ভোরের খবর ডেস্ক: ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিফিকেশন রেজিস্টার (এনইআইআর) পদ্ধতি আগামী তিন মাসের জন্য স্থগিত থাকবে বলে জানিয়েছেন পুলিশের রমনা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মাসুদ আলম। রোববার (৪ জানুয়ারি) রাজধানীতে মোবাইল ফোন ব্যবসায়ীদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক বৈঠক শেষে তিনি এ তথ্য জানান।
ডিসি মাসুদ আলম বলেন, ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন উদ্বেগ ও বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে আপাতত এনইআইআর পদ্ধতির কার্যক্রম বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, আগামী তিন মাস পর এই পদ্ধতি পুনরায় কার্যকর করা হবে। একই সঙ্গে তিনি বলেন, বিষয়টি নিয়ে ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে এনইআইআর সংক্রান্ত মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া ১১ জনকে ছেড়ে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
তবে এনইআইআর পদ্ধতি সাময়িকভাবে স্থগিত রাখার পেছনের সুনির্দিষ্ট কারণ, কিংবা এই তিন মাসে কী ধরনের প্রস্তুতি বা নীতিগত পরিবর্তন আনা হবে—সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। ফলে এ সিদ্ধান্ত নিয়ে মোবাইল ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্ট মহলে নানা প্রশ্ন ও আলোচনা তৈরি হয়েছে।
উল্লেখ্য, এনইআইআর পদ্ধতির আওতায় দেশে ব্যবহৃত সব মোবাইল ফোনের আইএমইআই নম্বর নিবন্ধনের ব্যবস্থা রয়েছে। এই ব্যবস্থার মূল উদ্দেশ্য হলো অবৈধ, চোরাই বা নকল মোবাইল হ্যান্ডসেট শনাক্ত করা এবং সেগুলোর ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে আনা। তবে ব্যবসায়ীদের একটি অংশের অভিযোগ ছিল, পদ্ধতিটি বাস্তবায়নে নানা জটিলতা ও হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে।
আগামী তিন মাস এনইআইআর সেবা বন্ধ থাকায় মোবাইল ফোনের বাজারে এর প্রভাব কী হবে—তা নিয়ে ইতোমধ্যেই ব্যবসায়ী মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। কেউ কেউ মনে করছেন, এতে বাজারে সাময়িক স্বস্তি আসতে পারে, আবার কেউ আশঙ্কা করছেন, অবৈধ হ্যান্ডসেটের প্রবাহ বাড়ার ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে। সব মিলিয়ে এনইআইআর পদ্ধতির ভবিষ্যৎ কার্যক্রম নিয়ে সংশ্লিষ্টদের দৃষ্টি এখন সরকারের পরবর্তী সিদ্ধান্তের দিকে।

