স্টাফ রিপোর্টার: কলকাতার অ্যাপোলো হাসপাতালে ভেন্টিলেশনে থাকা ওবায়দুল কাদের নতুন করে কোনো ধরনের চিকিৎসা নিতে পারছেন না। হাসপাতালের সূত্রে জানা গেছে, তার অবস্থা সংকটাপন্ন হওয়ায় পরিবারের সিদ্ধান্ত হয়েছে, তাকে কলকাতার বাড়িতে ফিরিয়ে আনা হবে। বাড়িতেই চিকিৎসক ও লাইফ সাপোর্টসহ প্রয়োজনীয় মেডিকেল সুবিধা দিয়ে তার দেখভাল করা হবে।
ওবায়দুল কাদের দীর্ঘদিন যাবত বার্ধক্যজনিত একাধিক অসুখে ভুগছিলেন এবং বেশ কিছুদিন ধরে শয্যাশায়ী ছিলেন। খবর পাওয়া গেছে, কলকাতার নিউ টাউনের বাড়িতেই তিনি অক্সিজেন সুবিধা পেয়ে আসছিলেন। হাসপাতলে ভর্তি হবার পরই তাকে ভেন্টিলেশনে নেওয়া হয়। প্রথমদিকে হাসপাতালের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, চিকিৎসায় কিছুটা সাড়া দিচ্ছেন, তবে তার অবস্থার গুরুতরতা নিয়ে সতর্ক থাকার প্রয়োজন আছে।
জুলাই মাসের গণঅভ্যুত্থানের পর ভারতের কলকাতায় চলে যান ওবায়দুল কাদের। এই সময়ে তার কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়েছিল, এবং গত কয়েক মাস তিনি আত্মগোপনে ছিলেন। ২০২৪ সালের নভেম্বরে শেষ পর্যন্ত তিনি দেশ ত্যাগ করেন। তিনি সাংবাদিকদের এক সাক্ষাৎকারে জানান, তিনি এখনও কার্যক্রম নিষিদ্ধ অবস্থায় আছেন এবং ভারতের কলকাতায় অবস্থান করছেন। তিনি উল্লেখ করেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর তিন মাস বাসা বদল করে আত্মগোপনে ছিলেন, যা শেষ হয়ে দেশে থেকে বেরিয়ে আসার সিদ্ধান্ত নেন।
ওবায়দুল কাদের ২০১৬ সালের অক্টোবর থেকে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ২০১১ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৪ সালের আগস্ট পর্যন্ত তিনি সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন। নোয়াখালী-৫ আসন থেকে তিনি টানা চারবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। গণঅভ্যুত্থান এবং রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, যখন দেশে নিরাপদভাবে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালানোর পরিবেশ তৈরি হবে, তখন ক্ষমা চাওয়া বা ভুল স্বীকার করা নিয়ে আলোচনা হতে পারে।
তাঁর বর্তমান অবস্থার অবনতি এবং বাড়িতে ফেরার সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক এবং পারিবারিক দুই দিকেই গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে। চিকিৎসকরা সতর্ক করে বলেছেন যে বাড়িতে চিকিৎসা চলাকালীন সময়ে তার স্বাস্থ্যের প্রতি অতিরিক্ত নজর দেওয়া প্রয়োজন। এছাড়াও, পরিবারের কাছ থেকে জানা যায় যে বাড়িতে ভেন্টিলেশন ও লাইফ সাপোর্টের সঠিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, যাতে সংকটাপন্ন অবস্থায় তার যত্ন অব্যাহত রাখা যায়।

