিন্তু স্ত্রী-সন্তানকে বাঁচানোর কোনো সুযোগ পাননি।
আয়েশার বাবা নাসির উদ্দিন জানান, মেধাবী আয়েশা নিজে ডাক্তার হতে চেয়েছিলেন। সরকারি কলেজে সুযোগ না পাওয়ায় তিনি অকুপেশনাল থেরাপিতে পড়াশোনা করেন। নিজের সেই অপূর্ণ স্বপ্ন তিনি সন্তানদের মাধ্যমে পূরণ করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু এক নিমেষেই সব চুরমার হয়ে গেল। বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) দুপুরে সাভারের পাথালিয়া ইউনিয়নের গকুলনগর কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে মা ও ছেলের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর স্থানীয় কবরস্থানে পাশাপাশি দুই কবরে তাদের চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়। এই মর্মান্তিক মৃত্যুতে সাভার সিআরপি ও এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদকঃ এ্যাড. নজরুল ইসলাম । ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | দৈনিক ভোরের খবর,খন্দকার এন্টারপ্রাইজ লিমিটেডের একটি প্রতিষ্ঠান। অফিসঃ ১৫০ নাহার ম্যানসন (৫ম তলা) মতিঝিল বানিজ্যিক এলাকা,ঢাকা -১০০০। বার্তাকক্ষ-+৮৮০১৭৪৫-৩৫৪২৭৭