স্টাফ রিপোর্টার: জাতীয় সংসদের স্পিকারকে কোনো নির্দিষ্ট দলের প্রতিনিধি হিসেবে না দেখে পুরো সংসদের অভিভাবক হিসেবে বিবেচনা করার গুরুত্বের উপর গুরুত্বারোপ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে দেওয়া তার শুভেচ্ছা বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের স্বাধীনতাপ্রিয় ও গণতান্ত্রিক মানুষরা এই সংসদের প্রতি গভীর প্রত্যাশা নিয়ে তাকিয়ে আছে। তিনি বলেন, বর্তমান সংসদকে শুধুমাত্র আইন প্রণয়ন বা প্রশাসনিক কাজের জন্য নয়, বরং দেশের এবং জনগণের স্বার্থে অর্থবহ ও প্রভাবশালী করে গড়ে তুলতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে আরও উল্লেখ করেন, স্পিকার এখন থেকে কোনো দলের প্রতিনিধি নয়, বরং পুরো সংসদের অভিভাবক। জাতীয় সংসদের কার্যক্রমের সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ পরিচালনায় তার ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, অতীতে দেশের মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার দমন করা হয়েছিল; রাজনৈতিক কার্যক্রম সীমিত করা হয়েছিল এবং জনগণকে দুর্বল করা হয়েছিল। এমন পরিস্থিতিতে জাতীয় সংসদকে এক ধরনের ক্ষমতার কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছিল, যা জনগণের স্বার্থ লুণ্ঠনের জন্য প্রয়োগ করা হতো।
বিএনপির চেয়ারম্যান হিসেবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, পূর্বের সময়ে যারা সংসদ সদস্য হিসেবে পরিচিত ছিলেন, তারা জনগণের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত ছিলেন না। কিন্তু বর্তমান সংসদ সম্পূর্ণভাবে জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নিয়ে গঠিত। এটি জনগণের সংসদ এবং দেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে এর গুরুত্ব অপরিসীম। তিনি বলেন, বিরোধিতা করা মানেই বিরোধিতার জন্য বিরোধিতা নয়; বরং সুনির্দিষ্ট যুক্তি এবং গঠনমূলক বিতর্কের মাধ্যমে সংসদকে প্রাণবন্ত করা সম্ভব। এই প্রক্রিয়ায় স্পিকারের নিরপেক্ষ ও সক্রিয় ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, জাতীয় সংসদের সদস্যরা সংসদ পরিচালনায় স্পিকারের সর্বোচ্চ সহযোগিতা প্রদান করবেন। বক্তব্যের শেষ দিকে তিনি স্পিকারকে নতুন দায়িত্ব গ্রহণের জন্য সংসদ সদস্যদের পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা, অভিনন্দন ও ধন্যবাদ জানান এবং মহান আল্লাহর দরবারে জাতীয় সংসদের সাফল্য কামনা করেন। এই বক্তব্যে স্পষ্টভাবে দেখা যায় যে, বর্তমান প্রশাসন ও সংসদে জনগণের প্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচিত সদস্যরা কার্যক্রমে জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।

