ভোরের খবর ডেস্ক: ইরানের দক্ষিণাঞ্চলের হরমোজগান প্রদেশ-এর মিনাব শহরে একটি বালিকা বিদ্যালয়ে ভয়াবহ হামলার ঘটনা ঘটেছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে, এই হামলায় অন্তত ৫১ জন নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে অধিকাংশই শিক্ষার্থী ও স্কুল সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি। একই দিনে রাজধানী তেহরান-এর পূর্বাঞ্চলেও আরেকটি স্কুলে হামলার খবর পাওয়া গেছে, যেখানে অন্তত দুইজন শিক্ষার্থী নিহত হয়েছেন।রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থার প্রতিবেদনে বলা হয়, মিনাব শহরের ওই স্কুলটিতে হামলার পর প্রথমে নিহতের সংখ্যা ৪০ ছাড়িয়ে গেছে বলে জানানো হয়। পরে উদ্ধার ও শনাক্তকরণ কার্যক্রম এগোনোর সঙ্গে সঙ্গে নিহতের সংখ্যা ৫০-এর বেশি বলে নিশ্চিত করা হয়। হামলার পরপরই ঘটনাস্থলের ভয়াবহ ভিডিও ও ছবি ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে সম্প্রচার করা হয়, যেখানে ধ্বংসস্তূপ, আহতদের আর্তনাদ এবং উদ্ধারকর্মীদের তৎপরতা স্পষ্টভাবে দেখা যায়।
এই ঘটনায় দেশজুড়ে তীব্র শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। অনেক অভিভাবক নিখোঁজ সন্তানদের খোঁজে হাসপাতাল ও উদ্ধারকেন্দ্রগুলোতে ছুটে যান। স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আহতদের দ্রুত চিকিৎসার জন্য আশপাশের হাসপাতালগুলোতে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে এবং রক্তদানের আহ্বান জানানো হয়েছে।অন্যদিকে, তেহরানের পূর্বাঞ্চলের একটি স্কুলে পৃথক হামলার ঘটনায় হতাহতের খবর দিয়েছে মেহর বার্তা সংস্থা। সংস্থাটি জানায়, সেখানে অন্তত দুই শিক্ষার্থী নিহত হয় এবং আরও কয়েকজন আহত হয়েছে। হামলার ধরন ও লক্ষ্যবস্তু নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে ইরানি নিরাপত্তা বাহিনী।
আল-জাজিরা-এর তেহরান প্রতিনিধি মোহাম্মদ ভাল জানিয়েছেন, মিনাবের এই হামলাটি স্পষ্টভাবে বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হিসেবে দেখা হচ্ছে। তাঁর মতে, একটি বালিকা বিদ্যালয়ে হামলার ঘটনা আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে।এই প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল দাবি করেছে যে তারা কেবল সামরিক স্থাপনা ও রাষ্ট্রীয় লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালাচ্ছে, সাধারণ জনগণকে লক্ষ্য করছে না। তবে সাম্প্রতিক এই হামলায় বিপুল বেসামরিক হতাহতের ঘটনায় সেই দাবির সত্যতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে। বিশ্লেষকদের মতে, বেসামরিক প্রাণহানি বাড়লে পরিস্থিতি আরও জটিল ও বিস্তৃত সংঘাতের দিকে যেতে পারে।
ইরানের স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ২০২৫ সালের জুনে যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েলের ১২ দিনের যুদ্ধে হাজারো বেসামরিক নাগরিক নিহত ও আহত হন এবং দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সেই অভিজ্ঞতার পর নতুন করে স্কুলে হামলার ঘটনা ইরানের জনগণের মধ্যে গভীর আতঙ্ক ও ক্ষোভ তৈরি করেছে।সাম্প্রতিক এই হামলার ঘটনায় ইরান আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তোলার ইঙ্গিত দিয়েছে এবং বিষয়টি আন্তর্জাতিক মহলে উত্থাপনের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে এ বিষয়ে ইসরায়েলের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

