ঝিনাইদহ প্রতিনিধি: ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুরে সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ ও শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিশেষ অভিযান পরিচালিত হয়েছে। বুধবার (২৫শে মার্চ) দুপুর ১টার সময় উপজেলার বলুহর স্ট্যান্ড সংলগ্ন টোটন ফিলিং স্টেশন এলাকায় এই অভিযান চালানো হয়।অভিযানে নেতৃত্ব দেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. সোহেল রানা। এসময় সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮ এর সংশ্লিষ্ট ধারা লঙ্ঘনের দায়ে ৬ জন মোটরসাইকেল আরোহীকে মোট ৩ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়।সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, নিয়মিত তদারকির অংশ হিসেবে বুধবার দুপুরে বলুহর এলাকায় অবস্থান নেয় ভ্রাম্যমাণ আদালত। এসময় বিভিন্ন মোটরসাইকেলের গতিরোধ করে চালকের লাইসেন্স ও যানবাহনের বৈধ কাগজপত্র যাচাই করা হয়। তল্লাশিকালে দেখা যায়, অনেক চালকের কাছেই প্রয়োজনীয় বৈধ কাগজপত্র নেই।ফলশ্রুতিতে, সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮ এর ৬৬ ও ৯২ ধারায় অপরাধ স্বীকার করায় ৬ জন চালককে তাৎক্ষণিকভাবে মোট ৩ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। জনস্বার্থে পরিচালিত এই অভিযানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করেন।অভিযান শেষে উপস্থিত সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. সোহেল রানা বলেন:”সড়কে শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই আমাদের মূল লক্ষ্য। অনেকেই আইন অমান্য করে নিবন্ধনহীন মোটরসাইকেল চালাচ্ছেন, যা দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে। আমরা আজ সচেতনতামূলক এই অভিযান পরিচালনা করেছি এবং যাদের নথিপত্র সঠিক ছিল না, তাদের আইনের আওতায় এনেছি। নিরাপদ সড়ক বিনির্মাণে আমাদের এই কঠোর অবস্থান ও নিয়মিত তদারকি ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।”ধারা ৬৬ এই ধারা অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি ড্রাইভিং লাইসেন্স ছাড়া পাবলিক প্লেসে গাড়ি চালাতে পারবেন না। যদি কেউ এই আইন অমান্য করেন, তবে তিনি অনধিক ৬ মাসের কারাদণ্ড অথবা অনধিক ২৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হতে পারেন।ধারা ৯২ এই ধারায় ট্রাফিক আইন ও সংকেত মেনে চলার বাধ্যবাধকতা দেওয়া হয়েছে। যেমন—হেলমেট না পরা, উল্টো পথে গাড়ি চালানো বা ট্রাফিক সিগন্যাল অমান্য করা। এই ধারা লঙ্ঘনের শাস্তি হিসেবে অনধিক ৩ মাসের কারাদণ্ড অথবা অনধিক ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে।

