

বেড়া উপজেলা প্রতিনিধি: আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে মৎস্য চাষ করে ব্যাপক সফলতা পেয়েছেন মোঃ শামচুল হক। নিজের ৫ টি পুকুরে সামান্য মূলধন নিয়ে মৎস্য চাষ শুরু করে বর্তমানে তিনি এখন ২২ টি পুকুরে (মোট ২০০ বিঘা ) আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারে মৎস্য চাষ ও মৎস্য উৎপাদন করে বেড়া উপজেলায় নিজেকে সফল মৎস্য চাষী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। সরকার ঘোষিত আমিষ উৎপাদনে ব্যাপক সাফল্য অর্জনে করেন। এখন তিনি মৎস্যচাষীদের কাছে একজন মডেল। তার সফলতা দেখে উপজেলার শিক্ষিত বেকার যুবকদের মধ্যে মাছ চাষে দিন দিন আগ্রহ বাড়ছে।
মোঃ শামসুল হক পাবনা জেলার বেড়া উপজেলার কৈটলা ইউনিয়নের জয়নাগর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি ২০০৭ সাল থেকে সে মৎস্য চাষের সাথে জড়িত। এখন মৎস্য চাষী সামচুল এর স্বপ্ন গ্রামে তার নিজস্ব পুকুরের সাথে একটি আধুনিক মানের মৎস্য হ্যাচারি ও মিনি পার্ক স্থাপন করার। এ লক্ষ্যে তিনি কাজ করে যাচ্ছেন।গতানুগতিক পদ্ধতির বাইরে গিয়ে কোম ঘনত্বে প্রতি শতকে দুই থেকে তিনটিতে কেজি রুই জাতীয় মাছের পোনা চাষের মাধ্যমে এমন সফলতা পাচ্ছেন। পূর্বে অধিক ঘনত্বের প্রতি শতকে কেজিতে ২৫ থেকে ৩০ টি পোনা মজুদ করতেন, এতে আয় অনেক কম হতো। এ বছর হেক্টর প্রতি বার্ষিক উৎপাদন ১২.৫ মে. টন।যার উৎপাদন ব্যায় ৬ কোটি ৮৭ লাখ টাকা।
আয় হয়েছে ৮ কোটি ৫১ লাখ টাকা। সব খরচ বাদ দিয়ে নিট লাভ হয়েছে ১ কোটি ৬৪ লাখ টাকা। লিজকৃত আদর্শ আধেরা পুকুরটি খননের মাধ্যমে দেশিও প্রজাতির বিভিন্ন জাতের মাছ চাষের উপযোগী করে তুলেন। সেই সাথে মাছের বৃহৎ উৎপাদনের স্বার্থে লক্ষাধিক টাকা মূল্যের আধুনিক এ্যাডটর (পানিতে অক্সিজেন তৈরিতে সক্ষম) স্থাপন করেন।প্রতিদিন তিন বেলা উৎপাদিত মাছের জন্য উন্নত মানের খাদ্য দেওয়া হয়। পুকুরের চারপাশে বিভিন্ন জাতের ঔষধি গাছসহ ফলজ ও বনজ গাছ রোপণ এবং পুকুরটিকে আলোকিত রাখতে সার্চলাইটের ব্যবস্থা করা হয়েছে, যেন রাতের আঁধারে উক্ত পুকুরের মূল্যবান মাছ নষ্ট না হয়।
আধুনিক পদ্ধতির এমন তথ্য সম্পর্কে উপজেলা মৎস্য দপ্তর বেড়া পাবনা থেকে শিখছেন বলে তিনি জানান। তিনি এই পদ্ধতিতে মাছ চাষ করে সফলতা পেয়েছেন। তিনি মনে করেন বেড়া উপজেলা মৎস্য অফিস বেকার যুবকদের আত্মনির্ভরশীল করে গড়ে তোলার আতুড়ঘর হিসেবে কাজ করছে। বেড়া উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোঃ মোকাররম হোসেন বলেন এ্যাডাটর ব্যবহার ও কার্প ফ্যাটেনিং মাছ চাষের সর্বশেষ সংযোজন। এ পদ্ধতিতে মাছের জীবনচক্রে কাজ লাগিয়ে কম খাদ্য খরচে আধিক উৎপাদন সম্ভব। শামসুল হক মৎস্য দপ্তরের সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ করে মাছ চাষ করেন বিধায় এমন সাফল্য অর্জন করতে পেরেছেন।
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদকঃ এ্যাড. নজরুল ইসলাম । ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | দৈনিক ভোরের খবর,খন্দকার এন্টারপ্রাইজ লিমিটেডের একটি প্রতিষ্ঠান। অফিসঃ ১৫০ নাহার ম্যানসন (৫ম তলা) মতিঝিল বানিজ্যিক এলাকা,ঢাকা -১০০০। বার্তাকক্ষ-+৮৮০১৭৪৫-৩৫৪২৭৭