

নিজস্ব প্রতিবেদক: জামায়াতকে ইঙ্গিত করে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, ৫ আগস্টের পর একটি বিশেষ দল পরিকল্পিতভাবে মা-বোনদের তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করছে এবং তাদের সামাজিকভাবে ঘরে বন্দি করে রাখার চেষ্টা করছে। ওই দলটি বিভিন্ন অজুহাতে নারীদের কাছ থেকে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) নম্বর ও বিকাশ নম্বর সংগ্রহ করছে। তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, যারা অসৎ উদ্দেশ্য নিয়ে এভাবে তথ্য সংগ্রহ করে, তারা কীভাবে সৎ মানুষের শাসনব্যবস্থা কায়েম করবে?সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে যশোর উপশহরের কেন্দ্রীয় ক্রীড়া উদ্যানে আয়োজিত এক বিশাল নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তারেক রহমান বলেন, একটি রাজনৈতিক দলের প্রধান বিদেশি গণমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে দাবি করছেন—ক্ষমতায় গেলে তিনি নারীদের সম্মান ও অধিকার নিশ্চিত করবেন। অথচ বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, ঠিক আগের রাতেই সেই দলের শীর্ষ নেতা কর্মজীবী নারীদের সম্পর্কে অত্যন্ত আপত্তিকর ও অসম্মানজনক মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, যে দল নারীদের নিয়ে এমন কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য দিতে পারে, তারা রাষ্ট্রক্ষমতায় গেলে দেশ ও সমাজের জন্য কোনো ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারবে না।তিনি আরও বলেন, নিজেদের চরিত্র জনগণের সামনে প্রকাশ হয়ে পড়ায় ওই দল এখন ‘অ্যাকাউন্ট হ্যাক’ হওয়ার মতো হাস্যকর ও ভিত্তিহীন মিথ্যা অজুহাত দিচ্ছে। জনগণ এখন সবকিছু বুঝে গেছে এবং আর এসব প্রতারণায় বিভ্রান্ত হবে না।
নারী শিক্ষার প্রসঙ্গ তুলে তারেক রহমান বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া মেয়েদের শিক্ষাকে এগিয়ে নিতে বিনামূল্যে শিক্ষা চালু করেছিলেন। সেই ধারাবাহিকতায় বিএনপি আবার সরকার গঠন করতে পারলে দেশের মা-বোনদের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রত্যেক পরিবারের হাতে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ পৌঁছে দেওয়া হবে।বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, বিগত সরকারের আমলে যেভাবে আমি-ডামি ও নিশিরাতের ভোটের মাধ্যমে জনগণের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছিল, ঠিক একই কায়দায় একটি দল আবারও নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করতে উঠেপড়ে লেগেছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, ভোট গণনার নামে কেউ যদি কোনো ষড়যন্ত্র বা অনিয়ম করার চেষ্টা করে, তাহলে জনগণকে ঐক্যবদ্ধভাবে তা প্রতিহত করতে হবে।
উন্নয়ন পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের খননকৃত ঐতিহাসিক উলাসী খালসহ যশোর অঞ্চলের খাল-বিল পুনঃখনন করা হবে। দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা নিরসনে জিকে প্রকল্প পুনরায় চালু করা হবে। বিএনপি সরকার গঠন করলে সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নে প্রয়োজনীয় সব প্রকল্প গ্রহণ করা হবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।তিনি আরও বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিম এবং অন্যান্য ধর্মের পুরোহিতদের রাষ্ট্রীয় সম্মানী প্রদান করা হবে। হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান—সব ধর্মের মানুষের সম্মিলিত অংশগ্রহণে একটি সম্প্রীতির বাংলাদেশ গড়ে তোলা হবে।
অর্থনৈতিক উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তারেক রহমান বলেন, বিএনপি সরকার গঠন করলে যশোর অঞ্চলের ফুল বিদেশে রপ্তানির উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি বন্ধ হয়ে যাওয়া চিনিশিল্পগুলো পুনরায় চালু করে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা হবে।যশোর জেলা বিএনপির সভাপতি সাবেরুল হক সাবুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই জনসভা পরিচালনা করেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন খোকন। সভায় আরও বক্তব্য দেন খুলনা বিভাগীয় ভারপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা সৈয়দ মেহেদী আহমেদ রুমি, কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরী, অধ্যাপক নার্গিস বেগম, সহধর্মবিষয়ক সম্পাদক অমলেন্দু দাস অপু, তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক আমিরুজ্জামান খান শিমুলসহ কেন্দ্র ও জেলা পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।
নির্বাচনী সমাবেশ শেষে প্রধান অতিথি তারেক রহমান জুলাইয়ের আন্দোলনে আহত ব্যক্তিদের এবং শহীদদের বাবা-মায়ের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন।এর আগে দলীয় প্রধানের আগমনকে কেন্দ্র করে সমাবেশস্থল মিছিলের নগরীতে পরিণত হয়। সকাল থেকেই রঙিন ব্যানার, ফেস্টুন ও দলীয় পতাকা হাতে নেতাকর্মীরা স্লোগানে স্লোগানে জনসভাস্থলে আসতে থাকেন। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে পুরো মাঠ কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়।দলীয় প্রধানের উপস্থিতিকে ঘিরে বৃহত্তর যশোর ও কুষ্টিয়া অঞ্চলের সাত জেলার নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা ও আবেগ লক্ষ্য করা যায়, যা পুরো জনসভাকে উৎসবমুখর করে তোলে।
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদকঃ এ্যাড. নজরুল ইসলাম । ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | দৈনিক ভোরের খবর,খন্দকার এন্টারপ্রাইজ লিমিটেডের একটি প্রতিষ্ঠান। অফিসঃ ১৫০ নাহার ম্যানসন (৫ম তলা) মতিঝিল বানিজ্যিক এলাকা,ঢাকা -১০০০। বার্তাকক্ষ-+৮৮০১৭৪৫-৩৫৪২৭৭