ভোরের খবর ডেস্ক: বাংলাদেশের নতুন সরকারের মন্ত্রিপরিষদের শপথ অনুষ্ঠানে অংশ নিতে ঢাকায় আসছেন ভুটানের প্রধানমন্ত্রী, নেপাল ও মালদ্বীপের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। এছাড়া আরও কয়েকটি দেশের প্রতিনিধি উপস্থিত থাকবেন। শপথ অনুষ্ঠানটি আগামী ১৭ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে। রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে কূটনৈতিক ও সরকারি সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
উল্লেখযোগ্যভাবে, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি শপথ অনুষ্ঠানে সরাসরি অংশ নেবেন না। তবে ভারতের গুরুত্বপূর্ণ এক মন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর, ঢাকায় প্রতিনিধি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন। এটি ভারতের পক্ষ থেকে বাংলাদেশে কূটনৈতিক যোগাযোগ এবং সম্পর্ক বজায় রাখার একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে। শপথ অনুষ্ঠানের আগে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে মোদিকে আনুষ্ঠানিকভাবে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। নির্বাচনের ফলাফলের পর, নতুন মন্ত্রিপরিষদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানকে আন্তর্জাতিকভাবে গুরুত্ব দেওয়ার জন্য, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিভিন্ন দেশের সরকার প্রধান ও কূটনীতিকদের আমন্ত্রণপত্র পাঠিয়েছে। আমন্ত্রিত দেশের মধ্যে চীন, সৌদি আরব, তুরস্ক, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, মালয়েশিয়া, ব্রুনেই, শ্রীলঙ্কা, মালদ্বীপ এবং সার্কভুক্ত দেশগুলো অন্তর্ভুক্ত।
কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদি এআই ইম্প্যাক্ট সামিটে অংশগ্রহণ করবেন এবং সেখানে সাইডলাইন বৈঠকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সরকার প্রধান ও প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনায় অংশ নেবেন। এই ব্যস্ততার কারণে মোদি শপথ অনুষ্ঠানে উপস্থিত হতে পারছেন না। তবে মোদি তারেক রহমানকে ফোন করে বিজয় শুভেচ্ছা জানিয়েছেন, যা দুই দেশের মধ্যে সম্পর্কের নতুন অধ্যায়ের ইঙ্গিত হিসেবে ব্যাখ্যা করা হচ্ছে।
বাংলাদেশের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেনও কয়েকবার প্রকাশ্যে উল্লেখ করেছেন যে, আন্তর্জাতিক মঞ্চে বাংলাদেশের কূটনৈতিক অবস্থান ও অংশগ্রহণকে গুরুত্ব দেওয়া হবে। শপথ অনুষ্ঠানে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফও উপস্থিত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। এই আয়োজনের মাধ্যমে নতুন সরকার আন্তর্জাতিকভাবে নিজেদের গ্রহণযোগ্যতা এবং কূটনৈতিক সম্পর্কের গভীরতা প্রদর্শনের চেষ্টা করছে।
শপথ অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিকতায় অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর প্রতিনিধি উপস্থিত থাকায় এটি কেবল একটি অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অনুষ্ঠান নয়, বরং আন্তর্জাতিক কূটনীতি ও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রেও একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবে ধরা হচ্ছে।

