স্টাফ রিপোর্টার: নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণ সংক্রান্ত চিঠি আজই নির্বাচন কমিশনের (ইসি) হাতে পৌঁছাতে পারে বলে জানা গেছে। রোববার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, সংসদ সদস্যদের শপথ পাঠ করানোর জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের প্রস্তুতি ইতোমধ্যেই সম্পন্ন করেছে নির্বাচন কমিশন। চিঠি পেলেই পরবর্তী আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম দ্রুত সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।সংসদ সচিবালয় সূত্রে জানা গেছে, আগামী মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে।
এ শপথ অনুষ্ঠানে শপথবাক্য পাঠ করাবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন। শপথ অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে সংসদ ভবন এলাকায় বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং সংশ্লিষ্ট সব দপ্তর সমন্বিতভাবে কাজ করছে।এদিকে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, একইদিন বিকাল ৪টায় নতুন মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠিত হবে। রাষ্ট্রপতি ভবনে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে শপথবাক্য পাঠ করাবেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। নতুন সরকারের মন্ত্রিসভা গঠন ও দায়িত্ব গ্রহণের মাধ্যমে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে একটি নতুন অধ্যায় শুরু হতে যাচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)।
দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান-এর নেতৃত্বে প্রায় দুই দশক পর আবার সরকার গঠন করতে যাচ্ছে বিএনপি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই সরকার গঠন দেশের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মোট ৩০০টি আসনের মধ্যে ২৯৯টিতে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়। পরদিন ১৩ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন কমিশন ২৯৭টি আসনের বেসরকারি ফলাফল ঘোষণা করে। তবে উচ্চ আদালতের নির্দেশনার কারণে চট্টগ্রাম-২ ও চট্টগ্রাম-৪ আসনের ফলাফলের গেজেট প্রকাশ এখনো স্থগিত রয়েছে।ঘোষিত ফলাফল অনুযায়ী, ২৯৭টি আসনের মধ্যে বিএনপি এককভাবে ২০৯টি আসনে জয় লাভ করেছে। ফলাফল স্থগিত থাকা দুটি আসনেও বিএনপির প্রার্থীরা এগিয়ে রয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। বিএনপির শরিক দলগুলো পেয়েছে তিনটি আসন।
অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী এবারের নির্বাচনে ৬৮টি আসনে জয় পেয়েছে। জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের অন্যান্য শরিক দলগুলো পেয়েছে ৯টি আসন। স্বতন্ত্র প্রার্থীরা বিজয়ী হয়েছেন ৭টি আসনে এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ একটি আসনে জয় অর্জন করেছে।সব মিলিয়ে নবনির্বাচিত সংসদ ও আসন্ন মন্ত্রিসভার শপথকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট মহলের ধারণা, শপথের মধ্য দিয়ে নতুন সরকারের কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হলে দেশের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে নতুন গতি আসবে।

