স্টাফ রিপোর্টার: বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানিয়েছেন, দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে খুব শিগগিরই—আগামী দু-এক দিনের মধ্যেই—দলের নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হবে। রোববার (৪ জানুয়ারি) বিকেলে সিলেটের বিমানবন্দর এলাকার একটি অভিজাত হোটেলে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় তিনি এ তথ্য জানান।
মতবিনিময় সভায় বিএনপির কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ, পাশাপাশি সিলেট বিভাগের বিভিন্ন সংসদীয় আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থীরাও উপস্থিত ছিলেন। সভায় সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি, নির্বাচন ও ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক করণীয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
এ সময় মির্জা ফখরুল বলেন, আসন্ন নির্বাচন নিয়ে দেশে নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছে এবং বর্তমান নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ে বিএনপির কোনো ধরনের উদ্বেগ বা আশঙ্কা নেই। তিনি উল্লেখ করেন, এটি জাতির জন্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সময়, কারণ দীর্ঘ প্রায় ১৫ বছর পর সাধারণ মানুষ আবারও তাদের ভোটাধিকার স্বাধীনভাবে প্রয়োগ করার সুযোগ পাচ্ছে। এই সুযোগকে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের একটি বড় ধাপ হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।
সুশাসন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার প্রসঙ্গে বিএনপি মহাসচিব বলেন, একটি শক্তিশালী ও টেকসই গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হলে আইনের শাসন নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে তিনি মব সহিংসতার সমালোচনা করে বলেন, এ ধরনের ঘটনা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত করে। তাই সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে মবোক্রেসির বিরুদ্ধে সচেতন ও ঐক্যবদ্ধ সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।
অন্তর্বর্তী সরকারের ভূমিকা সম্পর্কে মন্তব্য করতে গিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, বর্তমান সরকার বেশ কিছু প্রশংসনীয় সংস্কার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে, যা ইতিবাচকভাবে দেখা হচ্ছে। তবে তিনি মনে করেন, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই সরকার এখন কার্যত একটি কেয়ারটেকার সরকারের ভূমিকায় পরিণত হয়েছে। এ অবস্থায় গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে এবং জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনই হওয়া উচিত সরকারের প্রধান দায়িত্ব।
তিনি আরও আশা প্রকাশ করেন, রাজনৈতিক সহনশীলতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের মাধ্যমে দেশ একটি গণতান্ত্রিক ধারায় ফিরে আসবে এবং জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মাধ্যমেই রাষ্ট্র পরিচালিত হবে।

