স্টাফ রিপোর্টার: মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ধানের শীষকে বিজয়ী করার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন শুধু সংসদ সদস্য বাছাইয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না; এই নির্বাচন হতে হবে দেশ পুনর্গঠনের নির্বাচন, হতে হবে মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের নির্বাচন।
রোববার বিকেলে রাজধানীর ঢাকা-১৫ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী শফিকুল ইসলাম খান মিল্টনের সমর্থনে মিরপুর-১০ নম্বরের সেনপাড়া আদর্শ সরকারি উচ্চবিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এক নির্বাচনী পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তারেক রহমান বলেন, “১২ তারিখে জনগণ ভোট দিয়ে তাদের প্রতিনিধি নির্বাচন করবে—কিন্তু শুধু প্রতিনিধি নির্বাচন করলেই দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না। এই ভোটের মাধ্যমে দেশকে কোন পথে এগিয়ে নেওয়া হবে, সেই সিদ্ধান্তও জনগণকেই নিতে হবে। তাই এই নির্বাচন হতে হবে পরিবর্তনের নির্বাচন।”
দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনে বিএনপির পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, দলের ঘোষিত নির্বাচনী ইশতেহারে এসব বিষয় স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। “আমরা নারীদের ক্ষমতায়নের জন্য সুস্পষ্ট পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি—কীভাবে নারীদের আরও স্বাবলম্বী ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের জায়গায় নিয়ে আসা যায়। কৃষকদের অর্থনৈতিক মেরুদণ্ড হিসেবে শক্তিশালী করতে কী ধরনের উদ্যোগ নিতে হবে, তার রূপরেখাও আমরা দিয়েছি,” বলেন তিনি।
স্বাস্থ্য খাত প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, দেশের সাধারণ মানুষের জন্য মানসম্মত ও সহজলভ্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে বিএনপি বাস্তবভিত্তিক পরিকল্পনা নিয়েছে। পাশাপাশি তরুণ সমাজের কর্মসংস্থানের বিষয়ে তিনি বলেন, “ছেলে-মেয়ে নির্বিশেষে তরুণদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে আইসিটি খাতসহ বিভিন্ন ভোকেশনাল ও টেকনিক্যাল ইনস্টিটিউশন গড়ে তোলার পরিকল্পনা আমাদের রয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “এই সব পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য শুধু বিএনপি বা আমার একার পক্ষে সম্ভব নয়। আপনাদের সহযোগিতা ও সমর্থন ছাড়া কোনো পরিবর্তনই টেকসই হবে না।” এ সময় তিনি ঢাকা-১৫ আসনের ভোটারদের উদ্দেশে প্রশ্ন রাখেন, “বিএনপি আপনাদের সামনে তার পরিকল্পনা তুলে ধরেছে। এবার আমি জানতে চাই—১২ তারিখে আপনাদের পরিকল্পনা কী?”জবাবে উপস্থিত হাজার হাজার নেতা-কর্মী ও সমর্থক সমস্বরে স্লোগান দেন—“ধানের শীষ, ধানের শীষ।”
এরপর তারেক রহমান বলেন, “ইনশাল্লাহ ১২ তারিখে আপনারা আপনাদের পরিকল্পনায় সফল হলে, বিএনপি পর্যায়ক্রমে দেশের মানুষের জন্য যে সব পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে এবং এই এলাকার মানুষের জন্য যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, সেগুলো বাস্তবায়নে আমরা কাজ শুরু করব।”
বিএনপির রাজনৈতিক দর্শন তুলে ধরে তিনি বলেন, “বিএনপি সব সময় বিশ্বাস করে জনগণই হচ্ছে আমাদের সকল ক্ষমতার উৎস। আমরা এমন কোনো প্রতিশ্রুতি দিতে চাই না যা মানুষের সাধ্যের বাইরে বা বাস্তবায়নযোগ্য নয়। আমরা সেই প্রতিশ্রুতিই দিই, যা আমরা বাস্তবে করে দেখাতে পারব।”
পথসভায় প্রার্থী শফিকুল ইসলাম খান মিল্টনকে ধানের শীষ প্রতীকে পরিচয় করিয়ে দিয়ে তারেক রহমান বলেন, “শহীদদের যে প্রত্যাশিত বাংলাদেশ, সেই বাংলাদেশ গড়ার কাজ ধানের শীষকে বিজয়ী করার মধ্য দিয়েই শুরু হবে। ইনশাল্লাহ ১৩ ফেব্রুয়ারি থেকে আমরা সেই প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ার কাজে হাত দেব।”
উল্লেখ্য, ঢাকা-১৫ আসনে বিএনপির প্রার্থী শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন, আর এই আসনে তার প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে নির্বাচন করছেন।
এর আগে বিকাল সাড়ে তিনটায় তারেক রহমান রাজধানীতে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেন নিজের আসন ঢাকা-১৭ এর ইসিবি চত্বরে পথসভায় বক্তব্যের মাধ্যমে। এরপর তিনি ঢাকা-১৬ আসনের পল্লবী দুই নম্বর ওয়ার্ডের লালমাঠে** পথসভায় অংশ নিয়ে দলের প্রার্থী আমিনুল হকের পক্ষে ভোট চান।
ঢাকা-১৬ এলাকার সমস্যার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “এই এলাকায় জলাবদ্ধতা ও হাসপাতাল সংকটসহ একাধিক সমস্যা রয়েছে। ইনশাল্লাহ আমরা এসব সমস্যার সমাধান করব।” নিজেকে এলাকাবাসীর প্রতিবেশী হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “আপনাদের সন্তান ও প্রতিবেশী হিসেবে আগেও আমি আপনাদের পাশে ছিলাম, ভবিষ্যতেও থাকব। ১২ তারিখ পর্যন্ত আপনারা আমিনুল হককে দেখে রাখবেন, আর ১৩ তারিখের পর ইনশাল্লাহ আমি নিজে দেখব তিনি এলাকার উন্নয়নে কাজ করছেন কি না।”
পরে তারেক রহমান পর্যায়ক্রমে ঢাকা-১৪ আসনে সানজীদা ইসলাম তুলি (মিরপুর ন্যাশনাল বাংলা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ), ঢাকা-১৩ আসনে ববি হাজ্জাজ (শ্যামলী ক্লাব মাঠ) এবং ঢাকা-১১ আসনে এম এ কাইয়ুম (বাড্ডার সাতারকুল) এর নির্বাচনী পথসভায় বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে।

