বগুরা প্রতিনিধি: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসনে নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্নার মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। শুক্রবার (২ ডিসেম্বর) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. তৌফিকুর রহমান মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে আনুষ্ঠানিকভাবে এ ঘোষণা দেন।
জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা জানান, মাহমুদুর রহমান মান্না তার মনোনয়নপত্রের সঙ্গে দাখিল করা হলফনামায় প্রয়োজনীয় তথ্য সঠিকভাবে উপস্থাপন করেননি। হলফনামায় দেওয়া কিছু তথ্যের মধ্যে গড়মিল ও অসংগতি পাওয়া যাওয়ায় নির্বাচন বিধিমালা অনুযায়ী তার মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। তবে নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আপিল করার সুযোগ রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
উল্লেখ্য, মনোনয়ন দাখিলের শুরু থেকেই মাহমুদুর রহমান মান্নার প্রার্থী হওয়া নিয়ে আলোচনা ও শঙ্কা তৈরি হয়। কারণ, প্রথমদিকে ঋণখেলাপির তালিকায় তার নাম অন্তর্ভুক্ত থাকায় নির্বাচন করতে পারবেন কি না—তা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দেয়। তবে গত ২৯ ডিসেম্বর সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের চেম্বার আদালতের এক আদেশে ওই জটিলতার অবসান ঘটে। আদালতের আদেশ অনুযায়ী, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মাহমুদুর রহমান মান্নার প্রার্থী হতে আর কোনো আইনগত বাধা নেই বলে স্পষ্ট হয়।
এদিকে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বগুড়া-২ আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না। জোটভিত্তিক নির্বাচনী সমঝোতার অংশ হিসেবেই তাকে এ আসনে প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দেওয়া হয়। ফলে তার মনোনয়নপত্র বাতিলের ঘটনায় জোট রাজনীতিতেও আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে।
একই দিনে বগুড়া-২ আসনে জাতীয় পার্টির সাবেক সংসদ সদস্য শরিফুল ইসলাম জিন্নাহর মনোনয়নপত্রও বাতিল করা হয়। জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা জানান, শরিফুল ইসলাম জিন্নাহ তার হলফনামার সঙ্গে সম্পদের বিবরণী সংক্রান্ত নির্ধারিত ফরম দাখিল করেননি। নির্বাচনী বিধি অনুযায়ী এটি একটি গুরুতর অসংগতি হিসেবে বিবেচিত হওয়ায় তার মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে।
রিটার্নিং কর্মকর্তার পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়, যেসব প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে, তারা সবাই নির্বাচন কমিশনের বিধি অনুসারে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আপিল করতে পারবেন। আপিল নিষ্পত্তির পর চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করা হবে। এ ঘটনায় বগুড়া-২ আসনের নির্বাচনী মাঠে নতুন সমীকরণ তৈরি হতে পারে বলে রাজনৈতিক মহলে ধারণা করা হচ্ছে।

