

কিশোরগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি: কিশোরগঞ্জ আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় দালাল চক্রের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান চালিয়ে ২০ জন দালালকে আটক করেছে র্যাব। রোববার (১ জানুয়ারি) সকাল ১০টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত টানা চার ঘণ্টাব্যাপী এই অভিযান পরিচালনা করে র্যাব-১৪ কিশোরগঞ্জ এবং র্যাব হেডকোয়ার্টারের একটি যৌথ দল।র্যাব হেডকোয়ার্টারের এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট শাহ্ মোহাম্মদ জুবায়ের অভিযানের বিস্তারিত তুলে ধরে জানান, অভিযান শুরুর আগে সিভিল পোশাকে থাকা র্যাব সদস্যদের লক্ষ্য করে দালাল চক্রের সদস্যরা দ্রুত পাসপোর্ট করে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করে। একই সঙ্গে পাসপোর্ট করতে আসা সাধারণ সেবাপ্রার্থীদের কাছ থেকেও সরকারি নির্ধারিত ফি ছাড়াও বিভিন্ন অঙ্কের টাকা আদায়ের একাধিক প্রমাণ সংগ্রহ করে র্যাব।
প্রাথমিক তদন্তে দেখা যায়, দালালরা পাসপোর্ট অফিসের আশপাশে অবস্থান নিয়ে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করে দ্রুত সেবা পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে অর্থ আদায় করছিল। পরে অভিযান চলাকালে হাতেনাতে দালাল চক্রের ২০ জন সদস্যকে আটক করা হয়। আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে বিভিন্ন মেয়াদে বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়।ভ্রাম্যমাণ আদালতের রায়ে মো. মুস্তাফিজুর রহমান (৪৫), মো. মোতাহার হোসেন (২৭), মো. মিজানুর রহমান (৩০), মো. রনি (২৬), মো. বাদল মিয়া (৪৭), মো. হৃদয় মিয়া (২৫), মো. ফয়সাল (২২), আব্দুর রহমান (২৫), মো. হাফিজ হোসেন (৩০), মো. সাগর আহমেদ (৩৫), মো. শামিম মিয়া (৩১) ও মো. রাফসান (২৩)—এদের প্রত্যেককে ২০ দিন করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
এছাড়া মো. মাসুদ রানা (৩৮), মো. রাসেল মিয়া (৩২), মো. শাফায়াতুল খালেক সাইফুল (৩৮), মো. অজুল মিয়া হৃদয় (২৫), মো. নাদিম মিয়া (২৮) ও মো. ইমন (২০)—এদের প্রত্যেককে ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়। একই মামলায় মো. সেলিম মজুমদার ও মো. মাহফুজকেও সাজা দেওয়া হয়েছে।এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট শাহ্ মোহাম্মদ জুবায়ের আরও জানান, অভিযানে পাসপোর্ট অফিসের ভেতরে কর্মরত কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীর সঙ্গে দালালদের যোগসাজশের প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া গেছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং যাচাই-বাছাই শেষে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, “সাধারণ জনগণের ভোগান্তি কমানো এবং সরকারি সেবাকে স্বচ্ছ ও দালালমুক্ত করতে র্যাব নিয়মিতভাবে এ ধরনের অভিযান পরিচালনা করবে। কোনো দালাল বা অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীকে ছাড় দেওয়া হবে না।”র্যাবের এই অভিযানে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন পাসপোর্ট করতে আসা সাধারণ মানুষ। তারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে দালালদের দৌরাত্ম্যে অতিরিক্ত টাকা দিতে বাধ্য হচ্ছিলেন। নিয়মিত অভিযান চালানো হলে দালালদের দৌরাত্ম্য কমবে এবং হয়রানি ছাড়াই সহজে পাসপোর্ট সেবা পাওয়া যাবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদকঃ এ্যাড. নজরুল ইসলাম । ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | দৈনিক ভোরের খবর,খন্দকার এন্টারপ্রাইজ লিমিটেডের একটি প্রতিষ্ঠান। অফিসঃ ১৫০ নাহার ম্যানসন (৫ম তলা) মতিঝিল বানিজ্যিক এলাকা,ঢাকা -১০০০। বার্তাকক্ষ-+৮৮০১৭৪৫-৩৫৪২৭৭