স্টাফ রিপোর্টার: রাজধানীর গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কার্যালয়ের সামনে ২০১৫ সালে অনুষ্ঠিত একটি মানববন্ধনকে ঘিরে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সেই সময়ের একটি পুরনো ভিডিও আবারও ভাইরাল হলে বিষয়টি নিয়ে নানা মহলে বিতর্ক ও সমালোচনা শুরু হয়।
জানা যায়, ২০১৫ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর গুলশান–২ নম্বর গোলচত্বর থেকে বনানীর কামাল আতাতুর্ক অ্যাভিনিউ পর্যন্ত এলাকায় মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন আওয়ামী লীগ–সমর্থিত কয়েকজন অভিনেতা, অভিনেত্রী ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব। ওই মানববন্ধন থেকে বেগম খালেদা জিয়ার গুলশানের কার্যালয় ঘেরাও এবং তা বন্ধের দাবি জানানো হয়। কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া শিল্পীরা সে সময় দেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বক্তব্য দেন এবং সহিংসতার দায় বিএনপির ওপর চাপিয়ে দেওয়ার অভিযোগ তোলেন।
সমালোচকদের মতে, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় বেগম খালেদা জিয়াকে নানা ধরনের রাজনৈতিক চাপ, হয়রানি ও নির্যাতনের মুখোমুখি হতে হয়েছে। দীর্ঘদিন কারাবন্দি থাকা, রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে বাধা এবং দলীয় কর্মসূচিতে দমন-পীড়নের ঘটনাকে তাঁরা ‘অসুস্থ রাজনৈতিক চর্চা’র ফল বলে উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে অভিযোগ ওঠে, দেশব্যাপী সহিংসতা ও নৈরাজ্যের দায় পরিকল্পিতভাবে বিএনপি ও তার অঙ্গসংগঠনের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে।
এই প্রেক্ষাপটে সাংস্কৃতিক অঙ্গনের একটি অংশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন অনেকে। তাঁদের ভাষ্য অনুযায়ী, ক্ষমতাসীনদের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত কিছু শিল্পী ও বুদ্ধিজীবী সরকারের পক্ষে প্রকাশ্যে অবস্থান নিয়ে বিরোধী দলকে কোণঠাসা করতে ভূমিকা রেখেছেন। সে তালিকায় জনপ্রিয় অভিনেতা জাহিদ হাসান, চঞ্চল চৌধুরীসহ কয়েকজন পরিচিত মুখের নাম আলোচনায় এসেছে। ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে তাঁদের উপস্থিতি এবং বক্তব্য নতুন করে বিতর্ক উসকে দিয়েছে।
ওই ভিডিওতে দেখা যায়, চঞ্চল চৌধুরী, শাহনাজ খুশি, সাজু খাদেমসহ আরও অনেকে বেগম জিয়ার গুলশানের কার্যালয়ের দিকে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করেন এবং মানববন্ধন থেকে বিভিন্ন স্লোগান দেন। তাঁদের বক্তব্যে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে ওঠা সহিংসতার অভিযোগ বিএনপির দিকে ঠেলে দেওয়ার প্রবণতা লক্ষ্য করা যায় বলে সমালোচকরা দাবি করছেন। এমনকি স্বৈরাচারী শাসনের সময় সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের দায়ও বিএনপির ওপর চাপানোর চেষ্টা হয়েছে—এমন অভিযোগও উঠে এসেছে।
মানববন্ধনে আরও উপস্থিত ছিলেন চিত্রনায়িকা নাসরিন আক্তার নিপুণ, তারানা হালিম, পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায়, হাসান ইমাম, নাদের চৌধুরী, তুষার খান, জাহিদ হাসান এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ওহিদুজ্জামানসহ শতাধিক ব্যক্তি। তাঁদের অংশগ্রহণ সে সময় রাজনৈতিক অঙ্গনে যেমন আলোড়ন তুলেছিল, তেমনি সাংস্কৃতিক অঙ্গনের নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন তৈরি করেছিল।
পুরনো এই ঘটনাগুলো আবার আলোচনায় আসায় অনেকেই মনে করছেন, বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে সাংস্কৃতিক অঙ্গনের একটি অংশ কীভাবে ক্ষমতার রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হয়েছে, তা নতুন করে পর্যালোচনা করা দরকার। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলমান আলোচনায় কেউ কেউ একে ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ বলছেন—রাজনীতিতে শিল্পীদের ভূমিকা নিয়ে জাতির গভীর আত্মসমালোচনার সময় এসেছে।

