শহীদুল ইসলাম শহীদ (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি: গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার ধোপাডাঙ্গা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ৪ তলা নতুন একাডেমিক ভবনের নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছিল ২০১৯ সালে। ২ কোটি ৩৮ লক্ষ টাকা ব্যয়ে। এই ভবনের কাজ মাত্র ১৮ মাসের মধ্যে শেষ করার কথা থাকলেও কিন্তু দুঃখজনকভাবে, প্রায় ৬ বছর পেরিয়ে গেলেও সেই কাজ আজও শেষ করতে পারেনি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান।
এর মূল কারণ হিসেবে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আঙুল তুলেছে জেলা শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের অবহেলা এবং নির্মাণ কাজের নিম্নমান নিয়ে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানটি সেই সময় ক্ষমতাসীন দল আওয়ামীলীগের নেতা হওয়ায় বারবার নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী দিয়ে কাজ করার চেষ্টা করেন।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শিরীন আক্তার শিল্পী এই অনিয়ম নিয়ে সরব হন। তিনি কয়েকবার জেলা প্রশাসকের নিকট লিখিত অভিযোগও দায়ের করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে জেলা প্রশাসক তদন্ত করেন এবং অনিয়মের সত্যতা মিলে। যদিও তদন্তের পর ত্রুটিপূর্ণ কাজ পুনরায় করার নির্দেশ দেওয়া হয়, তবে ঠিকাদারের গাফিলতি ও কর্তৃপক্ষের নজরদারির অভাবে আজও সেই কাজ সম্পূর্ণ হয়নি। নির্ধারিত সময়ের ৬ বছর পরও অসম্পূর্ণ এই স্কুল ভবন। এর মাঝে দেয়ালে ফাটল দেখা দিয়েছে। এর ফলে একদিকে যেমন নির্মাণ কাজের মান নিয়ে বড় প্রশ্ন উঠেছে, অন্যদিকে তেমনি চরম অনিশ্চয়তায় ও ঝুঁকিতে দিন কাটাচ্ছে শত শত শিক্ষার্থী। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কবে নাগাদ এই গুরুত্বপূর্ণ কাজটি শেষ করে শিক্ষার্থীদের জন্য ভবনটি উন্মুক্ত করবে, সেদিকেই এখন তাকিয়ে আছে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।
স্থানীয় শহিদুল ইসলাম বলেন, শিক্ষা অবকাঠামো উন্নয়নে সরকারের উদ্যোগ থাকলেও, ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের গাফিলতিতে কীভাবে একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা ভোগান্তির শিকার হচ্ছে। বার বার শুধু এই বিদ্যালয়ের নির্মাণ কাজের অনিয়মের অভিযোগ ওঠে।
এবিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোছাঃ শিরিন আক্তার শিল্পী জানান, বিদ্যালয়ের ভবনের কাজে রুটি পেলে টিকাদার কে ত্রুটি সংশোধনের কথা বললে ঠিকাদার ভবনের কাজ বন্ধ করে রেখে সময় বিলম্ব করে আসতেছে। বিলম্বের বিষয়ে বিভিন্ন সময় নির্বাহী প্রকৌশলী শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর গাইবান্ধা জেলায় পরিদর্শনের জন্য অভিযোগ করেছিলাম। অভিযোগ পেয়ে সহকারি প্রকৌশলী ও উপসহকারি প্রকৌশলী ভবনটি পরিদর্শন করেন এবং ত্রুটি সমূহ সংশোধনের জন্য নির্দেশ দেন। কিছুদিন কাজ করে আরাও বন্ধ করে রাখেন। এভাবে ভরনটির ৯৫ শতাংশ কাজ সম্পুন্য করেন তবে এখনো কাজ সমাপ্তি হয়নি।
শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর গাইবান্ধা জেলার উপ সহকারী প্রকৌশলী (সিভিল) শাহজাহান সরকার বলেন, বিদ্যালয়ের ৪ তলা ভবনটির কাজে কিছু ত্রুটির কারনে সময় বিলম্ব হয়েছে। তবে আর অল্প কিছু কাজ অবশিষ্ট রয়েছে তা এই মাসেই সম্পূন্ন করা হবে।

