ঢাকাসোমবার , ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
আজকের সর্বশেষ খবর

পরিশ্রম করি, ঐক্যবদ্ধ থাকি, দেশকে গড়ে তুলি: তারেক রহমান


ফেব্রুয়ারি ৯, ২০২৬ ৫:৪৭ অপরাহ্ণ
Link Copied!

স্টাফ রিপোর্টার:   রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে আক্রমণ বা সমালোচনার রাজনীতির পরিবর্তে জনগণের জীবনমান উন্নয়নের জন্য সুস্পষ্ট পরিকল্পনা ও বাস্তবমুখী কর্মসূচিই দেশের প্রকৃত উপকার করতে পারে—এমন মন্তব্য করেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেন, শুধু সমালোচনা নয়, জনগণের ভাগ্য পরিবর্তনের রূপরেখা ও তা বাস্তবায়নের সদিচ্ছাই একটি রাজনৈতিক দলকে আলাদা করে চিহ্নিত করে।

আজ সোমবার দুপুরে রাজধানীর কলাবাগান ক্রীড়াচক্রের মাঠে আয়োজিত ঢাকা–১০ আসনের নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জনসভায় সভাপতিত্ব করেন ঢাকা–১০ আসনে বিএনপির প্রার্থী রবিউল আলম রবি। বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী ও সমর্থকের উপস্থিতিতে জনসভাটি উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়।

তারেক রহমান তার বক্তব্যে বলেন, তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন সেই আদর্শে, যে আদর্শে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বাংলাদেশকে গড়ে তোলার স্বপ্ন দেখেছিলেন এবং যে বিশ্বাস দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া আজীবন ধারণ করে এসেছেন। তিনি বলেন, “বাংলাদেশই আমাদের প্রথম এবং শেষ ঠিকানা। যত নির্যাতন-নিপীড়নই আসুক না কেন, এই দেশের মানুষের জন্যই আমাদের লড়াই।”

তিনি আরও বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান সব ধরনের অত্যাচার-নির্যাতনের মধ্যেও দেশ ছেড়ে যাননি। তিনি বিশ্বাস করতেন, এই দেশের মানুষই তাঁর পরিবার। সেই আদর্শ অনুসরণ করেই বিএনপি দেশ ও জনগণের জন্য কাজ করে যাচ্ছে। তারেক রহমান সবাইকে পরিশ্রমী, ঐক্যবদ্ধ ও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “আসুন, আমরা সবাই মিলে দেশকে গড়ে তুলি। কারণ সবার আগে—বাংলাদেশ।”

নির্বাচনী বক্তব্যে তারেক রহমান বলেন, রাজনৈতিক সভায় চাইলে প্রতিপক্ষ নিয়ে অনেক সমালোচনা করা যায়। বিভিন্ন ব্যক্তি ও ঘটনা নিয়ে কথা বলা যায়। কিন্তু প্রশ্ন হলো—এতে কি জনগণের প্রকৃত কোনো লাভ হয়? তিনি নিজেই উত্তর দিয়ে বলেন, “না, শুধু কথায় দেশের কোনো উপকার হয় না। জনগণের প্রকৃত লাভ হয় তখনই, যখন একটি রাজনৈতিক দল তাদের জীবনমান পরিবর্তনের জন্য সুস্পষ্ট পরিকল্পনা ও কার্যকর কর্মসূচি নিয়ে মাঠে নামে।”

বিএনপির পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, কৃষকদের সহায়তায় কৃষি কার্ড চালু করা হবে, যাতে তারা সহজে সরকারি সহায়তা ও প্রণোদনা পেতে পারেন। একই সঙ্গে দেশের মায়েদের, গৃহিণীদের এবং গ্রাম ও শহরের প্রান্তিক খেটে খাওয়া নারীদের স্বাবলম্বী করে তুলতে চালু করা হবে ফ্যামিলি কার্ড। এই কার্ডের মাধ্যমে নারীরা বিভিন্ন সামাজিক ও অর্থনৈতিক সুবিধা ভোগ করতে পারবেন বলে তিনি জানান।

শিক্ষা খাত নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তারেক রহমান বলেন, সারা দেশের স্কুলশিক্ষকদের পর্যায়ক্রমে কম্পিউটার সরবরাহ করা হবে, যাতে প্রযুক্তিনির্ভর ও আধুনিক শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা যায়। এতে শিক্ষার মান বাড়বে এবং শিক্ষার্থীরা ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আরও প্রস্তুত হবে।

স্বাস্থ্যসেবা প্রসঙ্গে তিনি জানান, শহর ও গ্রাম—সব জায়গায় প্রান্তিক মানুষের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে বিএনপির। এর মাধ্যমে দেশের সাধারণ মানুষ সহজে ও দ্রুত প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা পাবে।

প্রবাসীদের অবদানের কথা স্মরণ করে তারেক রহমান বলেন, প্রায় দেড় কোটি প্রবাসী ভাই-বোনের কষ্টার্জিত বৈদেশিক মুদ্রার ওপর নির্ভর করেই দেশের অর্থনীতি সচল থাকে। অথচ বিদেশে ও দেশে ফিরে তারা নানা ধরনের হয়রানির শিকার হন। এসব সমস্যা কমাতে, তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং দেশে ফিরে সম্মানজনক জীবন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে চালু করা হবে প্রবাসী কার্ড।

ধর্মীয় ব্যক্তিত্বদের জীবনমান উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তারেক রহমান বলেন, মসজিদ, মাদ্রাসার ইমাম, খতিব, মুয়াজ্জিনসহ বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের অনেক গুরু বর্তমানে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। বিএনপি সরকার গঠন করলে তাদের জন্য সম্মানজনক জীবন ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।

বিএনপির অতীত সাফল্যের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দুর্ভিক্ষকবলিত বাংলাদেশকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ করেছিলেন এবং একসময় খাদ্য রপ্তানিকারক দেশে পরিণত করেছিলেন। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বাংলাদেশ শিল্পায়নের পথে এগিয়ে যায় এবং আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে ‘এমার্জিং টাইগার’ হিসেবে স্বীকৃতি পায়। তিনি মেয়েদের জন্য দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত বিনা মূল্যে শিক্ষা নিশ্চিত করেছিলেন। তারেক রহমান বলেন, “এই ইতিহাসই প্রমাণ করে—বিএনপি অভিজ্ঞতা ও বাস্তবতার আলোকে দেশ পরিচালনা করতে সক্ষম।”

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এই দিনটি শুধু একটি ভোটের দিন নয়; এটি সেই ভোট, যার জন্য বাংলাদেশের মানুষ দীর্ঘ ১৬ বছর অপেক্ষা করেছে। তিনি অভিযোগ করেন, নির্বাচন ঘিরে নানা ষড়যন্ত্র ও অপচেষ্টা চলছে। কিছু মানুষ নকল ব্যালট সিল তৈরির সময় ধরা পড়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।

এ কারণে তিনি ঢাকা–১০সহ সারা দেশের গণতন্ত্রপ্রত্যাশী মানুষকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, কেউ যদি বিকাশ নম্বর, এনআইডি নম্বর বা ব্যক্তিগত কোনো তথ্য চায়, তাহলে বুঝতে হবে সেখানে ষড়যন্ত্র আছে। এসব অপচেষ্টা রুখে না দিলে শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত ভোটাধিকার আবারও হুমকির মুখে পড়তে পারে।

এর আগে বনানী বাজারসংলগ্ন মাঠে আয়োজিত ঢাকা–১৭ আসনের জনসভায় বক্তব্য দেন তারেক রহমান। সেখানে তিনি একটি নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ে তোলার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, বিএনপির লক্ষ্য এমন একটি রাষ্ট্র গঠন করা, যেখানে সব নাগরিক দিন-রাত যেকোনো সময় নিরাপদে চলাফেরা করতে পারবেন এবং পরিবার নিয়ে নিশ্চিন্তে বসবাস করতে পারবেন।

আজকের দিনে তারেক রহমান নিজ নির্বাচনী এলাকা ছাড়াও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সাতটি সংসদীয় আসনে মোট আটটি জনসভায় অংশ নেবেন। বনানী ও কলাবাগানের পর তিনি ঢাকা–৮ আসনে পীরজঙ্গী মাজার রোড, ঢাকা–৯ আসনে মান্ডা তরুণ সংঘ মাঠ, ঢাকা–৫ আসনে যাত্রাবাড়ী শহীদ ফারুক রোডে বক্তব্য দেবেন। এ ছাড়া ঢাকা–৪ আসনে জুরাইন–দয়াগঞ্জ রোড, ঢাকা–৬ আসনে ধূপখোলা মাঠ এবং ঢাকা–৭ আসনে লালবাগ বালুর মাঠে জনসভায় অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে তার। গতকাল রোববার তিনি ঢাকা উত্তরের ছয়টি সংসদীয় আসনেও নির্বাচনী জনসভায় অংশ নেন।

✅ আমাদের প্রকাশিত কোন সংবাদের বিরুদ্ধে আপনার অভিযোগ  বা পরামর্শ থাকলে ই-মেইল করুনঃ dailyvorerkhabor@gmail.com❌ বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।