স্টাফ রিপোর্টার: সংসদ নির্বাচন ও গণভোট একই দিনে অনুষ্ঠিত হওয়ায় এবার ভোট গণনায় কিছুটা সময় বেশি লাগতে পারে বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। বুধবার বিকেলে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা জানান।
সংবাদ সম্মেলনে প্রেস সচিব বলেন, একই দিনে সংসদ নির্বাচন ও গণভোট হওয়ায় ব্যালট ও ভোট গণনার প্রক্রিয়া তুলনামূলকভাবে জটিল হবে। ফলে ফলাফল ঘোষণায় স্বাভাবিকের চেয়ে কিছুটা দেরি হতে পারে। তবে এ দেরিকে স্বাভাবিক হিসেবে নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ভোটের স্বচ্ছতা ও সঠিকতা নিশ্চিত করাই সরকারের প্রধান লক্ষ্য।
নির্বাচনের সময় তথ্যের অবাধ প্রবাহ নিশ্চিত করতে সরকার বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে উল্লেখ করে শফিকুল আলম বলেন, উন্নত ও নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেট সেবা নিশ্চিত করতে চারটি মোবাইল ফোন অপারেটরকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে ভোটকেন্দ্র, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মধ্যে দ্রুত ও কার্যকর যোগাযোগ বজায় রাখা সম্ভব হবে।
নিরাপত্তা ব্যবস্থার বিষয়ে তিনি জানান, নির্বাচনের দিন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণের জন্য পুলিশের কাছে মোট ২৫ হাজার ৫০০টি বডি অন ক্যামেরা থাকবে। এসব ক্যামেরায় ধারণ করা ভিডিও ফুটেজ একটি সুরক্ষিত অ্যাপে যুক্ত হবে, যা তাৎক্ষণিকভাবে পর্যবেক্ষণ করে প্রয়োজন অনুযায়ী দ্রুত কুইক রেসপন্স টিম পাঠানো সম্ভব হবে। এর ফলে যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
প্রেস সচিব আরও বলেন, ভোটের দিন ও তার আগে-পরে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে প্রধান উপদেষ্টা সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে স্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছেন। একই সঙ্গে সাম্প্রতিক সময়ে লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে তৎপরতা বাড়ানোর নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
নির্বাচনের সার্বিক প্রস্তুতি ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যালোচনার জন্য প্রধান উপদেষ্টার নেতৃত্বে সরকারের উচ্চপর্যায়ের একটি জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে বলেও জানান শফিকুল আলম। ওই বৈঠকে ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, প্রযুক্তিগত সহায়তা এবং বিভিন্ন বাহিনীর সমন্বয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
তিনি বলেন, ভোটের সময় সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা রিটার্নিং কর্মকর্তার অধীনে থেকে অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে দায়িত্ব পালন করবেন। এ সময় মাঠে থাকবে প্রায় ১ লাখ সেনা সদস্য, নৌবাহিনীর ৫ হাজার সদস্য এবং বিমান বাহিনীর সাড়ে ৩ হাজার সদস্য। পাশাপাশি অন্যান্য বাহিনীর সঙ্গে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরাও দায়িত্ব পালন করবেন।সব মিলিয়ে সরকার একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন আয়োজনের লক্ষ্যে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে সংবাদ সম্মেলনে আশাবাদ ব্যক্ত করেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব।

