চট্টগ্রাম প্রতিনিধি: চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে যুবদলের সভাপতি, ভূমিদস্যু সাবেক ইউপি সদস্য মো, আলমগীর তার ভাই মোঃ মোরশেদ ও নুরুন্নবী’র বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী বাহিনীদ্বারা হামলা, লুটপাট ও জোরপূর্বক জায়গা দখলের অভিযোগ এনে এবং জানমালের নিরাপত্তা চেয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছে কুমিরা ইউনিয়নের এক ভুক্তভোগী পরিবার।সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুর সোয়া ১২টায় সীতাকুণ্ড প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ দাবী করেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য খোরশেদ আলম।
লিখিত বক্তব্যে ভুক্তভোগী খোরশেদ আলম বলেন, আমি একজন নিরীহ নাগরিক। আর আমার প্রতিবেশী মোঃ আলমগীর সাবেক মেম্বার ও যুবদলের কুমিরা ইউনিয়ন সভাপতি এবং তার ভাই মোঃ মোরশেদ ও নুরুন্নবী এরা তিনজনই লুটপাটকারী, ভূমিদস্যু ও দখলবাজ প্রকৃতির লোক হয়।তিনি বলেন, মোঃ আলমগীর মেম্বার আমাদের তপশিলভুক্ত সম্পত্তি দীর্ঘদিন যাবৎ জোরপূর্বক দখলের পায়তারা করে আসতেছিল এবং জাল দলিল সৃজন করে উক্ত ভূমির মালিকানা দাবি করে এলাকায় প্রকাশ্যে প্রচারণা করে আসছে।
এর প্রেক্ষিতে তপশিলভুক্ত সম্পত্তি বিবাদীগণ কর্তৃক দখল রোদে আমি সহ অন্যান্য ওয়ারিশগণ বাদী হয়ে বিজ্ঞ আদালতে অপর মোকদ্দমা নং-১৫৪/২৫ দায়ের করি। নিম্ম তপশিলভুক্ত সম্পত্তি চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা ডিগ্রীর জন্য বিজ্ঞ আদালতের বরাবরে আবেদন করি। এই প্রেক্ষিতে বিজ্ঞ আদালত নিম্ম তপশিলভুক্ত সম্পত্তিতে বিবাদীর প্রতি নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন।এর মাঝে গত শনিবার রাত আনুমানিক সাড়ে ১১ টার সময় উপরোক্ত বিবাদীগণ ও অজ্ঞাত নামা ৩০/৩৫ জনকে সাথে নিয়ে বিজ্ঞ আদালতের আদেশ অমান্য করে অনাধিকারভাবে নিম্ম তপশিলভুক্ত সম্পত্তিতে প্রবেশ করে উক্ত সম্পত্তি জোরপূর্বক দখল করার চেষ্টা করে।
বিবাদীগণের জবর দখলে বাধা প্রদান করলে বিবাদীগণ সন্ত্রাসী কায়দায় দলবদ্ধ হয়ে দেশীয় অস্ত্র লোহার রড, গাছের লাঠি, ধারালো অস্ত্র-সস্ত্র নিয়ে আমাদের উপর হামলা করে। আমার পরিবারকে এলোপাতাড়ি কিল, ঘুষি এবং মেরে ফেলার উদ্দেশ্যে লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন অংশে জখম করে এবং আমার ভাইকে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে বিভিন্ন জায়গায় জখম করে। একপর্যায়ে হত্যার উদ্দেশ্যে মাথায় আঘাত করতে গেলে বাম হাত দিয়ে প্রতিহত করায় কনুই এর নিচে হাড় ভেঙ্গে যায়।
তিনি আরও বলেন, ভূমিদস্যু আলমগীর মেম্বার’র নির্দেশে আমাদের মালিকানাধীন মুরগির ফার্ম থেকে দেড় হাজার পিস মুরগি, গরুর ফার্ম থেকে ৮ টি গরু ও ৬টি ছাগল লুট করে নিয়ে যায় এবং আমাদের স্থাপনা গুলো ভেঙ্গে গুড়িয়ে দেয়।তখন আমরা জরুরি সেবা ৯৯৯ ফোন করলে সীতাকুণ্ড মডেল থানা থেকে পুলিশ এসে আমাদেরকে থানা হেফাজতে নিয়ে আসে। আমরা পুলিশের সহায়তায় সীতাকুণ্ড উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে চিকিৎসা গ্রহণ করি।এবং সীতাকুণ্ড মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছি। এ ঘটনায় আমাদের ৪০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়। আমি নিরুপায় হয়ে আমার ও আমার পরিবারের জানমালের নিরাপত্তা চেয়ে আইনি সহায়তা কামনা করছি।

