ঢাকাসোমবার , ২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
আজকের সর্বশেষ খবর

চীন-যুক্তরাষ্ট্র-জাপানের সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তিগুলো চলমান প্রক্রিয়ার অংশ: নিরাপত্তা উপদেষ্টা


ফেব্রুয়ারি ২, ২০২৬ ১০:০৩ অপরাহ্ণ
Link Copied!

স্টাফ রিপোর্টার:   মেয়াদের একেবারে শেষ পর্যায়ে এসে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ক্রয় ও সংশ্লিষ্ট চুক্তি স্বাক্ষর করাকে কেন্দ্র করে অন্তর্বর্তী সরকারের ভূমিকা নিয়ে নতুন করে আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়েছে। তবে এসব উদ্যোগকে সরকারের চলমান ও নিয়মিত প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই ব্যাখ্যা করেছেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান।

সোমবার বিকেলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেনের সঙ্গে একটি বৈঠকে অংশ নিতে যান জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে অন্তর্বর্তী সরকারের শেষ সময়ে এসে যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও জাপানসহ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তি ও সরঞ্জাম ক্রয়ের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে ড. খলিলুর রহমান বলেন, এসব সিদ্ধান্ত কোনো হঠাৎ বা বিচ্ছিন্ন উদ্যোগ নয়; বরং দীর্ঘদিন ধরে চলমান একটি প্রক্রিয়ারই ধারাবাহিকতা।

এ সময় সাংবাদিকরা জানতে চান, পরবর্তী সরকার যদি এসব চুক্তি বা প্রকল্প এগিয়ে না নেয়, তাহলে অন্তর্বর্তী সরকারের দেওয়া প্রতিশ্রুতি বা নেওয়া সিদ্ধান্তগুলোর ভবিষ্যৎ কী হবে। জবাবে ড. খলিলুর রহমান বলেন, এটি সম্পূর্ণ অনুমাননির্ভর প্রশ্ন। ভবিষ্যতে কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে, তা পরবর্তী সরকারের নীতিগত অবস্থানের ওপর নির্ভর করবে।

সম্প্রতি জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টাকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের পরিচালনা পর্ষদে যুক্ত করা নিয়েও সমালোচনা উঠেছে। সমালোচকদের বক্তব্য, সাধারণত কোনো দেশের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা রাষ্ট্রীয় উড়োজাহাজ সংস্থার পরিচালনা পর্ষদে যুক্ত হন না। এ প্রসঙ্গে ড. খলিলুর রহমান বলেন, দুনিয়ার সব দেশেই জাতীয় উড়োজাহাজ সংস্থা নেই, তাই বিষয়টি একক কোনো মানদণ্ডে বিচার করা ঠিক নয়।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের জুলাই মাসে সংঘটিত গণ-অভ্যুত্থানের পর ৮ আগস্ট অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করে। সরকার দায়িত্ব নেওয়ার সময় তাদের প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছিল রাষ্ট্রীয় কাঠামোর সংস্কার, জুলাই হত্যাকাণ্ডের বিচার এবং একটি গ্রহণযোগ্য জাতীয় নির্বাচন আয়োজন। তবে এসব অগ্রাধিকারের বাইরে গিয়ে প্রতিরক্ষা খাতে বড় আকারের উদ্যোগ নেওয়ায় সরকারের ওপর সমালোচনার চাপ বাড়ে।

দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই অন্তর্বর্তী সরকার একাধিক বড় প্রতিরক্ষা প্রকল্প ও চুক্তি হাতে নেয়। এর মধ্যে রয়েছে চীনের সঙ্গে সরকার-টু-সরকার (জিটুজি) চুক্তির মাধ্যমে ড্রোন কারখানা স্থাপন, পাকিস্তান থেকে জেএফ-১৭ থান্ডার যুদ্ধবিমান ক্রয়, চীন থেকে জে-১০ সিই যুদ্ধবিমান সংগ্রহ, ইউরোপীয় কনসোর্টিয়াম থেকে ইউরোফাইটার টাইফুন যুদ্ধবিমান কেনার উদ্যোগ, দক্ষিণ কোরিয়া থেকে সাবমেরিন সংগ্রহ, তুরস্ক থেকে টি-১২৯ অ্যাটাক হেলিকপ্টার এবং যুক্তরাষ্ট্র থেকে ব্ল্যাক হক মাল্টিরোল হেলিকপ্টার ক্রয়।

এ ছাড়া প্রায় ৬৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে যুদ্ধজাহাজ বানৌজা খালিদ বিন ওয়ালিদের সক্ষমতা বাড়ানোর প্রকল্পও গ্রহণ করা হয়েছে। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে দেশের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা আধুনিক ও শক্তিশালী করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে বলে সরকারের পক্ষ থেকে দাবি করা হলেও, অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদের শেষ প্রান্তে এসে এত বড় প্রতিরক্ষা সিদ্ধান্ত নেওয়া কতটা যৌক্তিক—সে প্রশ্নও জোরালোভাবে সামনে এসেছে।

✅ আমাদের প্রকাশিত কোন সংবাদের বিরুদ্ধে আপনার অভিযোগ  বা পরামর্শ থাকলে ই-মেইল করুনঃ dailyvorerkhabor@gmail.com❌ বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।