ঢাকাবুধবার , ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

ভোটের দিন যেসব সেবা বন্ধ থাকবে


ফেব্রুয়ারি ১১, ২০২৬ ১:৩৫ অপরাহ্ণ
Link Copied!

স্টাফ রিপোর্টার:   ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে আগামীকাল বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সারা দেশে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে সরকার ও নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে একাধিক জরুরি বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। এসব বিধিনিষেধের আওতায় যান চলাচল, আর্থিক লেনদেন, দোকানপাট ও পর্যটন কার্যক্রমসহ বিভিন্ন খাতে বিশেষ কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে।

নির্বাচন কমিশন ও সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী, মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) রাত ১২টা থেকে সারা দেশে মোটরসাইকেল চলাচল ৭২ ঘণ্টার জন্য বন্ধ রয়েছে। এই নিষেধাজ্ঞা ভোটের দিন শেষ হওয়া পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। তবে নির্বাচন কমিশনের অনুমোদিত স্টিকারযুক্ত মোটরসাইকেল এ নিষেধাজ্ঞার বাইরে থাকবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, সশস্ত্র বাহিনী, প্রশাসনের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং অনুমোদিত নির্বাচন পর্যবেক্ষকদের ক্ষেত্রেও এ বিধিনিষেধ প্রযোজ্য নয়।

এ ছাড়া বুধবার দিবাগত রাত ১২টা থেকে ভোটগ্রহণের দিন রাত ১২টা পর্যন্ত সারা দেশে ট্যাক্সিক্যাব, পিকআপ, মাইক্রোবাস ও ট্রাক চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। তবে ভোটাররা নিজ নিজ ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার জন্য ব্যক্তিগত গাড়ি (কার) ব্যবহার করতে পারবেন। জরুরি সেবা, ওষুধ ও চিকিৎসাসামগ্রী পরিবহন, প্রয়োজনীয় দ্রব্য সরবরাহ এবং সংবাদপত্র বহনকারী যানবাহন চলাচলে কোনো বাধা থাকবে না। বিদেশগামী ও বিদেশফেরত যাত্রীদের ক্ষেত্রেও বিশেষ ছাড় দেওয়া হয়েছে। পাসপোর্ট, টিকিটসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রদর্শন সাপেক্ষে বিমানবন্দর যাতায়াতে কোনো বাধা থাকবে না।

রাজধানীবাসীর জন্য স্বস্তির খবর হলো—নির্বাচনের দিনও মেট্রোরেল চলাচল স্বাভাবিক থাকবে। ঢাকা মাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের (এমটিসিএল) পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভোটারদের যাতায়াত সুবিধার কথা বিবেচনা করে ১২ ফেব্রুয়ারি মেট্রোরেল স্বাভাবিক সময়সূচি অনুযায়ী চলবে। প্রয়োজনে ভোটগ্রহণের সময় অতিরিক্ত মেট্রো ট্রেন চালানো হবে, যাতে যাত্রীদের ভোগান্তি কমে।

নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আর্থিক লেনদেনেও বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) যেমন বিকাশ, নগদ, রকেটসহ অন্যান্য সেবায় লেনদেনের ওপর নির্দিষ্ট সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। এই নির্দেশনা গত সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) রাত ১২টা থেকে কার্যকর হয়েছে এবং আগামীকাল বৃহস্পতিবার রাত ১১টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত বলবৎ থাকবে। নির্বাচন চলাকালীন অর্থের অপব্যবহার ও অনিয়ম রোধে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

এদিকে নির্বাচন উপলক্ষে রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে বড় বড় দোকান, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ও শপিং মল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ দোকান ব্যবসায়ী মালিক সমিতি। তাদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আজ বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) এবং ভোটের দিন বৃহস্পতিবার এসব প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে। একই সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনার কারণে নির্বাচনী এলাকায় বহিরাগতদের অবস্থানের ওপর নিষেধাজ্ঞা থাকায় পর্যটন ব্যবসায়ীরাও ভোটের দিন দেশের বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্র বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

নির্বাচনে অংশ নেওয়া প্রার্থী ও তাদের নির্বাচনী এজেন্টরা রিটার্নিং কর্মকর্তার অনুমতি ও নির্ধারিত স্টিকার প্রদর্শনের শর্তে একটি করে ছোট যান—যেমন জিপ, কার বা মাইক্রোবাস—ব্যবহার করতে পারবেন। সাংবাদিক ও নির্বাচন পর্যবেক্ষকদের ক্ষেত্রেও অনুমোদন সাপেক্ষে যানবাহন বা মোটরসাইকেল ব্যবহারের সুযোগ থাকবে। নির্বাচন পরিচালনায় দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের যানবাহনও এই বিধিনিষেধের বাইরে থাকবে।

এ ছাড়া টেলিযোগাযোগ সেবা নির্বিঘ্ন রাখতে বিটিআরসি লাইসেন্সপ্রাপ্ত টেলিকম প্রতিষ্ঠানের যানবাহনকে জরুরি সেবার অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ফলে এসব যান চলাচলেও কোনো বাধা থাকবে না।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এসব বিধিনিষেধের মূল উদ্দেশ্য হলো ভোটের পরিবেশ শান্তিপূর্ণ রাখা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং ভোটারদের নিরাপদে ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ নিশ্চিত করা। সরকার ও নির্বাচন কমিশন আশা করছে, আরোপিত এই ব্যবস্থাগুলোর ফলে নির্বাচন সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্যভাবে সম্পন্ন হবে।

✅ আমাদের প্রকাশিত কোন সংবাদের বিরুদ্ধে আপনার অভিযোগ  বা পরামর্শ থাকলে ই-মেইল করুনঃ dailyvorerkhabor@gmail.com❌ বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।