স্টাফ রিপোর্টার: পাবনা-১ (সাঁথিয়া) আসনে দ্বৈত নাগরিকত্বের অভিযোগ ওঠার মধ্যেই বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন এর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেছে জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসার।নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা যায়, সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর বিরুদ্ধে বিদেশি নাগরিকত্ব গ্রহণের অভিযোগ উত্থাপিত হলেও যাচাই-বাছাই শেষে তা প্রমাণিত না হওয়ায় মনোনয়নপত্র বাতিলের কোনো আইনগত ভিত্তি পাওয়া যায়নি। ফলে প্রার্থীর দাখিল করা কাগজপত্র ও হলফনামা পর্যালোচনা করে রিটার্নিং কর্মকর্তা মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেন।
মনোনয়নপত্র যাচাইয়ের দিন উপস্থিত ছিলেন প্রার্থীর প্রতিনিধি, আইনজীবী এবং স্থানীয় নেতাকর্মীরা। এ সময় দ্বৈত নাগরিকত্ব সংক্রান্ত অভিযোগ নিয়ে আলোচনা হলেও প্রার্থী পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় ব্যাখ্যা ও নথিপত্র উপস্থাপন করা হয়। নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, দাখিলকৃত কাগজপত্রে কোনো অসঙ্গতি না থাকায় আইন অনুযায়ী মনোনয়নপত্র বৈধ বলে গণ্য করা হয়েছে।এ বিষয়ে জামায়াতে ইসলামীর স্থানীয় নেতারা বলেন, “এটি একটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অভিযোগ ছিল। নির্বাচন কমিশন সঠিকভাবে যাচাই করে সত্যের পক্ষে সিদ্ধান্ত দিয়েছে।” তারা আশা প্রকাশ করেন, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণ তাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার সুযোগ পাবে।
অন্যদিকে, অভিযোগকারী পক্ষ দাবি করছে—বিষয়টি নিয়ে তারা উচ্চপর্যায়ে আপিল করার কথা ভাবছে। তবে নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আপিল করা হলে তা আইন অনুযায়ী নিষ্পত্তি করা হবে।পাবনা-১ আসনটি রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ একটি আসন হিসেবে পরিচিত। আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে এখানে বিভিন্ন দলের প্রার্থীদের মধ্যে প্রতিযোগিতা ক্রমেই তীব্র হচ্ছে। দ্বৈত নাগরিকত্ব সংক্রান্ত অভিযোগ ও তার পরিপ্রেক্ষিতে মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণার ঘটনাটি এলাকাজুড়ে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করেছে।
উল্লেখ্য, ৬৮পাবনা-১ আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী থেকে মনোনয়নপ্রাপ্ত হয়েছে জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমীর মরহুম মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর পুত্র ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের কারণে তিনি দীর্ঘদিন তুরুস্কে বসবাস করেছে এবং সেখানকার নাগরিকত্ব গ্রহণ করেন। ২০২৪ এর জুলাই ছাত্র-জনতা আন্দোলনের মধ্যে দিয়ে ফ্যাসিবাদের পতনের পরে দেশে আসেন তিনি। এরপর তার নিজ এলাকা পাবনা-১ আসন থেকে জামায়াতের মনোনয়নপ্রাপ্ত হোন।কিন্তু তার সেই দ্বৈত নাগরিকত্বের অভিযোগ তুলে ১৮ই জানুয়ারি জেলাপ্রশাসক ও রির্টানিং অফিসার বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন সাঁথিয়া পৌর এলাকার ভোটার এডভোকেট শামসুজ্জামান নামের এক ব্যক্তি। সেটিকেই তদন্ত শেষে তার মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করেন জেলা প্রশাসক ও রির্টানিং অফিসার।

