স্টাফ রিপোর্টার: নৌপরিবহন উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন বুধবার (৭ জানুয়ারি) রাজধানীর তোপখানা রোডে অবস্থিত সিরডাপের এ টি এম শামসুল হক মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত ‘গণভোট: ২০২৬: কী ও কেন?’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে বলেন, জুলাই সনদের ওপর গণভোট সম্পর্কে জনগণকে বোঝানোর কাজ শুধু অন্তর্বর্তী সরকারকেই করতে গেলে বিতর্ক সৃষ্টি হবে। এজন্য তিনি নির্বাচন কমিশনকেও মাঠে নামার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “নির্বাচন কমিশনকেও গণভোটের ব্যাপারে জনগণকে সচেতন করার দায়িত্ব নিতে হবে। যা সহযোগিতা প্রয়োজন, সরকার তা দেবে। শুধুমাত্র সরকার যদি প্রচারণা চালায়, অনেক প্রশ্ন উঠবে। নির্বাচনের সময় বাকি এক মাস, এবং ভোটারদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করা অত্যন্ত জরুরি।”
তিনি তার বক্তব্যে অতীতের উদাহরণ টেনে বলেন, ২০০৭ সালের সেনা-সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় তিনি নির্বাচন কমিশনার হিসেবে মাঠে কাজ করেছেন। সেই অভিজ্ঞতা থেকে তিনি মনে করান যে, গণভোটের সুষ্ঠু প্রচারণা ও জনগণকে বোঝানোতে নির্বাচন কমিশনের সক্রিয় ভূমিকা অপরিহার্য। একই সঙ্গে তিনি নাগরিক সংগঠনগুলোরও সহযোগিতা প্রয়োজনীয় বলে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, “সুজনের মতো সংগঠনগুলোকে জেলা পর্যায়ে গিয়ে প্রচারণা চালাতে হবে এবং জনগণকে জানাতে হবে গণভোট কী, কীভাবে হবে, এবং কেন এটি জরুরি।”
বৈঠকে তিনি আরও প্রশ্ন তোলেন, “আমরা কি আগের মতো অবস্থা চাই, যেখানে একনায়কতন্ত্র, ভোটবাক্স দখল এবং একপক্ষীয় ক্ষমতা থাকবে? নাকি আমরা গণতন্ত্র, স্বচ্ছতা ও জনগণের অধিকার রক্ষা করতে চাই?” তিনি বলেন, জুলাই সনদে সুশাসনের জন্য প্রস্তাবিত সংস্কারগুলো জনগণকে বোঝানো অপরিহার্য। তিনি এই সংস্কারের পক্ষে ভোট দিতে জনগণকে উৎসাহিত করার জন্য সরকার, নির্বাচন কমিশন এবং নাগরিক সংগঠনগুলোর সমন্বিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন।
গোলটেবিল বৈঠকে সুজনের প্রধান নির্বাহী বদিউল আলম মজুমদারও বলেন, “সংবিধান সংস্কারের ৪৮টি প্রস্তাবের ওপর গণভোট হবে। এটি এক প্রশ্নের মাধ্যমে ভোটারদের কাছে উপস্থাপন করা হবে—হ্যাঁ বা না। রাজনৈতিক দলগুলো ইতিমধ্যে জুলাই সনদে স্বাক্ষর করেছে, তাই তাদের দায়িত্ব জনগণকে সচেতন করা।” তিনি বলেন, “প্রধান লক্ষ্য হলো সংবিধান সংস্কার বাস্তবায়ন করা যাতে পুনরায় স্বৈরশাসনের পুনরাগমন না ঘটে।”
চলচ্চিত্র পরিচালক কাজী হায়াৎ বলেন, গ্রামীণ পর্যায়ের ভোটারদের সচেতন করার গুরুত্ব অপরিসীম। তিনি বলেন, “নিরক্ষর নারী, বৃদ্ধ বা গ্রামীণ ভোটারদের কাছে আমাদের বার্তা পৌঁছানো উচিত যেন তারা জানে, তাদের ভোট তাদের অস্তিত্ব প্রকাশের সুযোগ।”
গোলটেবিল বৈঠকে উপদেষ্টা সাখাওয়াত হোসেন আরও বলেন, সরকার প্রচার করছে, তবে জনগণের দুয়ারে গণভোটের গুরুত্ব পৌঁছে দিতে সুজনের মতো সংগঠনগুলোর ভূমিকা অপরিহার্য। তিনি নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতে নির্বাচন কমিশনের জোরালো ভূমিকার ওপর জোর দেন। সমাপনী বক্তব্যে তিনি উল্লেখ করেন, রাজনৈতিক নেতাদের তাদের অঙ্গীকার রক্ষা করতে হবে এবং গণভোটের পক্ষে ধর্মীয় নেতাদের মাধ্যমে প্রচারণা কার্যকর হবে। তিনি সতর্ক করে বলেন, সংবিধান সংস্কার বাস্তবায়ন না হলে, জনগণ পুনরায় ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার দিকে ধাবিত হতে পারে।
এই বৈঠকে সুজনসহ বিভিন্ন নাগরিক সংগঠনের জেলা পর্যায়ের প্রতিনিধিরাও অংশ নেন। সুজনের সহসভাপতি ও সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি আবদুল মতিন সভাপতিত্ব করেন। বৈঠক শেষে উপদেষ্টা সাখাওয়াত হোসেন, সুজন এবং অন্যান্য অংশগ্রহণকারীরা একযোগে জনগণকে গণভোটের গুরুত্ব বোঝানো এবং ভোটারদের সচেতন করার উদ্যোগ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন।

