বগুড়া জেলা প্রতিনিধি: বগুড়ার সোনাতলা উপজেলার সদর ইউনিয়নের সুজিতপুর গ্রামে ৯ মাসের গর্ভবতী এক গৃহবধূকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে, একই গ্রামের আলোচিত মাদক ব্যবসায়ী ল্যাংড়া মতির বিরুদ্ধে। গত শুক্রবার (৭ নভেম্বর) জুম্মার নামাজের আগে অভিযুক্ত মতির দোকানের পেছনের ঘরে এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ রয়েছে। ঘটনার পর থেকেই ল্যাংড়া মতি পলাতক।ভুক্তভোগী গৃহবধূ জানান, ‘দুপুরে ভাত খাওয়ার পর তিনি মতির দোকানে পান নিতে যান। মতির দোকানে পান চাইলে সে বলে পিছনের ঘর থেকে সুপারি নিয়ে আসতে হবে। ঘরে ঢোকার সাথে সাথেই সে আমাকে পেছন থেকে চেপে ধরে বিছানায় ফেলে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। আমি ৯ মাসের গর্ভবতী, প্রতিরোধ করতে পারিনি। আমার ছোট মেয়ে ঘরের ভাঙা অংশ দিয়ে ঘটনাটি দেখে ফেলে।
তিনি আরও বলেন, ধর্ষণের পরে আমাকে ৫০ টাকা দিয়ে হুমকি দেয়—ঘটনা কাউকে না বলতে এবং অন্য কোথাও চলে যেতে।ভয়ে তিনি প্রথমে নিজের বাড়িতে না গিয়ে খালার বাড়িতে আশ্রয় নেন। পরে স্বামী ও শ্বাশুড়ি ঘটনাটি বুঝতে পারলে তাকে থানায় অভিযোগ দিতে উৎসাহিত করেন। ঘটনাটি ঘটার পর পরই তিনি সোনাতলা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।ভুক্তভোগী গৃহবধূ অভিযোগ করে বলেন, আমরা গরিব মানুষ। অভিযোগ করার তিন দিন পরও পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়নি। আমরা ন্যায়বিচার চাই, কিন্তু বিচার পাই না।
এলাকাবাসীর একাধিক সূত্র জানায়, ল্যাংড়া মতি দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসায় জড়িত এবং তার বিরুদ্ধে পূর্বেও একাধিক অভিযোগ রয়েছে। তবে এলাকায় তার প্রভাব ও উশৃঙ্খল আচরণের কারণে অনেকে ভয়ে মুখ খুলতে সাহস পান না।অভিযুক্ত ‘ল্যাংড়া’ মতি পলাতক থাকায় তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে মতির স্ত্রী বলেন, এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি। ওই মেয়েটি পান খেতে এসেছিল, ৩ মিনিট দেরি হয়েছে, তারপর কি হয়েছে জানি না। পরে শুনি ধর্ষণের কথা বলছে। ঘটনাটি নিয়ে সোনাতলা থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাব ইন্সপেক্টর শাহ আলম বলেন, ‘ঘটনাটি ওরকম না। মেয়ের স্বামী আছে, মতির স্ত্রী আছে। তাছাড়া মেয়েটি ৯ মাসের গর্ভবতী।
আপনি এখন পর্যন্ত ঘটনাস্থলে যান নাই এমন অভিযোগ তাদের। এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমি ঘটনাস্থলে গিয়েছিলাম অভিযুক্ত মতি পলাতক রয়েছেন, এরপরেও ভিকটিমক যদি মামলা দেয় আমরা আইনিভাবে সহযোগিতা করবো।এ ব্যাপারে গৃহবধূর স্বামী জানান, আমি গরিব মানুষ অটোরিকশা চালাই। বাড়িতে এসে শুনতে পাই এমন ঘটনা ঘটেছে। আমরা থানায় অভিযোগ করেছি এখন পর্যন্ত কোন পুলিশ এখানে আসেনি।এ বিষয়ে সোনাতলা থানার ওসি বলেন, অনেক অভিযোগ তো আছে সব মনে রাখা যায়না । আমি জেনে আপনাকে জানাচ্ছি। আমি ছুটিতে আছি’।

