ঢাকাবুধবার , ৭ জানুয়ারি ২০২৬
আজকের সর্বশেষ খবর

তারেক রহমান এখন গণতন্ত্রের পথপ্রদর্শক: আমীর খসরু


জানুয়ারি ৭, ২০২৬ ৪:৫৫ অপরাহ্ণ
Link Copied!

স্টাপ রিপোর্টার:   বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বর্তমানে বাংলাদেশের গণতন্ত্রের প্রধান ‘টর্চ বিয়ারার’ বা পথপ্রদর্শক—এমন মন্তব্য করেছেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, গণতন্ত্রের যে মশাল শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান প্রজ্বালন করেছিলেন, সেই আলোকবর্তিকা দীর্ঘদিন ধরে বহন করেছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। এখন সেই ঐতিহাসিক দায়িত্ব নতুন প্রজন্মের নেতৃত্ব হিসেবে তারেক রহমানের হাতে অর্পিত হয়েছে। তাঁর হাত ধরেই দেশে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের সংগ্রাম এগিয়ে যাচ্ছে।

আজ বুধবার জাতীয় প্রেসক্লাব মিলনায়তনে ‘মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার স্মরণে শোকসভা ও দোয়া মাহফিল’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। অনুষ্ঠানের আয়োজন করে জিয়া পরিষদ। তিনি বলেন, খালেদা জিয়া ছিলেন আপসহীন নেতৃত্বের প্রতীক। ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়—যারা আপস করেছে, তারাই রাজনীতি থেকে হারিয়ে গেছে কিংবা অন্যের স্বার্থ রক্ষায় ভূমিকা পালন করেছে। যারা বিভিন্ন সময়ে দেশ ছেড়ে পালিয়েছে কিংবা বর্তমান শাসনব্যবস্থার অধীনে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে, তাদের অতীত ভূমিকা জনগণের অজানা নয়।

ওয়ান–ইলেভেনের সময়কার প্রসঙ্গ টেনে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, সে সময় অনেক রাজনৈতিক শক্তি ওই অগণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সমর্থন করেছিল। কিন্তু একমাত্র বেগম খালেদা জিয়া কোনো ধরনের আপস করেননি। কারাবরণ, নির্যাতন ও দীর্ঘ রাজনৈতিক চাপ সত্ত্বেও তিনি স্বৈরাচার ও ফ্যাসিবাদী শাসনের বিরুদ্ধে অবিচল থেকে সংগ্রাম চালিয়ে গেছেন।

তিনি আরও বলেন, খালেদা জিয়া তাঁর রাজনৈতিক জীবনের খুব অল্প সময়ই রাষ্ট্রক্ষমতায় ছিলেন। জীবনের সিংহভাগ সময় কেটেছে আন্দোলন–সংগ্রাম, ত্যাগ ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে। তিনি কখনো স্বৈরশাসকের সঙ্গে আপস করেননি; বরং আজীবন গণতন্ত্র, স্বাধীনতা ও জাতীয় সার্বভৌমত্ব রক্ষায় নিজেকে উৎসর্গ করেছেন।খালেদা জিয়ার জানাজায় মানুষের বিপুল উপস্থিতির কথা উল্লেখ করে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, কোটি কোটি মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ প্রমাণ করে—এটি কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচি ছিল না, বরং জনগণের হৃদয়ের গভীর ভালোবাসা ও শ্রদ্ধার বহিঃপ্রকাশ। কোনো বিশৃঙ্খলা ছাড়াই মানুষ শান্তিপূর্ণভাবে শ্রদ্ধা জানিয়ে ফিরে গেছেন, যা তাঁর দীর্ঘ ত্যাগ ও অবদানেরই প্রতিফলন।

নারীর শিক্ষা বিস্তার, দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের শিক্ষা নিশ্চিতকরণ, উপবৃত্তি কার্যক্রম, খাদ্যের বিনিময়ে শিক্ষা কর্মসূচি এবং কৃষক–শ্রমিকসহ সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নে খালেদা জিয়ার অবদান ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে বলে মন্তব্য করেন তিনি। এসব উদ্যোগ দেশের সামাজিক ও মানবিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।আগামী দিনের বাংলাদেশ নিয়ে তারেক রহমানের ঘোষিত রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক রূপরেখার কথা তুলে ধরে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, শুধু একদলীয় শাসন থেকে বহুদলীয় গণতন্ত্রে ফিরে গেলেই চলবে না; অর্থনীতিকেও গণতান্ত্রিক করতে হবে। উন্নয়নের সুফল যেন সমাজের প্রতিটি স্তরের মানুষের কাছে পৌঁছে যায়, সেটিই হবে আগামী দিনের মূল লক্ষ্য।

শৃঙ্খলা, মানদণ্ড ও সম্মিলিত প্রচেষ্টার ওপর গুরুত্বারোপ করে বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরামের এই নেতা বলেন, শহীদ জিয়াউর রহমানের স্বপ্ন, বেগম খালেদা জিয়ার ত্যাগ এবং তারেক রহমানের ভবিষ্যৎ রূপরেখা বাস্তবায়নের মধ্য দিয়েই একটি গণতান্ত্রিক, সমৃদ্ধ ও আত্মমর্যাদাশীল বাংলাদেশ গড়ে উঠবে।শোকসভা ও দোয়া মাহফিলে সভাপতিত্ব করেন জিয়া পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো. আবদুল লতিফ। এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলালসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন স্তরের নেতৃবৃন্দ।

✅ আমাদের প্রকাশিত কোন সংবাদের বিরুদ্ধে আপনার অভিযোগ  বা পরামর্শ থাকলে ই-মেইল করুনঃ dailyvorerkhabor@gmail.com❌ বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।